somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন গৃহিণীর কাজের মূল্য কত?

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গৃহ ব্যবস্থাপনার সব দায়িত্ব পালন করেও পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি আর যুগ যুগ ধরে প্রচলিত সমাজব্যবস্থার কারণে আজও নারী ঘরের কাজের স্বীকৃতি পায়নি। আর এই স্বীকৃতি না থাকায় নারীরা অধিকার বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নির্যাতিত হচ্ছে। গৃহিণীরা সারাদিন কী করেন? প্রশ্ন উঠতেই পারে৷ উত্তরে যদি বলা হয়, তাঁরা কেবল টেলিভিশন সিরিয়াল দেখে সময় কাটান, তাহলে একে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ‘রটনা' ছাড়া আর কী বলা যায়? তবে‘মনে না নিলেও, মেনে নেয়া' – ঠিক কত ক্ষেত্রে যে নারীরা এভাবে ‘মেনে নেন' তা বলা সত্যি দুরূহ৷ ‘আজীবন হেঁসেল ঠেলেও কোনো মূল্য পাওয়া গেলো না' – এই ভাবনা প্রতিনিয়ত তাড়িত করে তাঁদের৷ কারণ অমূল্যায়িত সেবা খাতে পুরুষদের তুলনায় নারী অন্তত ৪০ভাগ সময় বেশি ব্যয় করেন৷ কিন্তু তাঁদের এই কাজের কোনো স্বীকৃতি নেই৷ সাধারণ যে কোনো কাজের একটা পারিশ্রমিক থাকে৷ কিন্তু গৃহের কাজের কোনো মূল্য নির্ধারণ করা নেই, তাই এটাকে মূল্যায়ন করা হয় না – বলা হয় এটা নিজের গৃহের কাজ, ফলে এটাকে মূল্য দেয়া হয় না৷বাংলাদেশে কোনো পুরুষকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় আপনার স্ত্রী কী করেন আর তাঁর জবাব যদি হয়, ‘কিছু করেন না'৷ তাহলে কী বুঝবেন? সাধারণত এর মানে, তিনি ঘর-গেরস্থালির কাজ করেন৷ কিন্তু এ দেশে ঘর-গেরস্থালির কাজকে কাজ বলে ধরা হয় না! বাসা-বাড়িতে কাজের সহযোগীতায় যে গৃহকর্মীরা থাকেন, তাঁরা কাজের জন্য নির্দিষ্ট অংকের মজুরি পান৷ কিন্তু একজন গৃহিণী কোনো মজুরি ছাড়াই সারাদিন কাজ করছেন এবং শুনছেন যে ‘তিনি কিছু করেন না'৷ গৃহিণীদের কাজের কোনো স্বীকৃতি নেই। তবে ধারণা পাল্টাচ্ছে তাই নারীর গৃহস্থালির কাজকে শ্রমের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ নারীই পারিবারিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে কিন্তু সেটিকে কাজ এর মর্যদা দেওয়া হচ্ছে না। চাকরিজীবী নারীরা সকালে অফিসের যাওয়ার আগে সংসারের কাজ করেন৷ তারপর অফিস করে বাসায় এসে আবারো নানা কাজ থাকে৷ গৃহিণী নারীর সংসারের কাজে সামান্য ভুল-ত্রুটিতেই শুনতে হয় ‘কী এমন করো'! এই যে রান্না-বান্না, সন্তান লালন-পালনসহ পরিবারের যত কাজ, এর সবই অবমূল্যায়িত খাত৷একাধক প্রতিষ্ঠানের গবেষণা বলছে, একজন নারী পুরুষের চেয়ে বেশি কাজ করে, অথচ তাঁদের স্বীকৃতি কম৷ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বলছে, একজন নারী প্রতিদিন গড়ে ১২ দশমিক ১টি কাজ করেন৷ পুরুষদের ক্ষেত্রে এ কাজের গড় সংখ্যা ২ দশমিক ৭৷ এক সপ্তাহে একজন চিকিৎসক ৫৬ ঘণ্টা কাজ করলে মাসে পান ১ লাখ ৫৩ হাজার মার্কিন ডলার৷ সেই অনুযায়ী গৃহিণীদের সপ্তাহে ৯৪ ঘণ্টা কাজের হিসেবে বছরে কত বেতন হওয়া উচিত? স্যালারি ডট কম বলছে, গৃহিণীরা ৯টা থেকে ৫টা কাজের বাইরে সপ্তাহে যে অতিরিক্ত ৫৮ ঘণ্টা খাটেন, সেটা হিসেব করলে তাদের বাড়তি বেতন হওয়া উচিত বছরে ৬৭,৪৩৬ মার্কিন ডলার৷জাতীয় আয়ে নারীর যে পরিমাণ কাজের স্বীকৃতি আছে, তার চেয়ে ২ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৯ গুণ কাজের স্বীকৃতি নেই৷বাংলাদেশের নারীদের বার্ষিক মজুরিবিহীন গৃহকাজের অর্থনৈতিক মূল্য এক লাখ ১১ হাজার ৫৯১ দশমিক ৪৮ কোটি টাকা৷ বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে৷


ঘরের কাজকে নারীর স্বাভাবিক দায়িত্ব এটিই আমাদের সমাজের সাধারণ ধারণা। তাই এ কাজে নারীর কোনো স্বীকৃতি যেমন নেই, তেমনই আর্থিক কোনো মূল্যায়নও নেই। তাই নারীরা অধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা তাদের কাজের সম্মানও পাচ্ছেন না। নারী শুধু গৃহে কাজ করেন না, অনেক উৎপাদনশীল কাজও তাঁরা করেন৷ কিন্তু সবগুলো কাজকেই ধরা হয় সংসারের কাজ৷ সমাজও ঠিক সেইভাবেই দেখে৷ সমাজ মনে করে, নারী সংসার দেখেন, সন্তান সামলান – এটাই তাঁর কাজ৷ এর বাইরেও গ্রামের নারীরা কিন্তু গবাদি পশু দেখেন, বীজ সংরক্ষণ করেন – এমন হাজারো কাজ করেন তাঁরা৷ যেহেতু এ সব কাজেরও মূল্য নির্ধারণ করা নেই, তাই সমাজও মনে করে যে, এগুলো মূল্যহীন কাজ৷ এ সবের ফলে সমাজ তাঁদের কাজকে মর্যাদার চোখে দেখে না৷‘পরিবার থেকে যদি বুঝতো নারীর মূল্য কত, তাহলে তারা সম্মান দেখাতো’ বাংলাদেশে নারীরা বাইরে কাজ করে যে মূল্য পান আর গৃহে কাজ করে যে নারীরা মূল্য পান না তা তুলনা করে ঘরের কাজের জন্য বাইরের কাজের সম পরিমাণ মূল্য দেয়া হলে তিনগুণ মূল্য পেতেন নারীরা। মনে রাখতে হবে ‘যারা গৃহের রানি, তারাই হচ্ছে গৃহিণী'। ‘‘এটাই চিরকালের সত্য৷ মা, বোন, স্ত্রী ও কন্যা ছাড়া দুনিয়া তাই অচল৷'' নারীর কাজের যথাযথ মূল্যায়ন হলে, স্বীকৃতি দিলে নির্যাতন কমবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন অনেক পরিবারেই বিশেষ করে যেখানে নারীরা বাইরে কর্মরত, সেখানে অনেক পুরুষ ঘরের কাজে অংশগ্রহণ করেন। যদিও গৃহিণীকে তার প্রাপ্য মূল্য দেওয়া কখনই সম্ভব নয়৷ তবে তাঁকে যা দেয়া যায় তা হচ্ছে সম্মান, শুধুই ‘সম্মান'৷সুতরাং তাদের কাজের মুল্যায়ন করতে হবে। ভুলে গেলে চলবেনা যে, ‘‘সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে৷''

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:১৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধু মাসে বিয়া

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮


সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ অথচ রাতের বেলা দেখেছিলাম অনেক তারার মেলা আকাশে। একটুখানি অরোরার আলো ও ঝিলিক দিয়েছিল। রাত ভোরের দিকে অনেকটা সময় আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম। জরুরী কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×