somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যশোর উদীচী ট্র্যাজেডির ২১তম বার্ষিকী আজঃ "বিচারের বানী আজো নীরবে নিভৃতে কাঁদে"!!

০৬ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৫:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যশোরের উদীচী হত্যাযজ্ঞের ২১তম বার্ষিকী আজ। যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলার মধ্য দিয়ে দেশে প্রথম জঙ্গি হামলা হয়। কিন্তু ২০ বছরেও যশোরের উদীচী ট্র্যাজেডির সুষ্ঠু বিচার হয়নি। ২০১১ সাল থেকে মামলাটির বিচারকাজ থমকে রয়েছে।১৯৯৯ সালের এই দিনে শহরের টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে বর্বরোচিত বোমা হামলা চালানো হয়। ৬ মার্চ ছিলো উদীচীর ওই দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিন। রাত ১টার কিছু সময় পর মঞ্চের পেছনে দু’টি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এ হামলায় ১০ জন নিহত ও দু’শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হন। আহতদের কেউ দুই পা, কারও এক পা, কারও হাত, কেউবা শ্রবণশক্তি হারিয়ে পঙ্গত্ববরণ করেন। এ ঘটনার পর দিন মামলা করা হয়। এত বড় একটি হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায়নি আজও। দুর্বল তদন্তের কারণে ২০০৬ সালের ৩০ মে এ মামলা থেকে খালাস পেয়ে যান সব আসামি। ২০১০ সালে উদীচী ও ২০১১ সালে সরকারপক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে তা গৃহীত হয় এবং সেই থেকে মামলাটি পরবর্তী আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হলেও বিচার কাজ শেষ হয়নি আজও। ধরাছোঁয়ারও বাইরে রয়েছে ঘাতকরা। বর্বরোচিত ওই বোমা হামলায় সেদিন নিহত হয়েছিলেন নূর ইসলাম, নাজমুল হদা তপন, সন্ধ্যা রাণী ঘোষ, ইলিয়াস মুন্সী, শাহ আলম বাবুল, বাবুল সূত্রধর, শাহ আলম, বুলু, রতন রায় ও রামকৃষ্ণ। বোমা হামলায় আহত হয়েছিলেন দু' শতাধিক নারী-পুরুষ। কিন্তু নারকীয় এ হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় গত প্রায় দুই দশকেও দোষীদের বিচার করা যায়নি।


আদালত সূত্রে জানা গেছে, উদীচী ট্র্যাজেডি মামলায় ১৯৯৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৎকালীন সদস্য তরিকুল ইসলামসহ ২৪ জনের নামে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। সে সময় তরিকুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তার নাম বাদ দেন। পরে ২০০৬ সালের ৩০ মে যশোরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আদালত ২৩ আসামিকে বেকসুর খালাস দেন। খালাস পাওয়া ২৩ আসামির মধ্যে পাঁচজন ইতিমধ্যে মারা গেছেন। ১৭ আসামি উচ্চ আদালতের নির্দেশে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে ২০১১ সালের ২৪ জুলাই থেকে জামিনে আছেন। একজন আসামি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। এরপর ন্যায়বিচার পেতে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুনঃতদন্তের আবেদন করলে মামলাটি বর্ধিত তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডিকে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান গ্রেফতার হলে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর সে আদালতে উদীচী বোমা হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তিতে পুলিশ হরকাতুল জিহাদের সদস্য বরিশালের আবুল হোসেন ও মাদারীপুরের মাওলানা আবদুর রউফকে আটক করে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে ২০০৮ সালে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। এর প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত মামলার খালাসপ্রাপ্তদের পুনরায় আত্মসমর্পণের জন্য সমন জারির নির্দেশ দেন। এ সংক্রান্ত একটি আদেশ ২০১১ সালের ২০ জুন যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসে পৌঁছায়। এরপর ২১ জুন খালাসপ্রাপ্ত ২৩ আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এরমধ্যে মহিউদ্দিন আলমগীর, আহসান কবীর হাসান ও মিজানুর রহমান মিজান মারা গেছেন। অবশিষ্ট ২০ আসামির মধ্যে ১৭ জন বিভিন্ন সময়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন। ২০১৪ সালের ২২ ফেরুয়ারি অন্যতম আসামি সাইফুল ইসলাম নামে এক আসামি খুন হন। আর ৩ জন শফিকুল ইসলাম মিন্টা, শরিফুল ইসলাম লিটু ও সোহরাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আটক হন এ মামলার অন্যতম আসামি শফিকুল ইসলাম মিন্টা। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। পরে আর মামলার কার্যক্রম এগোয়নি।


ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য হত্যাকাণ্ড ও বিস্ফোরণ ঘটনায় গত ২১ বছরেও কোনও বিচার হল না। সরকার প্রথমে বাদী হয়ে মামলা দিয়ে প্রহসনের বিচার করে। পরে উদীচীর পক্ষ থেকে পুনতদন্তের জন্য আবেদন করা হলে সেটা গৃহীতও হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মামলা কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও জাতীয় ও স্থানীয় প্রশাসন কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে উদীচী হত্যা মামলার রায়ের বিপক্ষে হাইকোর্টে আপিল ও মিস ফাইল করা হয়েছে। কোর্ট আপিল গ্রহণ করে রুল ইস্যু করেছে। শুনানির পর্যায়ে আছে। অচিরেই মামলাটি হাইকোর্ট থেকে আপিল নিষ্পত্তি হয়ে পুনরায় বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আসবে। দীর্ঘদিনে বিচার না হওয়ায় নিহতদের স্বজনদের আক্ষেপ বাড়ছে। পুনঃ বিচারের মাধ্যমে নিহত ও আহতদের পরিবার ন্যায় বিচার পাবে। যশোরে বহুল আলোচিত উদীচী বোমা হামলার হামলাকারীদের শনাক্ত এবং তাদের শাস্তির আওতায় আনা হলে নিহতদের আত্মার শান্তি ও আহতদের পরিবার সুবিচার পাবে। বিচারের বানী যেন আর নিভৃতে না কাঁদে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক লিংক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৫:৪৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৯

ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!

বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরাগের বুকে আমার ছোট ভাইদের লাশ ২০২৪-এর উপহার ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



২০২৪ আমাদের নতুন করে শত্রু মিত্র চিনতে শিখিয়েছে। আমি কোনো করুনা, সান্ত্বনা কিংবা বিচারের দাবি নিয়ে আজকের এই ক্ষুদ্র পোস্ট লিখতে চাই না।শুধু সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে একটু আচর কেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম গেল ছালাও গেল

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×