somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

ষাটের দশকের বহুমাত্রিক লেখক কবি সাযযাদ কাদিরের ৭৩তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

১৪ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ষাটের দশকের অন্যতম কবি সাযযাদ কাদির। বহুমাত্রিক লেখক কবি সাযযাদ কাদির একাধারে গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিকহিসেবে পরিচিত। ১৯৬২ সালে টাঙ্গাইলে শিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম নেতৃস্থানীয় সংগঠক, ১৯৬৯-এর গণ অভ্যূত্থানের অন্যতম রূপকার ও সংগঠক, ১৯৭১ সালে টাঙ্গাইলের মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক সংগঠক ছিলেন তিনি। এজন্য পাক হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দী এবং বন্দী শিবিরে নৃশংসভাবে তিনি নির্যাতিত হন। পাক বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পেয়ে প্রায় ২ মাস সকাল-বিকাল থানায় হাজিরা দিতে হতো কবিকে। তারপর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বাসাইলের ফুলকি-ঝনঝনিয়ায় তিনি পালিয়ে যান। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর (বীর উত্তম) ভাষায়, ‘আমি একদল কবি-সাহিত্যিক পেয়েছিলাম, যারা অস্ত্র হাতে তেমন যুদ্ধ না করলেও যোদ্ধাদের অস্ত্র শানিত করেছেন নানা ভাবে। যুদ্ধের প্রেরণা যুগিয়েছে পদে পদে। তার মধ্যে রফিক আজাদ, বুলবুল খান মাহবুব, মাহবুব সাদিক, সাযযাদ কাদির, আবু কায়ছার অন্যতম। স্বাধীনতার পরপরই বঙ্গবন্ধুর হাতে আমরা অস্ত্র তুলে দিলে পূর্বদেশে কাদেরিয়া বাহিনীর এক বিরাট ক্রোড়পত্র ছাপা হয়েছিল। সেখানে মূল চালিকা শক্তি ছিলেন কবি রফিক আজাদ আর সাযযাদ কাদির। যাঁরা একই সঙ্গে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা নিয়ে কাজ করেন। তাদের ক্ষেত্রে চিহ্নিত হওয়ার একটি সমস্যা থেকেই যায়। সাযযাদ কাদিরের ক্ষেত্রে তা হয়নি। তিনি একই সঙ্গে গদ্য-পদ্য দু’শাখাতেই নিজের স্বাচ্ছন্দ্য দেখিয়েছেন। গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, অনুবাদ কোনও শাখাতেই তাঁর উপস্থিতি অনুজ্জ্বল নয়। কবির জন্য গদ্য রচনা বিড়ম্বনার এমন ধারণা থাকলেও, সাযযাদ কাদিরের ক্ষেত্রে তা হয়নি। তিনি গদ্য ভাষায় যেমন তেমনি কবিতাতেও নিজের স্বাতন্ত্র্য জানান দিতে সক্ষম হয়েছেন। গদ্য রচনার আড়ম্বরে তাঁর কবি পরিচয় হারিয়ে যায়নি। প্রকৃত প্রস্তাবে তিনি কবি, কবিই। তাই তাঁর কবিতায় মিশে আছে প্রত্যয়। আজ কবি সাযযাদ কাদিরের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৪৭ সালের আজকের দিনে তিনি টাঙ্গাইল জেলার মিরের বেতকা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ষাটের দশকের বহুমাত্রিক লেখক কবি সাযযাদ কাদিরের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।


সাযযাদ কাদিরে ১৯৪৭ সালের ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইল জেলার মিরের বেতকা গ্রামে তার মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার। তার স্থায়ী আবাস টাঙ্গাইল শহরের আকুর টাকুর পাড়ায়। ১৯৬২ সালে টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনি হাইস্কুল থেকে মানবিক শাখায় এসএসসি পাস করেন সাযযাদ কাদির। আর এইচ, এসসি (ইন্টারমিডিয়েট) পাস করেন ১৯৬৬ সালে। এছাড়া ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিএ অনার্স এবং ১৯৭০ সালে একই বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। কর্মজীবনে সাযযাদ কাদির সাযযাদ কাদির ১৯৭২ সালে টাঙ্গাইল করোটিয়ার সা’দত কলেজের বাংলা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৬ সালে তিনি কলেজের চাকরি ছেড়ে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় যোগদানের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। সাংবাদিকতা জীবনে সাযযাদ কাদির কাজ করেছেন রেডিও বেইজিং, দৈনিক সংবাদ, মানবজমিন ও দিনকালে। এর আগে ১৯৬৮ সালে মাসিক বিচিত্রায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ইতোপূর্বে মাসিক কণ্ঠস্বর-এর সহকারী সম্পাদক (১৯৬৬-৬৭) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিচিত্রার সহকারি সম্পাদক (১৯৭১-৮৫, সাপ্তাহিক আগামী, পাক্ষিক তারকালোক, মাসিক কিশোর তারকালোক, মাসিক নিরিবিলি-এর সম্পাদক (১৯৮৫-৯২), দৈনিক দিনকাল-এর বার্তা/ফিচার সম্পাদক (১৯৯২-’৯৫) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট-এর সহযোগি সম্পাদক (প্রকাশনা ও ফিচার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কবি সাযযাদ কাদির বিটিভিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান তাৎক্ষণিক (১৯৮২), প্রত্যয় (১৯৮৭), শানিত সংকল্প (১৯৯২) রচনাও পরিচালনা করেছেন। ১৯৬৬ সাল হতে রেডিও টিভির অজ¯্র অনুষ্ঠান রচনা পরিচালনা ও উপস্থাপনাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ডেস্কটপ পাবলিকেশনে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন ১৯৮৭ সালে। গণচীনের রেডিও পেইচিং-এর ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমীর আজীবন সদস্য, জাতীয় কবিতা পরিষদ, সাহিত্য চিন্তা, আয়োজক বুধ সন্ধ্যা-এর প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক। এছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির সদস্য ও সভাপতি ছিলেন তিনি।


সাযযাদ কাদির শুধু মাত্র কবিতাই নয় গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ-গবেষণা, শিশুতোষ, সম্পাদনা, সঙ্কলন, অনুবাদ সহ বিভিন্ন বিষয়ে ৬০টির বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ যথেচ্ছ ধ্রুপদ (১৯৭০) - কাব্যগ্রন্থ চন্দনে মৃগপদচিহ্ন (১৯৭৬) - গল্পগ্রন্থ, লাভ স্টোরি (১৯৭৭) - অনুবাদ, রাজরূপসী, প্রেমপাঁচালী, হারেমের কাহিনী, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রবন্ধসমগ্র - সংকলন, বেগম রোকেয়া প্রবন্ধসমগ্র - সংকলন, পৃথিবীর প্রিয় প্রণয়ী, অপর বেলায় - উপন্যাস, অন্তর্জাল (২০০৮) - উপন্যাস, রবীন্দ্রনাথ : শান্তিনিকেতন (২০১২) - গবেষণা, রবীন্দ্রনাথ : মানুষটি (২০১২) - গবেষণা, নারীঘটিত (২০১২) - প্রবন্ধ, খেই (২০১২) - উপন্যাস., বৃষ্টিবিলীন (২০১২) কাব্যগ্রন্থ, আমার ভুলবাসা (২০১৭) কাব্যগ্রন্থ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সাযযাদ কাদির শত শত জনের চেয়ে সাহিত্যে সংস্কৃতিতে বিরাট অবদান রাখার পরও স্বাধীনতা পুরস্কার এবং একুশে পদক পাননি। এছাড়া এর বাইরে স্বীকৃতি, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের জন্য বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিভিন্ন পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। একুশে স্মৃতি স্বর্ণ পদক ১৯৯৪ (সাহিত্যে), কবি জসিম উদ্দীন পুরস্কার ১৪০৪ (কবিতায়), শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া স্বর্ণপদক ১৯৯৫ (শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব), নন্দিনী ২০০১ ( শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব সমগ্রও কবিতা), কবি সুকান্ত সাহিত্য পুরস্কার ২০০২, টাঙ্গাইল জেলা সমিতি কর্তৃক প্রদত্ত সৈয়দ আব্দুল মতিন স্বর্ণপদক ২০০২ (সাহিত্যে); জাতীয় প্রেসক্লাব সংবর্ধনা ২০০৩, টিভি সাংবাদিকতার প্রবর্তক ব্যক্তিত্ব হিসেবে ট্রাব এওয়ার্ড ২০০৩। (লাইফ টাইম এচিভমেন্ট ভিত্তিক এওয়ার্ড, সম্মাননা ও সংবর্ধনা, সাতক্ষীরা সাহিত্য একাডেমী ২০০৪সহ আরও অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন কবি। ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল বেলা দুইটার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন কবি সাযযাদ কাদির। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। আজ কবি সাযযাদ কাদিরের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী। ষাটের দশকের বহুমাত্রিক লেখক কবি সাযযাদ কাদিরের জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক লিংক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:৪৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

খারাপটা কোথায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪


বিশ্বখাতায় নাম লিখিলাম পাগল
কবিতারা হেসেই মাঠে হয়ে যায় ছাগল;
ঘাস খাওয়া আনন্দটা অন্যরকম
তবু পাগল বলে কথা, পূর্ণিমায় যুগল;
আজ কাল হাঁটবাজারে হিংসাটা
কম মূ্ল্যেই বিক্রয় হচ্ছে! যোগোপযোগি
সময়টা পাগল ছাড়া চলেই না
লেখার খাতার দামটাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম্লিগ যদি আসে তাহলে ....... :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৬



বিএনপি। আপনারা ১৭ বছর ঘরে থাকতে পারেন নাই কিন্তু এখন যদি আবার আম্লিগ ফিরে আনেন তাহলে আপনারা তো দূরের কথা আপনার বাড়ির মাটিও থাকবে না। আপনার ঘর-দরজা থাকবেনা। শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরকাল কেন পাই না?

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২

বিল গেটস এর নামে একটা কথা প্রচলতি আছে; জানি না কথাটা বিল বলেছে কি না, তবে আমার কাছে মাঝে মাঝে কথাটা সত্য মনে হয়। কথাটা এমনঃ আমি কোন কাজ করবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×