somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রখ্যাত ফরাসি সাহিত্যিক সুলি প্রুদোমের ১১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রখ্যাত ফরাসি সাহিত্যিক সুলি প্রুদোম। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম ব্যক্তিসুলি প্রুদোম। ফরাসি এই সাহিত্যিক ১৯০১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। উল্লেখ্য ১৯০১ সাল থেকেই নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। ১৮৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি কেবলমাত্র কবিতাই লিখেছেন। পরবর্তীকালে তিনি দার্শনিক প্রবন্ধও রচনা করতে শুরু করেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে তাঁর ‘স্ট্রাঁসেস প্যোমেস’ নামে কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয়। ১৮৮৮ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘লা বলিউর’ কবিতাটি খুব জনপ্রিয়তা লাভ করে। কবিতাটির মাধ্যমে তিনি পাঠকের মনে সুখ, আনন্দ ও আত্মত্যাগেরও ভাব উদ্রেক করতে সমর্থ হন। আজ এই মহান সাহিত্যিকের ১১১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯০৭ সালের আজকের দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুবার্ষিকীতে সাম হোয়্যার ইন ব্লগের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ।


সুলি প্রুদোম ১৮৩৯ সালের ১৬ই মার্চ ফ্রান্সের প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম (René Armand François Sully Prudhomme) রনে আরমঁ ফ্রাঁসোয়া (সুলি) প্রুদোম। দু’বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান। তার শৈশব কাটে মা আর বড় বোনের সান্নিধ্যে। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন প্রুদোম। স্কুলের পাঠ শেষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন উচ্চতর গণিতে। এরপর ভর্তি হন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু অপথ্যালমিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তার পড়াশোনা ব্যাহত হয়। ফলে শিক্ষাজীবনের ইতি টেনে তিনি প্যারিসে এক নোটারি অফিসে চাকরি নেন। সারাদিন অফিসের কাজ শেষে রাতে কবিতা লিখতেন। একই সঙ্গে ধর্মতত্ত্ব নিয়েও উত্সাহিত হয়ে পড়েন। তবে ঈশ্বর সম্পর্কে কোনো ধর্মের ব্যাখ্যাই তার মনঃপূত হয়নি। সুন্দরী খালাতো বোনের সঙ্গে তার শৈশব কাটে। খালাতো বোনের অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেলে প্রুদোম একেবারে ভেঙে পড়েন। সিদ্ধান্ত নেন জীবনে কখনও বিয়ে করবেন না।


১৮৬৯ সালে সুলি প্রুদোম লুক্রাতিউসের ‘লে সলিটুডে’র ফরাসী অনুবাদ করেন। ১৮৭০ সাল ছিল তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের বছর। এ বছর তার মা, বড় বোন এবং যে চাচার কাছে তিনি থাকতেন তারা সবাই একে একে মৃত্যুবরণ করেন। প্রুদোম হয়ে পড়েন সম্পূর্ণ স্নেহহীন। এ বছরই তিনি ফ্রাঙ্কো-প্রুশিয়ান যুদ্ধে যোগ দেন। এই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি "ইমপ্রেশন্‌স অফ ওয়ার" নামক কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছিলেন। ১৮৭০ সালেই মাত্র একত্রিশ বছর বয়সে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণে প্রুদোম চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে যান, যদিও তার লেখনী সচল থাকে। সুলি প্রুদোমের কবিতার বিষয়বস্তু বেশ জটিল। তার কবিতায় প্রেম ও ব্যর্থতা ঘুরেফিরে আসে। জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ব্যাখ্যা তার কবিতায় পরিস্ফুটিত ছিল। এতে বিশেষ স্থান ছিল অচেনা বাস্তব ও চেনা অভিজ্ঞতার। এর সাথে জীবন আর শূন্যতার জন্য তার হৃদয়ে যে দ্বন্দ্ব বিরাজ করতো তার প্রভাব সুস্পষ্ট ছিল তার কবিতাতে।১৮৮৮ সালে তার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হ্যাপিনেস প্রকাশিত হয়। এটি অমর মহাকাব্যের মর্যাদা পেয়েছে। ১৯০১ সালে তিনি সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ফরাসী কবি সুলি প্রুদোম। তার জীবনের শেষ রচনা ছিল "দ্য সাইকোলজি অফ ফ্রি উইল" যা ১৯০৬ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯০৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তারিখে প্যারিসের দক্ষিণে অবস্থিত নিজ বাসভবন "Chatenay Malabry"-তে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৮ বছর। মৃত্যুর পূর্বে তার নোবেল পুরস্কার থেকে প্রাপ্ত সব অর্থ দিয়ে একটি অনুদানমূলক পুরস্কারের ব্যবস্থা করে যান। এটি নবীন লেখকদের উৎসাহ দেয়ার জন্য প্রদান করা হয়। ফ্রান্সে এখনও এই পুরস্কারের রীতি চালু আছে।


সাহিত্যে প্রথম নোবেল বিজয়ী হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকা এই মহান সাহিত্যিকের আজ ১১১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭০ সালের ৬ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন সুলি প্রুদোম। মৃত্যুবার্ষিকীতে সাম হোয়্যার ইন ব্লগের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য আমাদের গভীর শ্রদ্ধা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×