somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

চলচ্চিত্ৰ-জগতে খ্যাতনামা গায়ক নায়ক অসিতবরণ মুখোপাধ্যায়ের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গায়ক-অভিনেতা শ্রী অসিতবরণ মুখোপাধ্যায়। টালীগঞ্জের নিউ থিয়েটার্স-এর সাথে যুক্ত ছিলেন এবং সেখান থেকেই সুনাম কুড়িয়েছিলেন। সুন্দর কন্ঠের জন্য মাঝে মাঝে জলসাতে গানের সুযোগ পেতেন, দেখতেও ছিলেন সুপুরুষ। শ্রী রামকৃষ্ণের মাহাত্ব প্রচারের জন্য"রঙ্গরস" নাম এক নাটক গোষ্ঠীর স্থাপনাও অসিত করেছিলেন, সমবেত কীর্তন গানের আসরও বসাতেন। এক জলসায় শ্রী পাহাড়ী সান্যাল অসিতের গান শুনে তাকে নিউ থিয়েটার্স-এ নিয়ে আসেন। বাংলা ছবি "প্রতিশ্রুতি" (১৯৪১) ও তার হিন্দী "সৌগন্ধ" ছবিতে সুযোগ পেয়ে গেলেন নায়কের চরিত্রে অভিনয় করার। অভিনয় বা গান, দুটোতেই প্রথম সারিতে ছিলেন অসিত। একক ছাড়াও দ্বৈত গেয়েছেন কানন দেবী, বেলা মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রানী রায়, শান্তি, ভারতী দেবী ও ইলা ঘোষের সাথে তেমনি আবার মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন তখনকার নাম করা নায়িকা শ্যামা ("সুহাগ সিন্দুর"), ভারতী দেবী ("মনজুর"), মীনা কুমারী ("পরিণীতা"), সুচিত্রা সেন ("স্মৃতিটুকু থাক") ইত্যাদির সাথে।


নিউ থিয়েটার্স ছেড়ে অসিত বম্বে যান ১৯৫২ তে, "সুহাগ সিন্দুর"-এ অভিনয় করার জন্য । কিন্তু গান গাওয়ায় অসুবিধার জন্য অসিতকে নেপথ্য গায়কের সাহায্য নিতে হয়। বিমল রায়ের "পরিণীতা"(১৯৫৩) ছবিতে যেমন সংবেদনশীল অভিনয় করেছিলেন, তেমনই গেয়েছিলেন গান। সেই ছিল অসিতের শেষ হিন্দী ছায়াছবি -- কেননা, ততদিনে নেপথ্য শিল্পীরা (রফী-মুকেশ-তালাত ইত্যাদি) আসরে নেমে পড়েছেন, গায়ক-অভিনেতাদের গানের জায়গা দখল করতে। পরের বছরগুলিতে ব্যস্ত ছিলেন বাংলা ছায়াছবির অভিনয়ে (শুরুতে নায়ক, পরে পার্শ অভিনেতা হিসেবে), সে তালিকাও সংক্ষিপ্ত না। "প্রত্যাবর্তন" (১৯৫১), “বন্ধু” (১৯৫৮), “নার্স সিসি” (১৯৪৭)”কার পাপে” (১৯৫২), "অর্ধাঙ্গিনী" (১৯৫৫), "তাপসী (১৯৫৭), "নতুন প্রভাত" (১৯৫৭), “স্মৃতিটুকু থাক” (১৯৫৯), "বধূ" (১৯৬২), “এন্টনি ফিরিঙ্গী” (১৯৬৭) , "ছিন্নপত্র" (১৯৭১), ” শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত” (১৯৮২) ইত্যাদি। "প্রতিশ্রুতি" (১৯৪১) ছায়াছবিতে যেমন অভিনেতা-গায়ক ছিলেন (রাইচাঁদ বড়াল সুরকার ছিলেন), তেমনি "নিষিদ্ধ ফল"(১৯৫৫) এবং "জয়দেব"(১৯৫৪) ছায়াছবিতে অভিনয় ও গান, দুটোই করেছিলেন (নচিকেতা ঘোষের সুরে) । আজ এই নায়ক, গায়কের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮৪ সালের আজকের দিনে তিনি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। চলচ্চিত্ৰ-জগতে খ্যাতনামা গায়ক নায়ক অসিতবরণ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।


শ্রী অসিতবরণ ১৯১৩ সালের ১৯ নভেম্বর ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিম বাংলার কলকাতার এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ফিল্ম জগতে তার ডাকনাম ছিল ‘কালোদা’। একসময় তবলাবাদক হিসাবে কলিকাতা বেতারে এবং পরে গ্রামোফোন কোম্পানিতে চাকরি করেন। নিখিল ভারত সঙ্গীত সম্মেলনে তার তবলা-বাজনা শুনে পাহাড়ী সান্যাল তার সঙ্গে আলাপ করে তাকে নিউ থিয়েটার্সে নিয়ে আসেন অভিনয়ের জন্য। তার আগেই তবলা-বাজনা নিয়ে চিত্রজগতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল। প্রথম নায়ক হিসাবে অভিনয় করেন ‘কাশীনাথ’ ছবিতে। হিন্দী ‘পরিণীতা’ ছবি থেকে নায়ক হিসাবে তিনি সর্বভারতীয় স্বীকৃতি পান, আর সারা ভারতে তার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে ‘ওয়াপস’ ছবি থেকে। ওই ছবিতে তার গাওয়া ‘হাম কোচোয়ান, হাম কোচোয়ান’ গানটি তাকে রাতারাতি বিখ্যাত করে দেয়। প্ৰায় শাখানেক ছবিতে অভিনয় করেছেন। মঞ্চাভিনেতা হিসাবেও খ্যাতি ছিল। ‘রসরঙ্গ’ নামে একটি দল তৈরি করেছিলেন। এই দলের মাধ্যমে তিনি ঠাকুরের কথকতা পরিবেশন করতেন। মাত্র চার বছরের মধ্যে পর পর তিনটি সুপারহিট ছবিতে অসাধারণ গান গেয়ে শ্ৰোতা-দর্শকদের মুগ্ধ করার বিরল নজির তিনি স্থাপন করেছিলেন। আজ এই নায়ক, গায়কের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮৪ সালের ২৭ নভেম্বর তিনি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। চলচ্চিত্ৰ-জগতে খ্যাতনামা গায়ক নায়ক অসিতবরণ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×