somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

বাংলা উপন্যাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাঙালি কথাসাহিত্যিক প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলা উপন্যাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাঙালি কথাসাহিত্যিক প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়। প্রভাতকুমার বিশেষ সিদ্ধি অর্জন করেছিলেন ছোটোগল্প-রচনায়। এ ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের পরেই তাঁর স্থান স্বীকৃত হয়েছিল। তিনি বাস্তব পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, কিন্তু তার গভীরে প্রবেশ করেননি, এমন কথা বলা হয়ে থাকে। তবে দেশ ও বিদেশের পটভূমিকায় তিনি বহু ঘটনা ও চরিত্র এমনভাবে স্থাপিত করেছেন যাতে তারা প্রাণের স্পর্শ লাভ করেছে।সরল,অনাবিল হাস্যরসের গল্প লেখক রূপেই সমধিক প্রসিদ্ধ। কেরানি থেকে হন ব্যারিস্টার,পরে পত্রিকা সম্পাদক এবং শেষ জীবন কাটে অধ্যাপনায়। তার সম্পাদিত পত্রিকার নাম মানসী ও মর্মবাণী। চোদ্দো বছর ধরে পত্রিকাটি সুষ্ঠভাবে চালিয়েছেন। আজ তাঁর ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৩২ সালের আজকের দিনে তিনি পশ্চিম বাংলার কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। কথাসাহিত্যিক প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যােেয়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।


প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় ১৮৭৩ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমান জেলার ধাত্রী গ্রামে তার মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস পশ্চিম বঙ্গের হুগলী জেলার গুরুপ গ্রামে। তার পিতার নাম জয়গোপাল মুখোপাধ্যায়। প্রভাতকুমারের জন্ম বাংলায় হলেও লেখাপড়া করেণ বিহারে। ১৯৮৮ সালে জামালপুর উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে এন্ট্রান্স পাশ করেন। ১৮৯১ সালে পাটনা কলেজ থেকে এফ.এ.এবং ১৮৯৫ সালে বি,এ, পাস করেন। ১৮৯৫ সালে পাটনা কলেজ থেকে বি এ পাশ করে ভারত সরকারের নানা ধরনের কর্মে বাংলার বাইরে অনেককাল কাটান। এর পর ১৯০১ সালে আইন পড়ার জন্য বিলেত গমন করে ১৯০৩ সালে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। প্রভাতকুমার কিছুকাল দার্জিলিং, রংপুর ও গয়ায় আইনব্যবসা করেন। তারপর নাটোরের মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ রায়ের উৎসাহে ১৯১৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘকাল মানসী ও মর্মবাণী পত্রিকা-সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। একই সাথে ১৯১৬ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-কলেজে শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত থাকেন।


১৮৯৫ সালের দিকে প্রভাতকুমারের লেখালিখির শুরু। প্রথমে কবিতা, পরে রবীন্দ্রনাথের পরামর্শে গদ্য রচনা করেন তিনি। রবীন্দ্রনাথের সমকাল যাঁরা ছোটগল্প রচনায় পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রভাতকুমার। সরল ও অনাবিল হাস্যরসের গল্পলেখক-রূপেই তাঁর খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা। সাধারণ আটপৌরে জীবনের লঘু ও দুর্বল দিক তাঁর গল্পে হাস্যরসচ্ছটাযোগে উপস্থাপিত। বাংলা ছোটগল্পকারদের মধ্যে তিনিই প্রথম যাঁর গল্প ইংরেজিতে অনুবাদ হয়ে বিদেশে প্রচার লাভ করেছে | তাঁর গল্পগুলি কাহিনীপ্রধান এবং সুখপাঠ্য | তাঁর গল্পের সরসতা অনেক সময়ে প্রকাশলাভ করেছে রঙ্গ ও ব্যঙ্গের মধ্য দিয়ে, তাই বলে গুরুতর ও বেদনাবহ গল্প যে তাঁর নেই, তা নয়। তবে ছোটগল্পে তিনি যতখানি সফল, উপন্যাসে ততটা নন। প্রভাতকুমারের উপন্যাস সম্পর্কে সমালোচকেরা সাধারণত একমত যে, তাঁর ছোটোগল্পের শিল্পচাতুর্য তাঁর উপন্যাসে নেই। তিনি জীবনকে দেখেছেন উপর থেকে, জীবনের গভীরতায় প্রবেশ করেননি। তাই এতে যত ঘটনা আছে বা চরিত্র আছে, তুলনায় তার তাৎপর্য বিশ্লেষণ নেই, অনেক সময়ে ধারাবাহিকতা নেই। তাঁর উপন্যাসে নাটকের গুণ আছে, উপন্যাসের সমগ্রতা অনুপস্থিত। ‘তিনি প্রথম শ্রেণীর ঔপন্যাসিক নহেন’ একথা বলেও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে বাংলা উপন্যাসে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। প্রভাতকুমারের গল্পগ্রন্থের সংখ্যা ১২ এবং উপন্যাসের সংখ্যা ১৪। তার উল্লেথযোগ্য গল্প সমূহঃ ১। রসময়ীর রসিকতা, ২। বাস্তুসাপ, ৩। বলবান জামাতা, ৪। দেবী, ৫। আদরিণী, ৬।মাস্টার মশাই, ৭। ফুলের মূল্য ইত্যাদি তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প। তাঁর প্রকাশিত উপন্যাসঃ ১। রত্নদ্বীপ (১৯১৫), গল্প-সংকলনঃ ১। গল্পাঞ্জলি (১৯১৩), ২।গল্পবীথি (১৯১৬) ইত্যাদি এবং ব্যঙ্গকাব্যঃ অভিশাপ (১৯৩০)।


১৮৯৭ সালে রাধামণি দেবী ছদ্মনামে ছোটোগল্প লিখে প্রথমবারের কুন্তলীন পুরস্কার লাভ করেন প্রভাতকুমার। ১৯৩২ সালের ৫ই এপ্রিল কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন বাঙালি কথাসাহিত্যিক প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় । জনপ্রিয় ও বাংলা উপন্যাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী কথাসাহিত্যিক প্রভাতকুমার মু্খোপাধ্যায়ের ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। কথাসাহিত্যিক প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক লিংক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:২৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×