somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ফায়জুর রহমান আহমেদের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

০৫ ই মে, ২০২০ রাত ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ফয়জুুর রহমান আহমেদ একজন পুলিশ কর্মকর্তা।যিনি বাংলাদেশের ত্রিরত্ন হ‍ুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মাদ জাফর ইকবাল এবং আহসান হাবীব এর পিতা। শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ ১৯৭১ সালে তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমার এসডিপিও ছিলেন। ফয়জুর রহমান আহমেদ পিরোজপুরে কর্মরত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অসহযোগ আন্দোলনে একাত্ম হন। তিনি নিজের ও তাঁর পরিবারের জীবন বিপন্ন জেনেও মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করেন। ওই সময় তিনি পিরোজপুরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে পাক-হানাদার বাহিনীর আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে খবর সংগ্রহ করে পিরোজপুরের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্ব পরিচালনায় সক্রিয় উদ্যোগ নেন। যুদ্ধ শুরু হলে অস্ত্রাগারে সংরক্ষিত অস্ত্র সরবরাহ করে প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলেন এবং ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন। একাত্তরের ৪ মে পাক-বাহিনী পিরোজপুর শহর দখল করে নেয়। সে সময় ফয়জুর রহমান আহমেদ পিরোজপুরের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থানরত তাঁর পরিবারবর্গের সঙ্গে দেখা করতে যান। পরদিন অর্থাৎ ৫ মে পিরোজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার চিঠি পেয়ে তিনি কর্মস্থলে এসে পৌঁছলে পাক-বাহিনী তাঁকে বন্দি করে এবং বলেশ্বর নদীর তীরে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর তাঁর মৃতদেহ নদীতে ফেলে দেয়। গ্রামের মানুষ তাঁর লাশ দেখে চিনতে পারে। স্থানীয় জনগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁর মৃতদেহ নদী থেকে তুলে নদীতীরে সমাহিত করে। স্বাধীনতার পর তাঁর মৃতদেহ পূর্ণ মর্যাদায় ওই কবর থেকে পিরোজপুর কবরস্থানে স্থানান্তর করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শহিদ ফয়জুর রহমান আহমেদকে স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর) ২০১৭ প্রদান করা হয়। আজ তার ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ফায়জুর রহমান আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।


ফয়জুর রহমান আহমেদ ১৯২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৩৯ সালে কিশোরগঞ্জ হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৪১ সালে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে তিনি ১৯৪৩ সালে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি ১৯৪৬ সালে পুলিশ বিভাগে সাব-ইন্সপেক্টর পদে যোগদান করেন। চাকরিজীবনে বিভিন্ন পদে তিনি সিলেট, পঞ্চগড়, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও কুমিল্লায় এবং সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার হিসেবে পিরোজপুরে দায়িত্ব পালন করেন। হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল কিংবা আহসান হাবীব—তাঁর কোনো পুত্রই তখনো বিখ্যাত হয়ে ওঠেননি। শহিদ ফয়জুর রহমান আহমেদ একজন সৎ, সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি হিসাবে পিরোজপুর এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। সাহিত্যের প্রতি প্রবল আকর্ষণে শহিদ ফয়জুর রহমান কলকাতার সওগাত, ঢাকার ডিটেকটিভ, সিলেটের আল ইসলাহ, চট্টগ্রামের অস্তিকা ইত্যাদি পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে লিখতেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিখ্যাত লেখকদের বই সংগ্রহ করে বিশাল এক পারিবারিক গ্রন্থাগার গড়ে তুলেছিলেন তিনি। পুলিশ জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৯৬৫ সালে লেখা ‘দীপ নেভা যার ঘরে’ নামে তাঁর একটি গল্প-সংকলন প্রকাশিত হয়।


(পিরোজপুর কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত ফয়জুর রহমান আহমেদ)
পিরোজপুর মহকুমা ট্রেজারীর অর্থ ও অস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে যাওয়ার সাথে পিরোজপুররে তৎকালীন এসডিপিও ফয়জুর রহমানের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়ে ছিল পাক বাহিনী। ৭১'র ২ মে ট্রেজারীর টাকা মুক্তিযোদ্ধারা নিয়ে গেলে ৪ মে পিরোজপুর শহর পাক বাহিনী দখলে নেয়। এর আগেই হুমায়ূন মা ও ভাই-বোনদের নিয়ে প্রথমে নাজিরপুর থানায় ও পরে নাজিরপুরের বাবলা গ্রামে জনৈক মোবারক খানের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন। এই বাড়ীতে মে'র ৩ তারিখে ফয়জুর রহমান তাঁর পরিবারবর্গের সঙ্গে দেখা করতে যান। ৫ মে পিরোজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার চিঠি পেয়ে তিনি কর্মস্থলে এসে পৌঁছলে পাক-বাহিনী তাঁকে বন্দি করে এবং বলেশ্বর নদীর তীরে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর তাঁর মৃতদেহ নদীতে ফেলে দেয়। তাঁর মৃতদেহ পানিতে ভাসছিল তিন দিন। স্থানীয় জনগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁর মৃতদেহ নদী থেকে তুলে নদীতীরে সমাহিত করে। স্বাধীনতার পর তাঁর মৃতদেহ পূর্ণ মর্যাদায় ওই কবর থেকে পিরোজপুর কবরস্থানে স্থানান্তর করা হয়। শহীদ ফয়জুর রহমান বিয়ে করেন মোহনগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শেখবাড়ীতে। তার স্ত্রী রত্নগর্ভা প্রয়াত আয়শা ফয়েজ, যিনি বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রথম মামলা করেছিলেন। যদিও তখন তাঁর মামলা কেউই নিতে চায়নি। হ‍ুমায়ূন আহমেদ তাঁর মায়ের সেই মামলা করার প্রচেষ্টা দেখে ‘জলিল সাহেবের পিটিশন’ নামক একটি অসাধারণ গল্প লিখেছেন। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৭ সালের১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসরকারি সম্মাননা পদক স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর) দেয়া হয় শহীদ ফয়জুর রহমানকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফয়জুর রহমানের মেয়ে সুফিয়া হায়দার শেফুর হাতে পদক তুলে দেন। এছাড়া নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের কলসাটি গ্রাম। সেই গ্রামের পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে বঙ্গবাজার। সেই বঙ্গবাজার থেকে ১ কিলোমিটার দক্ষিনে তার পৈতৃক নিবাস কুতুবপুর গ্রামে যে সড়কটি গেছে সেই সড়কটির নামকরন করা হয় শহীদ ফয়জুর রহমান সড়ক। ২০০০ সালে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ তার স্মরনে দুই টাকা মূল্যের একটি ডাক টিকেট প্রকাশ করে। আজ ফয়জুর রহমান আহমেদের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ফায়জুর রহমান আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক লিংক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০২০ রাত ১০:০৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×