somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

চন্ডালিনী নারী, প্রেয়সী না হোক মাতৃরূপে আবির্ভূত হওঃ শান্তিময় হোক দাম্পত্য জীবন, শীতল করো ধরা

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৪:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নজরুলের ভাষায় বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

এর বিপরীতে মনিষিরা বলেন পৃথিবীর যত যুদ্ধ বিগ্রহ তার অধিকাংশের মূলে নারী। হেলেন যেমন ট্রয় নগরী ধ্বংশের মূল কারণ তেমনি অনেক রাজা বাদশা তাদের রাজত্ব ছেড়েছেন নারীর কারণে। দেবতারা স্বর্গ ছেড়েছেন নারীর কারণে। নারীর কারণে ঋষি মুনিরা বিসর্জন দিয়েছেন তাদের সারা জীবনের তপস্যা। তেমনি আবার শিরি ফরহাদ, লাইলী মজনু চন্ডিদাশ রজকিনীর প্রেম গাথা নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জাগায়। সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তমা স্ত্রীর জন্য তাজ মহল নির্মাণ করে প্রেমিক পুরুষ রূপে নিজের স্থান করে নিয়েছেন সকল নারীর হৃদয়ে। নারীর কারণে যুগে যুগে যেমন অসান্ত হয়েছে দাম্পত্য জীবন তেমনি নারীর কুটিলতার কারণে ধ্বংশ হয়েছে অনেক রজত্ব। ঘসেটি বেগমের কুটজালে পড়ে সিংহাসন ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বাংলার নবাব। প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর প্রিয় দৌহিত্র মায়মুনার গরল পানে জীবনের অবসান ঘটান। নারীর কারণে অনেকেই জীবনে যেমন পেয়েছেন প্রতিষ্ঠা ও ভালোবাসার স্বগীয় স্বাদ তেমনি নারীর ছলনায় ভুলে অনেক পুরুষ বরণ করেছেন করুন পরিনতি। সত্যি নারীর একই অঙ্গে অনেক রূপ। নারী কখনো স্নেহময়ী মাতা, কখনো ভগ্নি, কখনো প্রেয়সী, কখনো কণ্যারূপে আমাদের সামনে হাজির হয়। নারী পুরুষের হৃদয়ে প্রশান্তি লাভের নির্ভরযোগ্য একটি আশ্রয়স্থল দাম্পত্য জীবন। কোন পুরুষ কেবলমাত্র বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমেই সেই আশ্রয় স্থলে প্রবেশ করতে পারেন। তাই বিবাহকে বলা হয় শান্তির প্রতিক। নারীদের প্রতিটি রূপ ইতিবাচক হলেও কেবলমাত্র তাদের লোভ লালসা তাদেরকে করে তোলে চন্ডালীনি রূপে। একটি নারী যেমন পারে একটি সংসারকে সুখের স্বর্গ বানাতে তেমনি এই সুখের সংসারটিকে নরক বানাতে একজন নারীর ভুমিকাই যথেষ্ট। পরকীয়া, সংসারের প্রতি অবহেলা, উচ্চাভিলাশ নারীকে তার অবস্থান থেকে টেনে নিয়ে যায় নোংরা পুতিগন্ধময় আবর্জনায়। সে জীবনে বাহ্যিক চাকচিক্য থাকলেও অন্তরে থাকে বিষের অনল। আর সেই অনলে পুড়ে মরে অসহায় পুরুষ, পরিবার, সমাজ সংসার।
ইদানিং পত্রিকার পাতা খুললেই প্রথম পাতায় লাল কালিতে ৩/৪ কলামে নারী নির্যাতিত হবার বড় খবর পাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, নারীদের দ্বারা যে পুরুষ নির্যাতিত হন তা কিন্তু পত্রিকার প্রথম পাতায় আসেনা। ভিতরের পাতায় তা লিপিবদ্ধ থাকলেও থাকতে পারে। আর সব খবর পত্রিকায় আসে বলে মনে হয় না। পুরুষরা নিরবেই সহ্য করে যায়। আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান এবং উভয়ের জন্য আছে সমান অধিকার। তাই শুধু নারী নির্যাতন আইন পুরুষের বেলায় হলেই চলবেনা। সেই আইন পুরুষ নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধেও হতে হবে। দেশে যদি নারী-পুরুষের জন্য সমান আইন তৈরী হয়, তা হলেই শান্তি আসবে। একটি উদাহরণ টানা যায়, একটা পুরুষের সাজানো সংসারে ছেলেমেয়ে রেখে যখন একজন নারী পরাকীয়ায় পরে অন্য কোন বিত্তবান পুরুষের সাথে ঘর বাঁধে ও বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে চলে যায়, তখন তার বিরুদ্ধে কিছুই করার থাকেনা। কিন্তু যখন একজন পুরুষ তার স্ত্রীর অসামাজিক কর্মকান্ড দেখে তাকে ছাড়তে যায় তখন দিতে হয় মোটা অংকের টাকা এবং বিভিন্ন আইনের বেড়াজালে পড়তে হয় তাকে।একমাত্র ভূক্তভোগীরাই জানেন কি ভাবে মানসিক ও আর্থিক সমস্যায় পড়তে হয়। সবার জন্য যদি সমান আইন হয় তা হলে পুরুষ নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন হওয়া প্রয়োজন। তা হলে কারো ইনবক্সে আড়ি পাততে হবেনা। স্বামী-স্ত্রী একের প্রতি অন্যজনে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানালে উভয়েই সহনশীল হবে, শীতল হবে ধরা।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৪:২৯
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×