somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খ্যাতিমান বাংলাদেশী গীতিকার সংগীতস্বাতী মাসুদ করিমের ৮৪তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভে্চ্ছা

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলা গানের অমর গীতিকবি এবং সংগীতস্বাতী মাসুদ করিম। যার নামকে ছাপিয়ে কর্ম পৌঁছে যায় মানুষের কাছে। তেমনই একজন মানুষ মাসুদ করিম। সজনী গো ভালোবেসে এতো জ্বালা, চলে যায় যদি কেউ বাঁধন ছিঁড়ে, আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো, চলে যায় যদি কেউ বাঁধন ছিঁড়ে, তোমরা যারা আজ আমাদের ভাবছো মানুষ কিনা, যখন থামবে কোলাহল, শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’র মতো কালজয়ী গানগুলো এখনো লেগে আছে মানুষের মুখে মুখে। সহস্রাধিক গান লিখেছেন মাসুদ করিম। এগুলোর মধ্যে চলচ্চিত্রের গানই সর্বাধিক। কোনো কোনো চলচ্চিত্র তাঁর গানের জন্যই খ্যাতি পেয়েছে। শাহনাজ রহমতউল্লাহ, রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, বশির আহমেদ, সৈয়দ আবদুল হাদী, মাহমুদুন্নবী, মোহাম্মদ খুরশীদ আলমসহ অনেক বড় বড় শিল্পী মাসুদ করিমের লেখা গান গেয়ে সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা গানের জগত। শুধু বাংলাদেশের শিল্পীরাই নয়, ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী শ্যামল মিত্র, ভূপেন হাজারিকা, উদিত নারায়ণ, কুমার শানুর মতো শিল্পীরাও মাসুদ করিমের লেখা গান গেয়েছেন। খুব অল্প সময়েই যিনি বেতার ও টেলিভিশনের গীতিকার রূপে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যান। তাঁর গান এই সব প্রচার মাধ্যমে প্রতিদিন বাজতে থাকে। চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য দু’বার শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের গানের প্রখ্যাত গীতিকার মাসুদ করিম। গুণী এই গীতিকারের আজ ৮৪তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের আজকের দিনে তিনি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা গানের অমর গীতিকবি এবং সংগীতস্বাতী মাসুদ করিমের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভে্চ্ছা।


মাসুদ করিম ১৯৩৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার দুর্গাপুর কাজীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা রেজাউল করিম একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা নাহার ছিলেন গৃহিনী। ছোটবেলা থেকে মাসুদ করিম ঢাকাতেই বড় হন এবং কবি ও গীতিকার রূপে প্রতিষ্ঠিত হন। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পরে তিনি বেতারে প্রযোজক হিসেবে জীবনের কর্মক্ষেত্র শুরু করেন। ষাটের দশক থেকে ঢাকা শহরে যে সংগীতের জগৎ তৈরি হয়েছিল মাসুদ করিম তার একজন উল্লেখযোগ্য সদস্য। ব্যক্তিগত জীবনে মাসুদ করিম চট্টগ্রাম বেতারে কাজ করার সময়ে সুপরিচিত গায়িকা দিলারা আলোকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির এক পুত্র ও তিন কন্যা। মাসুদ করিম দম্পতি ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকায় চলে আসেন। ষাটের দশকের শেষ দিকে তিনি কিছুদিন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সেক্রেটারির কাজ করেছিলেন। পরে ঢাকায় স্থায়ীভাবে এসে গান লেখার কাজে সার্বক্ষণিক হয়ে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের জন্য গীত রচনা শুরু করেন। তবে ষাট, সত্তর ও আশির দশকে চলচ্চিত্রের গান রচনা করে তিনি খ্যাতি লাভ করেন। তিনি রচনা করেছেন অনেক গীতি নকশা, যার মধ্যে অন্যতম স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে গানের অনুষ্ঠান, ঈদের অনুষ্ঠান ইত্যাদি। ১৯৮২ সালে ‘রজনীগন্ধা’ এবং ১৯৯৪ সালে ‘হৃদয় থেকে হৃদয়’ ছবির গানের জন্য গীতিকার মাসুদ করিম শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন দুইবার। গীতিকার মাসুদ করিম চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন। তার প্রযোজিত ছবিগুলো- ‘অচেনা অতিথি’, ‘ওয়াদা’, এবং ‘ভালো মানুষ’। ‘ইউনিক’ নামে একটি বিজ্ঞাপন সংস্থাও গড়ে তুলেছিলেন তিনি। কয়েকটি সিনেমাও প্রযোজনা করেছেন। বাংলা গানের জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন মাসুদ করিম। বিশেষ করে বাংলা ছায়াছবির গান দিয়ে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।


(দিলারা আলোর সাথে গীতিকার মাসুদ করিম)
নিশ্চুপ-নীরব কর্মী মাসুদ করিম তাঁর বিনয়ী স্বভাবের জন্য সকলের প্রিয় ছিলেন। ফর্সা রঙের, বড় কালো চোখের কালো কেশের মাসুদ করিমের ভাবের ঘোর ছিল প্রথম জীবনে কবিতায়, পরের জীবনে গানে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ লায়ন্স ক্লাবের ছিলেন আজীবন সদস্য। বাংলাদেশ গীতিকবি সংসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি ছিলেন। অনেক তরুণ এবং প্রবীণ গীতিকার, কবিদের তিনি সাহায্য করতেন গান ও কবিতা লিখতে। বাংলাদেশ সংগীত পরিষদেও তিনি যুক্ত ছিলেন সহ সভাপতি হিসেবে। নব্বইয়ের দশকে আমেরিকায় অধ্যয়নরত একমাত্র ছেলেকে দেখতে সপরিবারে আমেরিকায় চলে যান। ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নর্থ আমেরিকান লেবার ডে লং উইক এন্ড এ ডাউন টাউন মন্ট্রিয়ালের শেরাটন হোটেলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশী এসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকার ৩ দিনব্যাপি বাৎসরিক সম্মেলন ফোবানা চলাকালে তার হার্ট অ্যাটাক হয়। মন্ট্রিয়ালে চিকিৎসা চলাকালীন তার দুরারোগ্য ক্যান্সার ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরে ১৯৯৬ সালের ১৬ নভেম্বর কানাডার মন্ট্রিয়ালে ক্যানসারে তাঁর মৃত্যু হয়। মন্ট্রিয়ালের কবরখানায় একটি গাছের নিচে তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের গানের জগতের এক উজ্জ্বল মানুষ স্মৃতিবেদনা হয়ে সেখানেই মিশে আছেন। মাসুদ করিমের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তাঁর স্ত্রী কন্ঠ শিল্পী দিলারা আলো,তার ছেলে ও তিন মেয়ে মিলে গঠন করেছেন ‘মাসুদ করিম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন’। এই মহৎ প্রাণ গীতিকার এর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য তাদের এই আন্তরিক প্রয়াস হিসাবে শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, গীতিকারদের মাসুদ করিম অ্যাওয়ার্ড দিয়ে সম্মানিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে মাসুদ করিম অ্যাওয়ার্ড এর শুভ উদ্বোধনও হয়েছে। মাসুদ করিম আজ নেই, কিন্তু তিনি বেঁচে আছেন তাঁর সৃষ্টিকর্মে।


নতুন প্রজন্মের অনেকেই তাঁর গান সম্পর্কে জানে না। সে কারণে মাসুদ করিমের স্ত্রী প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী দিলারা আলো তাঁর লেখা তাঁর লেখা সহস্রাধিক গানের মধ্য থেকে ৮০০ গান নিয়ে ‘৮০০ গানের সংকলন মাসুদ করিম’ নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন গত বছর জুলাই মাসে। গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন তাঁরই সহধর্মিনী প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী দিলারা আলো। প্রকাশ করেছে অনন্যা প্রকাশনী। আজ গীতিকার মাসুদ করিমের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের আজকের দিনে তিনি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা গানের অমর গীতিকবি এবং সংগীতস্বাতী মাসুদ করিমের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভে্চ্ছা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :`> ফেসবুক লিংক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:১৫
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরাগের বুকে আমার ছোট ভাইদের লাশ ২০২৪-এর উপহার ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



২০২৪ আমাদের নতুন করে শত্রু মিত্র চিনতে শিখিয়েছে। আমি কোনো করুনা, সান্ত্বনা কিংবা বিচারের দাবি নিয়ে আজকের এই ক্ষুদ্র পোস্ট লিখতে চাই না।শুধু সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে একটু আচর কেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্রিকেটের রাজাকার ট্যাগ পাচ্ছেন বুলবুল আহমেদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এবার বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

বাধ্যতামূলক ভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে অবশ্যই নবায়ন করতে হতে পারে।
বর্তমানে আইন অনুযায়ী এনআইডি নবায়নের সুযোগ থাকলেও সেটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যে-সব সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এ দলটি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×