
নজরুলের ভাষায় বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
এর বিপরীতে মনিষিরা বলেন পৃথিবীর যত যুদ্ধ বিগ্রহ তার অধিকাংশের মূলে নারী। হেলেন যেমন ট্রয় নগরী ধ্বংশের মূল কারণ তেমনি অনেক রাজা বাদশা তাদের রাজত্ব ছেড়েছেন নারীর কারণে। দেবতারা স্বর্গ ছেড়েছেন নারীর কারণে। নারীর কারণে ঋষি মুনিরা বিসর্জন দিয়েছেন তাদের সারা জীবনের তপস্যা। তেমনি আবার শিরি ফরহাদ, লাইলী মজনু চন্ডিদাশ রজকিনীর প্রেম গাথা নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জাগায়। সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তমা স্ত্রীর জন্য তাজ মহল নির্মাণ করে প্রেমিক পুরুষ রূপে নিজের স্থান করে নিয়েছেন সকল নারীর হৃদয়ে। নারীর কারণে যুগে যুগে যেমন অসান্ত হয়েছে দাম্পত্য জীবন তেমনি নারীর কুটিলতার কারণে ধ্বংশ হয়েছে অনেক রজত্ব। ঘসেটি বেগমের কুটজালে পড়ে সিংহাসন ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বাংলার নবাব। প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর প্রিয় দৌহিত্র মায়মুনার গরল পানে জীবনের অবসান ঘটান। নারীর কারণে অনেকেই জীবনে যেমন পেয়েছেন প্রতিষ্ঠা ও ভালোবাসার স্বগীয় স্বাদ তেমনি নারীর ছলনায় ভুলে অনেক পুরুষ বরণ করেছেন করুন পরিনতি। সত্যি নারীর একই অঙ্গে অনেক রূপ। নারী কখনো স্নেহময়ী মাতা, কখনো ভগ্নি, কখনো প্রেয়সী, কখনো কণ্যারূপে আমাদের সামনে হাজির হয়। নারী পুরুষের হৃদয়ে প্রশান্তি লাভের নির্ভরযোগ্য একটি আশ্রয়স্থল দাম্পত্য জীবন। কোন পুরুষ কেবলমাত্র বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমেই সেই আশ্রয় স্থলে প্রবেশ করতে পারেন। তাই বিবাহকে বলা হয় শান্তির প্রতিক। নারীদের প্রতিটি রূপ ইতিবাচক হলেও কেবলমাত্র তাদের লোভ লালসা তাদেরকে করে তোলে চন্ডালীনি রূপে। একটি নারী যেমন পারে একটি সংসারকে সুখের স্বর্গ বানাতে তেমনি এই সুখের সংসারটিকে নরক বানাতে একজন নারীর ভুমিকাই যথেষ্ট। পরকীয়া, সংসারের প্রতি অবহেলা, উচ্চাভিলাশ নারীকে তার অবস্থান থেকে টেনে নিয়ে যায় নোংরা পুতিগন্ধময় আবর্জনায়। সে জীবনে বাহ্যিক চাকচিক্য থাকলেও অন্তরে থাকে বিষের অনল। আর সেই অনলে পুড়ে মরে অসহায় পুরুষ, পরিবার, সমাজ সংসার।
ইদানিং পত্রিকার পাতা খুললেই প্রথম পাতায় লাল কালিতে ৩/৪ কলামে নারী নির্যাতিত হবার বড় খবর পাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, নারীদের দ্বারা যে পুরুষ নির্যাতিত হন তা কিন্তু পত্রিকার প্রথম পাতায় আসেনা। ভিতরের পাতায় তা লিপিবদ্ধ থাকলেও থাকতে পারে। আর সব খবর পত্রিকায় আসে বলে মনে হয় না। পুরুষরা নিরবেই সহ্য করে যায়। আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান এবং উভয়ের জন্য আছে সমান অধিকার। তাই শুধু নারী নির্যাতন আইন পুরুষের বেলায় হলেই চলবেনা। সেই আইন পুরুষ নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধেও হতে হবে। দেশে যদি নারী-পুরুষের জন্য সমান আইন তৈরী হয়, তা হলেই শান্তি আসবে। একটি উদাহরণ টানা যায়, একটা পুরুষের সাজানো সংসারে ছেলেমেয়ে রেখে যখন একজন নারী পরাকীয়ায় পরে অন্য কোন বিত্তবান পুরুষের সাথে ঘর বাঁধে ও বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে চলে যায়, তখন তার বিরুদ্ধে কিছুই করার থাকেনা। কিন্তু যখন একজন পুরুষ তার স্ত্রীর অসামাজিক কর্মকান্ড দেখে তাকে ছাড়তে যায় তখন দিতে হয় মোটা অংকের টাকা এবং বিভিন্ন আইনের বেড়াজালে পড়তে হয় তাকে।একমাত্র ভূক্তভোগীরাই জানেন কি ভাবে মানসিক ও আর্থিক সমস্যায় পড়তে হয়। সবার জন্য যদি সমান আইন হয় তা হলে পুরুষ নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন হওয়া প্রয়োজন। তা হলে কারো ইনবক্সে আড়ি পাততে হবেনা। স্বামী-স্ত্রী একের প্রতি অন্যজনে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানালে উভয়েই সহনশীল হবে, শীতল হবে ধরা।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৪:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





