somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শক্তিমান নাট্যাভিনেতা ও টেলিভিশন প্রযোজক মোহাম্মদ জাকারিয়ার ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মোহাম্মদ জাকারিয়া একজন শক্তিমান নাট্যাভিনেতা ও টেলিভিশন প্রযোজক। চল্লিশের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত নাট্যাভিনয়ের ক্ষেত্রে মোহাম্মদ জাকারিয়া একটি পরিশীলিত ধারার সৃষ্টি করেন। এক সময় মঞ্চ কাঁপিয়েছেন গুণী অভিনেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোহাম্মদ জাকারিয়া, মমতাজ উদদীন সহ অনেকে। ঢাকার মঞ্চে দক্ষ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের তেমন একটা দেখাই মেলে না। অভিনয়শিল্পের প্রতি মোহাম্মদ জাকারিয়ার ছিল সহজাত আকর্ষণ। ওই সময় মুসলিম পরিবারের সন্তানদের ক্ষেত্রে সচরাচর এরূপটি দেখা যেত না। তিনি কলকাতার ভারতীয় গণনাট্য সংঘ প্রযোজিত বিজন ভট্টাচার্যের নবান্ন (১৯৪৪) নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। পরে বহুরূপী, থিয়েটার সেন্টার, লোকনাট্যম প্রভৃতি নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করে তিনি সুনাম অর্জন করেন।তাঁর অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটক হলো: উলুখাগড়া (১৯৫০), ছেঁড়া তার (১৯৫২), দশচক্র (১৯৫২), ধর্মঘট (১৯৫৩), রক্তকরবী (১৯৫৪), ডাকঘর (১৯৫৭), অঘটন আজো ঘটে (১৯৬১), এক পেয়ালা কফি (১৯৬২), সাইকোথেরাপি প্রভৃতি। সাহিত্য-সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮১ বাংলাদেশ সরকারের তাকে একুশে পদক প্রদান করেন। থিয়েটার নাট্যগোষ্ঠী তাঁর স্মরণে ১৯৯৭ সালে ‘মোহাম্মদ জাকারিয়া স্মৃতিপদক’ প্রবর্তন করে। আজ এই অভিনেতার ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৩ সালের আজকের দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শক্তিমান নাট্যাভিনেতা ও টেলিভিশন প্রযোজক মোহাম্মদ জাকারিয়ার ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।


মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৯২৩ সালে (জন্মতারিখ অজ্ঞাত) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সেকেড্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্ম স্থানের একটি মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া শেষ করে, মল্লারপুর ইংরেজি স্কুল এ ভর্তি হন। পরে বীরভূম জেলার সিনিয়র বেণীমাধব ইন্সটিটিউশনে ভর্তি হয়ে সেখান থেকেই মেট্রিক পাশ করেন। আই এ ক্লাসে ভর্তি হন হেতমপুর কলেজে। শিক্ষাজীবনের ইতি ঘটিয়ে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে চাকুরি গ্রহণ করেন। বিজন ভট্টাচার্যের নবান্ন নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি বহুরূপী নামে একটি নতুন নাট্যসংস্থার গঠনেও সবিশেষ উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন। তিনি এই নাট্যদলে অভিনয় করার মাধ্যমেই সমগ্র ভারতে খ্যাতি লাভ করেন। ১৯৬১ সালে তিনি কলিকাতার থিয়েটার সেন্টার নাট্যদলে অভিনেতা ও নাট্যশিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি ঢাকা টেলিভিশনের প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন। এসময় ঢাকার মঞ্চ, বেতার ও টিভি নাটকে তাঁর অভিনয়-প্রতিভার আরও বিকাশ ঘটে। ১৯৮১ সালে তিনি টেলিভিশনের সরকারি চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।


১৯৭২ সালে মোহাম্মদ জাকারিয়া দেশের বিখ্যাত নাট্যগোষ্ঠী থিয়েটার-এ যোগ দেন। তিনি ওই সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও সহসভাপতি ছিলেন। এখানে তাঁর প্রথম মঞ্চাভিনয় থিয়েটার নাট্যগোষ্ঠী প্রযোজিত মুনীর চৌধুরীর কবর (১৯৭২) নাটকে।পরবর্তীকালে মঞ্চে ও টিভিতে তাঁর অভিনীত নাটকের সংখ্যা অনেক। সুবচন নির্বাসনে (১৯৭৪), পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (১৯৭৬) এবং দুই বোন (১৯৭৮) নাটকে যথাক্রমে ‘বাবা’, ‘পীরসাহেব’ ও ‘মথুরদা’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেন। তিনি নাটকের অনুবাদ ও নাট্যবিষয়ক মননশীল প্রবন্ধ রচনা করেও খ্যাতি অর্জন করেন। সাহিত্য-সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাঁকে পুরস্কৃত ও সংবর্ধিত করে, যথা: জাতীয় নাট্যোৎসব পুরস্কার (নয়াদিল্লি ১৯৫৪), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৮১), কাজী মাহবুবউল্লাহ জেবুন্নেসা ট্রাস্ট পদক (১৯৮৩), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৭৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার (১৯৮৫), সিকোয়েন্স এওয়ার্ড অব মেরিট (১৯৮০), ঢাকা থিয়েটার-এর গুণীজন সংবর্ধনা (১৯৮১), লোকনাট্য দলের সংবর্ধনা (১৯৯১) এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট পদক (১৯৯২)। আজ শক্তিমান এই অভিনেতার ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৩ সালের ৪ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।নাট্যাভিনেতা ও টেলিভিশন প্রযোজক মোহাম্মদ জাকারিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক লিংক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৫২
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

খারাপটা কোথায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪


বিশ্বখাতায় নাম লিখিলাম পাগল
কবিতারা হেসেই মাঠে হয়ে যায় ছাগল;
ঘাস খাওয়া আনন্দটা অন্যরকম
তবু পাগল বলে কথা, পূর্ণিমায় যুগল;
আজ কাল হাঁটবাজারে হিংসাটা
কম মূ্ল্যেই বিক্রয় হচ্ছে! যোগোপযোগি
সময়টা পাগল ছাড়া চলেই না
লেখার খাতার দামটাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম্লিগ যদি আসে তাহলে ....... :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৬



বিএনপি। আপনারা ১৭ বছর ঘরে থাকতে পারেন নাই কিন্তু এখন যদি আবার আম্লিগ ফিরে আনেন তাহলে আপনারা তো দূরের কথা আপনার বাড়ির মাটিও থাকবে না। আপনার ঘর-দরজা থাকবেনা। শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরকাল কেন পাই না?

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২

বিল গেটস এর নামে একটা কথা প্রচলতি আছে; জানি না কথাটা বিল বলেছে কি না, তবে আমার কাছে মাঝে মাঝে কথাটা সত্য মনে হয়। কথাটা এমনঃ আমি কোন কাজ করবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×