
করোনা ভাইরাস নিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয় বরং পুরো বিশ্ব আজ গুজব আর আতঙ্কে আক্রান্ত। গুজবে বিশ্বাস করে একদিকে রাতের অন্ধকারে মানুষ থানকুনি পাতা খুঁজে খাচ্ছে, অন্য দিকে গোমূত্র খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আতঙ্কে মানুষ বাজার খালি করে পণ্য কিনে বাড়িতে মজুদ করছে। এর সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। সমাজবিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞান শাস্ত্রে গুজবের ভিন্ন ভিন্ন সংজ্ঞা পাওয়া যায়। সামাজিক বিজ্ঞানের ভাষায়, গুজব হল এমন কোন বিবৃতি যার সত্যতা অল্প সময়ের মধ্যে অথবা কখনই নিশ্চত করা সম্ভব হয় না। গুজব অনেক ক্ষেত্রে "ভুল তথ্য" এবং "অসঙ্গত তথ্য” এই দুই বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। "ভুল তথ্য" বলতে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যকে বুঝায় এবং "অসঙ্গতি তথ্য” বলতে বুঝায় ইচছাকৃতভাবে ভ্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা। আমেরিকান ইংরেজিতে rumor বা ব্রিটিশ ইংরেজিতে rumour; অর্থ হল, জনসাধারনের সম্পর্কিত যেকোন বিষয়, ঘটনা বা ব্যক্তি নিয়ে মুখে মুখে প্রচারিত কোন বর্ণনা বা গল্প। অনেক পন্ডিতের মতে, গুজব হল প্রচারণার একটি উপসেট মাত্র। পন্ডিত বা বিজ্ঞজনেরা যাই বলুকনা কেন গুজব হলো গুজবকে ছোঁয়াচে রোগের সঙ্গে তুলনা করলে ভুল হবে না। কারণ এই রোগগুলো একজন থেকে দু’জন, দু’জন থেকে চারজন, চারজন থেকে আটজন- এমনিভাবে জ্যামিতিক হারে বাড়ে। ঠিক তেমনি গুজবও এক কান থেকে অন্য কানে জ্যামিতিক হারে ছড়িয়ে পড়ে। গুজবের ধর্ম হল এটি ‘যত বেশি প্রচার হবে, তত বেশি শক্তিসম্পন্ন হবে।’ তবে এই প্রচার হওয়াটা নির্ভর করে তথ্য যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর। তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা যত সহজ হবে তত দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে গুজব। বর্তমানের করোনা ভাইরাস বিশ্বজুড়ে তৈরি করেছে আতঙ্ক, উদ্বেগ এবং উৎকন্ঠা। প্রতিনিয়ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর হার। পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এর আগে সোয়াইন ফ্লু, পোলিও, জিকা ভাইরাস এবং সর্বশেষ ইবোলা ভাইরাস মোকাবেলায় বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল ডব্লিউএইচও।

সারা বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়ছে, কিছু মানুষ তখনো গুজব ছড়াচ্ছে। অতি রহস্যময় ভাইরাসটির গতিপ্রকৃতি নিরূপণে চূড়ান্ত হিমশিম খাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। কেউ বলছেন এটি প্রতিনিয়ত রূপ বদলাচ্ছে, আবার কেউ বলছেন ঠাণ্ডায় এর প্রাদুর্ভাব ক্ষমতা বেশি, গরমে কম। তবে এসব তথ্য সাময়িক জল্পনা-কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ। ফ্রান্সের একদল বিজ্ঞানী বলছেন, উচ্চ তাপমাত্রাতেও দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকতে পারে করোনাভাইরাস। দক্ষিণ ফ্রান্সের অ্যাক্স-মার্সাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেমি চ্যারেল ও তার সহকর্মীরা করোনাভাইরাসকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় এক ঘণ্টা ধরে ফুটিয়ে দেখেন যে, তখনও কিছু ভাইরাস পুনরুৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, ৯২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১৫ মিনিট ধরে ফুটানো হলে করোনাভাইরাস পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে। করোনাভাইরাস একটি সংবেদশীল ইস্যু হলেও, তা নিয়ে ইচ্ছে মতো চলছে গুজব ও গজব তত্ত্ব। তড়িঘড়ি করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের একটা অংশও পা দিচ্ছে ভুলের ফাঁদে৷ শুরু থেকেই এই ভাইরাস সম্পর্কে ছড়ানো হচ্ছে ভুল খবর বা গুজব। বিশ্বের বেশ কয়েকজন গবেষক এই ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী করেছেন চীনকেই। তারা আঙুল তুলেছেন চীনের সামরিক গবেষকদের দিকে। তাদের অভিযোগ- চীন জীবাণু অস্ত্র বানাতে গিয়ে পৃথিবীর জন্য এই ভয়াবহ পরিস্থিতি ডেকে এনেছে। বেশ কিছু অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত নানা তথ্য ভেসে বেড়াচ্ছে। ইসরায়েলের একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক অফিসারের বরাত দিয়ে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’দুটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে- এই ভাইরাসের জন্মদাতা উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’ও একই ধরনের একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, গোপন জৈব রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির কারখানায় এই ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছিল চীন। অসাবধানতাবশত সেই গবেষণাগার থেকেই ছড়িয়েছে ভাইরাসের সংক্রমণ। জৈব রাসায়নিক অস্ত্রের উপর গবেষণা করতে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন চিনের বিজ্ঞানীরা। তবে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসরাইল। তাছাড়া সংবাদ দুটির নির্ভরযোগ্য সূত্রও নেই। আবার অনেকেই করোনা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য চীনাদের খাদ্যাভাসকেও দায়ী করেছেন। চীনারা পৃথিবীর একমাত্র জাতি যারা পোকামাকড়সহ পৃথিবীর প্রায় সব ধরনের প্রাণির মাংস খায়। তাদের এই অদ্ভুত খাদ্যাভাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিশেষজ্ঞরা নানা ধরনের মত দিয়েছেন। করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি এর চিকিৎসা পদ্ধতি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েও বিস্তর গুজবের ডালপালা মেলছে। ফিলিপাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একজন নাগরিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। পোস্টে তিনি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গলা ভিজিয়ে রাখাসহ, মশলাযুক্ত খাদ্য এড়িয়ে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি খাওয়ার পরমর্শ দিয়েছেন। ‘ফর চেঞ্জ’ নামক একটি ফেইসবুক পেজ থেকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আইসক্রিম এবং দুগ্ধজাতীয় খাদ্য পরিহার করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুটি পোস্ট হাজার হাজার ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন। রীতিমতো পোস্ট দুটি ভাইরাল হয়েছে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে এই ধরনের পরামর্শ বা প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা ইতোমধ্যে এটিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

করোনা নিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে গুজবের। এমনকি বিভিন্ন নামজাদা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পর্যন্ত গুজব ছড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেছে! হাজার হাজার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত লাশ পুড়িয়ে ফেলছে চীন! সন্দেহের কারণ? করোনা উপদ্রুত উহানের বায়ুমণ্ডলে রহস্যজনক ‘স্মোগ’ বা ধোঁয়াশাকুণ্ডলি দেখা গিয়েছে। সংক্রমণের ভয়ে উহানের অধিবাসীরা গৃহবন্দি। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির। কলকারখানা বন্ধ। তাহলে ধোঁয়া হবে কেন? এমনই খবর ছেপেছে ব্রিটেনের ডেইলি মেইল এবং সানডে এক্সপ্রেস পত্রিকা। দ্য সান পত্রিকা লিখেছে, চীন করোনার প্রমাণ ধ্বংস করছে। গোটা দুনিয়া বিশ্বাস করে, চীন তথ্য লুকোয়। গোপনে অনেক অপকর্ম করে। সুতরাং খবরটি চাউর হতে সময় লাগেনি। ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অপরিসীম ক্ষমতাধর চীনের প্রশাসনও এবার নিজেদের দেশের ভেতরেই গুজব সামলাতে পারেনি। যখন সত্য জানার উপায় থাকে না, তখনই গুজব ছড়ায়। রাষ্ট্র সত্য না বললে বা অন্যদের সত্য বলতে না দিলে জনগণ বিকল্প সত্য বিশ্বাস করতে শুরু করে। চীনের জনগণ নিজেরাই সরকারি তথ্য বিশ্বাস করে না। চীনের সরকার সেই ভুলের মাশুল গুনেছে এবার। আন্তর্জাতিকভাবে চীনের ‘মিথ্যাবাদী রাখাল’ পরিচিতি তৈরি হয়ে যাওয়ার কারণে বিশ্বময় করোনাভাইরাস ভীতি গণ-আতঙ্কের রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি আফ্রিকায় গুজব উঠেছে, আফ্রিকানদের করোনাভাইরাস হয় না। এমন সব গুজব মোকাবিলায় তাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হিমশিম খাচ্ছে।

গুজবের আতঙ্ক আছড়ে পড়েছে আমাদের দেশেও। এখানেও সরকারি তথ্য মানুষ খুব একটা বিশ্বাস করে না। এর চেয়ে অনেক্ব বেশি বিশ্বাস করে ফেইসবুক, মেসেঞ্জারে ভাইরাল হওয়া সব আজগুবি তথ্য। এর মধ্যে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব, অক্সফোর্ডে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের প্রথম পরীক্ষায় সর্বপ্রথম অংশ নিয়েছেন যিনি - সেই স্বেচ্ছাসেবী মারা গেছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিবিসির স্বাস্থ্য বিষয়ক সংবাদদাতা ফারগাস ওয়ালশ বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার ঐসব খবর নেহাতই গুজব। বাংলাদেশের মিরপুরের টোলারবাগ মসজিদের ইমাম মুফতি মোজাফ্ফার আহমেদ বলে গুজব ছড়িেযে পড়েছিল। এই গুজবের প্রেক্ষিতে ইমাম সাহেব জানিয়েছেন তিনি বেঁচে আছেন, সুস্থ আছেন। না জানালে বিভ্রান্তি থেকে হয়তো অনেক বড় অশান্তি জন্ম নিতো৷ সে আশঙ্কা জাগিয়েছিল একটি গুজব৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল করোনায় সংক্রমিত হয়ে মুফতি সাহেবের মৃত্যুর খবর৷তার ঠিক একদিন আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকেও ‘‘আমি বেঁচে আছি, সুস্থ আছি’’ বলে সবাইকে আশ্বস্ত করতে হয়েছে৷ একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের দুটো স্ক্রল জোড়া দিয়ে কে বা কারা যেন ছড়িয়েছিল নিউ ইয়র্কে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে আইভীর মৃত্যুর গুজব৷গুজব দুটো শুধু গুজব থাকেনি সংবাদমাধ্যমের একাংশের সবার আগে সব খবর প্রচারের ‘অসুস্থ’ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ার কারণে৷ ভালো জানে-বোঝে, এমন মানুষের কাছ থেকেও বিভিন্ন কথা শোনা যাচ্ছে। যেমন এক গ্রুপের মতে, করোনাভাইরাস তেমন কিছুই না। মিডিয়া এটাকে নিজেদের স্বার্থে বড় করে বানিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এটাতে মোটে চার হাজার মানুষ মারা গেছে, তাও বয়স্ক অথবা ভীষণ অসুস্থ যারা, তারা। সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জায় প্রতি বছর মারা যায় আড়াই থেকে পাঁচ লাখ মানুষ। তাহলে? এত মাতামাতি কেন? এ তো সর্দিজ্বর ছাড়া কিছু নয়! শিশুদের নাকি হয় না। তাহলে সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে কেন? গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডই বা স্থবির হয়ে পড়ছে কেন?

সবচেয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় করোনাভাইরাস নিয়ে নানা স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শগুলো। এসব পরামর্শের বেশিরভাগই ভুয়া। এগুলো ক্ষতিকর নাও হতে পারে। আবার বিপজ্জনকও হতে পারে। যেমন ধরা যাক রসুন। ফেইসবুকে রসুন নিয়ে অনেক পোস্ট ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকে বলছে, রসুন খেলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সম্ভব। অথচ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, রসুন একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। প্রচলিত ধারণা আছে যে রসুন অনেক ধরনের সংক্রমণ রোধ করতে পারে। তবে এ রকম কোনো প্রমাণ নেই যে, রসুন খেলে মানুষ করোনোভাইরাস থেকে রক্ষা পাবে। দ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে জানা যায়, রসুন খেলে করোনা সংক্রমণ হয় না এমন তথ্যে বিশ্বাস করে এক নারী নাকি দেড় কেজি রসুন খেয়ে ফেলেছিলেন। গলায় সংক্রমণের পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। গুজবের পক্ষে, ভুল খবরের পক্ষে কিছু যুক্তিও আছে৷ কিছু যে খুব বাস্তবসম্মত এবং সুযুক্তি হিসেবে মেনে নেয়ার মতো তা- ও অস্বীকার করার জো নেই৷সরকারের সব দপ্তরের মধ্যে যে সমন্বয়ের অভাব আছে, সব তথ্য যে এখনো সহজলভ্য বা সবার কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠেনি তা-ও অনস্বীকার্য৷সব পর্যায়েই স্বচ্ছতা, সততা, আন্তরিকতা এবং দায়িত্বশীলতা এই মুহূর্তে খুব দরকার৷

ফেইসবুকের বেশ কিছু পোস্টে দেখা গিয়েছে, ‘মদ খেলে করোনা সংক্রমণ ঘটে না’। বিশ্বের এক নামজাদা হাসপাতালের এ সংক্রান্ত এক প্রত্যয়নপত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে ফেইসবুকের দেয়ালে দেয়ালে। ইরানে তো এমন গুজবে বিশ্বাস করে বিষাক্ত মদ খেয়ে প্রায় ৪২ জনের মৃত্যুও ঘটেছে। ফেইসবুকে দেখা গেছে, জাপানি এক চিকিৎসক প্রতি ১৫ মিনিটে পানি খেতে পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, এতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ট্রুডি ল্যাং জানিয়েছেন, করোনোভাইরাস শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এর মধ্যে কিছু ভাইরাস মুখেও যেতে পারে। তবে ঘনঘন জল খেলে এই ভাইরাস প্রতিরোধ করা যাবে এমন কোনো প্রমাণ নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে গরম পানি পান, গরম পানিতে গোসল করা ও চুল শুকানোর যন্ত্র (হেয়ার ড্রায়ার) ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। আইসক্রিম না খেতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনকি অনেক পোস্টে ইউনিসেফ বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ধরনের পরামর্শ দিয়েছে বলে প্রচার চালানো হচ্ছে। যদিও ইউনিসেফ কিংবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এ ধরনের প্রচার পুরোপুরি মিথ্যে। ‘ভুল তথ্য ও গুজব ভাইরাসের চেয়েও ভীতিকর। গুজব ভাইরাস মোকাবিলায় একটি দেশের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে। এই সঙ্কট সন্ধিক্ষণেও একশ্রেণীর মতলববাজ মহল গুজব সৃষ্টির মাধ্যমে চরিত্রহনন- ফেসবুকে অপপ্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার অশুভ পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছে। দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে কেউ যাতে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য সকলের সতর্ক ও সাবধানে থাকতে হবে। তা নাহলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের চেষ্টা পরাভূত হবে গুজবের কাছে।
নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল
[email protected]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

