
জীবনের শুরু থেকে বাংলা গানের সত্যিকারের ধারাকে বুকে লালন করে শুদ্ধ বাংলা গানের মাধ্যমে যিনি আমাদের সঙ্গীতাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করে যাচ্ছেন তিনি শেখ সাদী খান। তাকে বাংলাদেশের সঙ্গীতের জাদুকর বলে অভিহিত করা হয়। শেখ সাদী খান এ পর্যন্ত ১০৫টিরও বেশি সিনেমায় সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। সুর করেছেন ৮০০০ হাজারেরও বেশি গান। তিনি ২০০৬ সালে ঘানি চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক বিভাগে এবং ২০১০ সালে কাজী মোরশেদ পরিচালিত ‘ঘানি’ ও জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ সিনেমার সঙ্গীত পরিচালনার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। নিভৃতচারী এই সংগীত পরিচালককে ‘হিউম্যান রাইটস্ অ্যাওয়ার্ড’ আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন ২০১৭ সালে। ২০১৮ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। সর্বশেষ গত বছর শেখ সাদী খান ‘বান্ধব’ ও ‘পদ্মার প্রেম’ সিনেমার সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার শেখ সাদী খানের ৭০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৫০ সালের আজকের দিনে তিনি কুমিল্লার হ্মণবাড়িয়ায় জন্মগহণ করেন। বাংলাদেশে সঙ্গীতাঙ্গনের জীবন্ত কিংবদন্তি, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সঙ্গীত পরিচালক শেখ সাদী খানের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।

শেখ সাদী খান ১৯৫০ সালের ৩ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুর গ্রামের এক সঙ্গীত সমৃদ্ধশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা উপমহাদেশের বিখ্যাত সুর সাধক ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ। সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ তার চাচা। তার পিতার হাত ধরে সঙ্গীত শিক্ষা শুরু করেন। প্রথমে তবলা ও তারপর বেহালা শেখেন। তার শৈশব কাটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। ঢাকার ধানমণ্ডি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর আইমিউজ ও বিমিউজ করেন ঢাকা সঙ্গীত মহাবিদ্যালয় থেকে। ১৯৬৩ সালে মেজভাই সরোদ বাদক ওস্তাদ বাহাদুর খানের সাথে ভারতে যান বেহালায় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শেখার জন্য। তিন বছর তার অধীনে তালিম নিয়ে ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশ স্বাধীনের আগে সাবিনা ইয়াসমিনের বোন ফৌজিয়া খান প্রথম ‘যা যারে যারে পাখি’ গানটিতে শেখ সাদী খানের প্রথম সুর করা গান কণ্ঠে তুলে নেন। ১৯৬৮ সালে মোস্তফা কামাল সৈয়দ প্রযোজিত টেলিভিশনের ‘সুর সাগর’ অনুষ্ঠানে শেখ সাদী খানের সুরে গানে কণ্ঠ দেন মরহুম আতুল জব্বার ও আরতি ধর। একই সময়ে এইচএমভিতে শেখ সাদী খানের সুরেই শওকত হায়াত খান ও মৌসুমী কবির চারটি গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৮০ সালে মরহুম আবদুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় ‘এখনই সময়’ সিনেমার সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এই সিনেমায় সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে ‘জীবন মানে যন্ত্রণা’, আবিদা সুলতানার কণ্ঠে ‘একটা দোলনা যদি’ গান দু’টির ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে আলোচনায় চলে আসেন শেখ সাদী খান। পরে তার সুরে যেসব জনপ্রিয় গানে এ দেশের সঙ্গীতপ্রেমী শ্রোতাদর্শক মুগ্ধ হয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘ডাকে পাখি খোল আঁখি’, ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে’, ‘আমার মনের আকাশে আজ’, ‘কাল সারারাত ছিল’, ‘আমার এ দু’টি চোখ পাথরতো নয়’, ‘ভালোবাসলেই সবার সাথে ঘর বাঁধা যায় না’, ‘তুমি রোজ বিকেলে’, ‘আমি চিরকাল প্রেমেরও কাঙ্গাল’ প্রভৃতি। ১৯৮৫ সালে তার সঙ্গীত পরিচালনায় সুখের সন্ধানে চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মান্না দে। এছাড়া তিনি আশা ভোঁসলে, সাবিনা ইয়াসমিন, এন্ড্রু কিশোর, রুনা লায়লাসহ দেশী-বিদেশী অনেক শিল্পীর সাথে কাজ করেন।

শেখ সাদী খান বাংলা গানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। স্বাধীনতা পরবর্তী যে ক’জন সুরকার আধুনিক বাংলা গানের সুরের জগতে নতুন ধারা তৈরি করেছেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। ব্যাক্তিগত জীবনে শেখ সাদী খানের স্ত্রী রওশন আরা, ছেলে রওনাক ফেরদৌস খান ও মেয়ে সাগুফতা জাবিন। হৃদয়ে বাংলা গানকে লালন করে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনকে যিনি সমৃদ্ধ করে যাচ্ছেন তিনি শেখ সাদী খান। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই সঙ্গীত পরিচালকরে আজ ৭০তম জন্মবা্র্ষিকী।একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সঙ্গীত পরিচালক শেখ সাদী খানের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।
নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০২০ বিকাল ৫:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



