somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

খ্যাতনামা সঙ্গীত শিল্পী, সুরকার ও প্রশিক্ষক সুধীরলাল চক্রবর্তীর ৭১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

২০ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৪:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আধুনিক, রাগপ্রধান, গজল, ঠুমরী প্রভৃতি গানে পারদর্শী, খ্যাতনামা সঙ্গীত শিল্পী, সুদক্ষ সুরকার ও প্রশিক্ষক সুধীরলাল চক্রবর্তী। মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের বুকে ঝরে, মাকে মনে পড়ে আমার, মাকে মনে পড়ে’ গানটিকে অমরত্ব দান করেছিলেন সুধীরলাল সরকার। বড়ই পরিতাপ ও মর্মবেদনার বিষয় গানটির সুরকার ও দরদী শিল্পী, সুধীরলাল চক্রবর্তী আজ যেন বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছেন। কবি নজরুলের বন্ধু, অসংখ্য কালজয়ী গানের সুরকার ও শিল্পী, সেরা সঙ্গীত শিক্ষক এবং গীতা দত্ত, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, উৎপলা সেন, শ্যামল মিত্রের মত সেরা শিল্পী গড়ার কারিগর, সুধীরলাল চক্রবর্তীর কোনও জীবনী বা পরিচিতি এখন আর খুঁজে পাওয়া যায়না। ভারতের প্রতিবাদী ধারার গণসংগীত শিল্পী কবীর সুমনের মতে “সূক্ষ্ম অলংকারসমৃদ্ধ আধুনিক সুররচনায় কাজী নজরুল ইসলাম ও হিমাংশু দত্তর পর তিনিই শেষ সম্রাট।” তাঁর গাওয়া ও সুরারোপিত বহু গ্রামোফোন রেকর্ড বের হয়েছে। ১৯৪৩-৪৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বেতারকেন্দ্রের সংগীত পরিচালক ছিলেন তিনি। সুধীরলাল মারা যান পঞ্চাশের দশকেই। অকালে মারা যান। রেখে যান উৎপলা সেন, শ্যামল মিত্র, নীতা সেনের মতো ছাত্রছাত্রীদের। আরও অনেক প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন তরুণ-তরুণী সুধীরলালের কাছে গান শিখতেন। প্রখ্যাত এই সঙ্গীতজ্ঞ ১৯৪৯ সালের আজকের দিনে মৃত্যুৃবরণ করেন। আজ তার ৭১তম মৃত্যুবার্ষিকী। সঙ্গীত শিল্পী, সুরকার ও প্রশিক্ষক সুধীরলাল চক্রবর্তীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।


সুধীরলাল চক্রবর্তী ১৯১৬ সালের কোন এক তারিখে ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। (তাঁর জন্ম তারিখ এবং জন্ম মাসের কোন নির্ভরযোগ্য সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি)। সুপণ্ডিত ও সংগীতরসিক পিতার পৃষ্ঠপোষকতায় বাড়িতে উচ্চাঙ্গ সংগীতের আসর বসতো। ফলে ছোটবেলা থেকে সংগীত শিক্ষার অনুপ্রেরণা লাভ করেন সুধীরলাল। পরে সঙ্গীতাচার্য গিরিজাশঙ্কর চক্রবর্তীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। সুধীরলালের গলা ছিল চিকন। তারসপ্তকে স্বভাবক্ষিপ্র হরিণের মতো বিচরণ করতে পারতেন তিনি নিটোল ধ্বনিমাধুর্য নিয়ে। তাঁর গায়কির এই গুণটি আয়ত্ত করেছিলেন তাঁর ছাত্র শ্যামল মিত্র। তাঁর গুরুর মতো তাঁর কণ্ঠও ছিল চিকন ও তারসপ্তক-ঘেঁষা। যত চড়া তত মিষ্ট। কণ্ঠে গাম্ভীর্য না থাকলেও সুধীরলাল চক্রবর্তী তাঁর গায়কি দিয়ে, স্বরপ্রক্ষেপের ধরন দিয়ে ভাবগাম্ভীর্য ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। মধুর আমার মায়ের হাসি, চাঁদের মুখে ঝরে/ মাকে মনে পড়ে আমার, মাকে মনে পড়ে’গানটির সুরকার ও শিল্পী ছিলেন সুধীরলাল চক্রবর্তী। এছাড়াও ১। ও তোর জীবন বীণা আপনি বাজে, ২। খেলাঘর মোর ভেসে গেছে হায়, নয়নের যমুনায়, ৩। কেন ডাকো পিয়া পিয়া, ০৪। রজনী গো যেওনা চলে, এখনো যায়নি লগন, ৫। গান গেয়ে মোর দিন কেটে যায় বিরহের বালুচরে, ৬। প্রথম দিনের প্রথম সে পরিচয়, ৭। এ জীবনে মোর যতকিছু ব্যাথা, যতকিছু পরাজয়, ৮। তুমি ছিলে তাই, ছিল গো বকুল, চাঁদ জেগেছিল নীল গগনে, ৯। এ দুটি নয়ন পলকে হারায় যারে, ১০। ভালবেসেছিনু আলেয়ারে (চেয়েছিনু জোছনা কৃষ্ণারাতে), ১১। আঁখি যদি ভোলে তবু মন কেন ভোলে না প্রভৃতি গানে তিনি সুরারোপ করেছিলেন এবং গেয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি পবিত্র মিত্র, প্রণব রায়, তারক ঘোষ, দেবেশ বাগচীর লেখা গান গেয়েছিলেন।


আধুনিক বাংলা গানের খ্যাতিমান শিল্পী ও সুরকার সুধীরলাল ১৯৪৯ সালের ২০ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। ‘যেদিন রব না আমি’ এবং ‘তব কাঁকনের ছন্দে আমার ব্যাকুল বাঁশরি বাজে’ এই দুটি গান সুধীরলাল স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রায় প্রতি বছরই পরিবেশিত হতো সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে তাঁর জীবনী হারিয়ে গেলেও তাঁর কালজয়ী মর্মভেদী অমর সঙ্গীত রয়ে গেছে, কারন এই সঙ্গীত ভুলবার নয়, হারাবার নয়। আজ সুধীরলাল চক্রবর্তীর ৭১তম মৃত্যুবার্ষিকী। সঙ্গীত শিল্পী, সুরকার ও প্রশিক্ষক সুধীরলাল চক্রবর্তীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক লিংক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৪:৩৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×