somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

দিলখুশার নবাব প্রাসাদঃ যার অর্থ ‘প্রফুল্ল মন’

২৪ শে জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৫:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঊনিশ শতকের ষাট-সত্তর দশকে ঢাকার নবাব পরিবার বর্তমান ‘দিলখুশা’ এলাকায় তৈরি করেছিলেন বেশ কয়েকটি অট্টালিকা ও একটি সুদৃশ্য বাগানবাড়ি। এটা ছিল তখন পুরানা পল্টনের অংশ আর পূর্বদিকে ছিল পল্লী জনপদ। পুরানা পল্টন এলাকাজুড়ে এক সময় গড়ে ওঠেছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনানিবাস। পাশেই ছিল জলাভূমি। বালু নদী থেকে ওঠে একটি খাল তখন কমলাপুরের মধ্যদিয়ে মতিঝিল হয়ে সেগুনবাগিচা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। নবাবেরা এ খালটির একটি অংশকে ঝিল-এ পরিণত করে নামকরণ করেছিলেন ‘মতিঝিল’। অন্যদিকে বাগানের অংশকে নাম দিয়েছিলেন ‘দিলখুশা’, যার অর্থ ‘প্রফুল্ল মন’।


ইতিহাস থেকে জানা যায়, এখানে এক সময় ছিল মীর জুমলার নৌ-বহরের দারোগা মীর মুকিমের বাসভবন। পরে এটি পরিণত হয়েছিল মির্জা মুহম্মদের রং-মহলে। পরবর্তীতে কোন এক সময় চলে যায় ইংরেজদের হাতে। ১৮৮৬ সালে ই. এফ. স্মীথ নামক একজন ইউরোপিয়ানের কাছ থেকে নবাব আহসান উল্লাহ কিনে নেন বাগানবাড়ির একটি অংশ। এ সময় সরকারের কাছ থেকে আরো প্রায় ৮০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বাগানবাড়িটি সম্প্রসারণ করা হয়। তখন ঢাকার লোকেরা এটিকে জানতো ‘কোম্পানির বাগান’ নামে। এ বাগানের একপাশে তৈরি হয়েছিল দ্বিতল একটি সুরম্য অট্টালিকা। ইউরোপীয় স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত এ ভবনটি ছিল খুবই দৃষ্টিনন্দন। ঢাকার সমসাময়িক পত্রিকাতেও উদ্যান তৈরির ব্যাপারে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ‘ঢাকা প্রকাশ’ ১৮৭৩ সালের ২৩ মার্চ তারিখে ‘দেলখোস’ শিরোনামে লিখে যে, ‘পুরানা পল্টন নামক স্থানে আমাদের শ্রীযুক্ত খাজা আহসান উল্লাহ সাহেব মহোদয় সুরম্য “দেলখোস” উদ্যান প্রস্তুত করিয়া তন্মধ্যে একটি জলাশয় খনন করিতেছেন। উক্ত গ্রামবাসী লোকদিগের করুণ প্রার্থনায় দয়াদ্রচিত্ত হইয়া উক্ত খোদিত জলাশয়ের মৃত্তিকা দ্বারা ব্রাহ্মণ ঘাটের চতুর্দিগ্বর্তী নিম্নভূমি ভরিয়া দিতে তিনি স্বীকার করিয়াছেন।’


দিলখুশার বাগান সংলগ্ন প্রাসাদে নবাব আহসান উল্লাহ তার জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন। পরে দান করে দেন মেয়ে মেহেরবানুকে। জামাতা খাজা মুহম্মদ আজম ও মেহেরবানু এ বাড়িতেই থাকতেন। ১৯০৫ সালে ঢাকায় পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হলে সরকার দিলখুশা বাগানের দক্ষিণ অংশে সরকারি অফিস নির্মাণের জন্য নবাবদের কাছ থেকে লিজ নেয়। সেখানেই গড়ে ওঠেছিল এখনকার ‘বঙ্গভবন’।


বাগানবাড়ি সংলগ্ন ‘দিলখুশা প্রাসাদ’-এর অনেকগুলো চিত্র ১৯০৪ সালে ধারণ করেছিলেন কলকাতার কমার্শিয়াল ফটোগ্রাফার ফ্রিচকাপ। তিনি নবাব আহসান উল্লাহর আহবানে ঢাকায় আসেন এবং নবাব পরিবারের অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার নিযুক্ত হয়েছিলেন। ১৯০৪ সালের ১৮-১৯ নভেম্বর ঢাকা সফরকালে লর্ড কার্জন নবাব পরিবারের আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন। লর্ড কার্জনের ঢাকা সফরকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ফ্রিচকাপের তোলা ৩০টি ছবি নিয়ে একটি এ্যালবাম তৈরি করা হয়। এ এ্যালবামটি উপহার দেয়া হয়েছিল লর্ড কার্জনকে। এ ছবিগুলো এখন ‘কার্জন কালেকশন’ নামে পরিচিত। প্রাসাদের বর্তমান ছবিটি আরও আগে তোলা।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৫:০৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁশি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৪



হিম শীতল মাঘ মাসের রাত। ঘন কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত সামনেও কিছু দেখা যায় না আর খালপাড়ের বাঁশঝাড়টা তো অনেক দূরে, বাতাস নেই তারপরও বিচিত্র কারণে বাঁশপাতার শব্দ শোনা যাচ্ছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের এই দিনে ১৯৭৫-এর শোকাবহ আগস্ট/ রক্তাক্ত দিবস॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১১



“আজ থেকে অনেকদিন পরে হয়ত কোন পিতা তার শিশুপুত্রকে বলবেন, জানো খোকা! আমাদের দেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিল যাঁর দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল আর ছিল অসংখ্য দুর্বলতা। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি : ভারসাম্যের লক্ষ্যে বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানি কৌশল

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:০২


ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও নিকটতম বাণিজ্য অংশীদার। ভৌগোলিক নৈকট্য, দীর্ঘ সীমান্ত, পরিবহন সুবিধা এবং পরস্পর-নির্ভরশীল উৎপাদনব্যবস্থার কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কারা মিষ্টি বিতরণ করেছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৬


যদি কোনোদিন টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার হয়, পঁচাত্তরের ঘটনা নিজের চোখে দেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় কিছু মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে শোনা যায় । আমি তাদের কাছ থেকে মিষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×