
মদিনা নগরীর বিখ্যাত ওহুদ পাহাড়। উহুদ পর্বত সৌদি আরবের মদিনা শহরের উত্তরে অবস্থিত। এর উচ্চতা ১,০৭৭ মি (৩,৫৩৩ ফু)। মক্কার কুরাইশ ও মদিনার মুসলিমদের মধ্যকার উহুদের যুদ্ধ এই পর্বত সংলগ্ন স্থানে সংঘটিত হয়েছিল। মাথা উচু করে থাকা ওহুদকে মদিনা শহর থেকেও দেখা যায়। ওহুদের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সা: নিজে অংশ নেন। মুসলিম বাহিনীর বিজয়ের শেষ লগ্নে এখানেই সূচিত হয়েছিল মর্মন্তুদ ঘটনা। ৭০ জন মুসলিম বীর এই যুদ্ধে শহীদ হন। শহীদ হন রাসূলুল্লাহর সা: চাচা সাইয়্যেদুশ শুহাদা হজরত হামজা রা:। স্বয়ং রাসূল সা: এই যুদ্ধে আহত হন। বদরের যুদ্ধে বাজেভাবে পরাজিত হয়ে মক্কার কুরাইশদের মনে প্রতিহিংসার আগুন দাউদাউ করে জ্বলছিল। যথাযথ প্রতিশোধ নেওয়ার আগ পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছিল না কুরাইশ নেতৃবৃন্দ। এক দিকে তাদের বীর যোদ্ধা আবু জেহেল ও উতবার মৃত্যু, অপরদিকে মুসলিমদের হাতে মার খাওয়া কোনটিই মেনে নিতে পারছিল না তারা। তাই দ্রুত আরও একটি যুদ্ধের আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে কুরাইশরা। বদরের যুদ্ধের এক বছরের মধ্যে ‘ওহুদের যুদ্ধ’র প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। ৬২৫ সালের ১১ মার্চ ৩,০০০ সৈনিক নিয়ে গঠিত মক্কার বাহিনী আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে মদিনার দিকে যাত্রা করে। এই বাহিনীর সাথে ৩,০০০ উট ও ২০০টি ঘোড়া ছিল। আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ বিনতে উতবাসহ মক্কার ১৫জন নারীও যুদ্ধক্ষেত্রে আগমন করে। কুরাইশ নেতাদের ধারণা ছিল যে নারীরা সঙ্গে থাকলে তাদের সম্মান রক্ষার জন্য বেশি আমরণ লড়াইয়ের উদ্দীপনা তৈরী হবে। তারা সরাসরি মদিনা আক্রমণ না করে শহরের নিকটে আকিক উপত্যকা অতিক্রম করে কিছুটা ডানে ওহুদের নিকটবর্তী আয়নাইনে শিবির স্থাপন করে। কুরাইশদের যুদ্ধযাত্রার খবর মুহাম্মাদ (সা) এর কাছে পৌছায়। এরপর মদিনার বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। যুদ্ধের জন্য গৃহিতব্য পদক্ষেপ নিতে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুহাম্মাদ (সা) নিজের দেখা একটি স্বপ্নের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর শপথ আমি একটি ভালো জিনিস দেখেছি। আমি দেখি যে কতগুলি গাভী জবাই করা হচ্ছে। আরো দেখি যে আমার তলোয়ারের মাথায় কিছু ভঙ্গুরতা রয়েছে। আর এও দেখি যে, আমি আমার হাত একটি সুরক্ষিত বর্মের মধ্যে ঢুকিয়েছি।" এর ব্যাখ্যা হিসেবে তিনি বলেন, ‘কিছু সাহাবি নিহত হবে, তলোয়ালের ভঙ্গুরতার অর্থ তার পরিবারের কেউ শহীদ হবে এবং সুরক্ষিত বর্মের অর্থ মদিনা শহর।

ওহুদের যুদ্ধঃ
হিজরী তৃতীয় সন। শাওয়াল মাস। কুরাইশ মুশরিকরা বদরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যে মদীনার দিকে অগ্রসর হয়। মদীনার প্রায় চার মাইল দূরে ওহুদ পাহাড়। কুরাইশ বাহিনী ওহুদ পাহাড়ের পাদদেশে তাদের ছাউনী ফেলে। তাদের যোদ্ধার একটি বাহিনী ওহুদের দিকে রওয়ানা হয়। যা বদর যুদ্ধের এক বছর পর সংঘটিত হয়। এ সময় যে যুদ্ধ হয় তা ‘ওহুদের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। সূত্রমতে, ৬২৫ খৃষ্ট. হিজরীর তৃতীয় বর্ষে কুরাইশ দলপতি আবু সুফিয়ানের ৩০০০ সশস্ত্র সৈন্য ৩০০ উস্ট্রারোহী ও ২০০ অশ্বারোহী সহ মক্কা হতে যুদ্ধাভিযান করে মদিনার ৫ মাইল পশ্চিমে উহুদ নামক স্থানে উপস্থিত হয়। এর প্রেক্ষিতে ১০০ জন বর্মধারী এবং প্রায় ৫০ জন তিরন্দাজসহ ১০০০ জন মুজাহিদ বাহিনী কুরাইশদের মোকাবেলা করার জন্য উহুদের দিকে অগ্রসর হন। মুহাম্মাদ (সা) মুসলিম বাহিনীকে তিনভাবে বিভক্ত করেন। এগুলি হল, মুহাজির বাহিনী, আউস বাহিনী ও খাজরাজ বাহিনী। এই তিন বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন যথাক্রমে মুসআব ইবনে উমায়ের, উসাইদ ইবনে হুজাইর ও হুবাব ইবনে মুনজির। পথিমধ্যে মোনাফেক নেতা আব্দুল্লাহ বিন উবাই তার ৩০০ জন অনুসারী নিয়ে পলায়ন করে। শেষ পর্যন্ত ৭০০ জন মুজাহিদ নিয়ে ৬২৫ খৃষ্ট. ২৩ মার্চ মুসলিম ও কাফেরদের মধ্যে একটি যুদ্ধ সংগঠিত হয়। সংখ্যায় কম হওয়া সত্ত্বেও মুসলিমরা প্রথমদিকে সাফল্য লাভ করেছিল এবং মক্কার সৈনিকরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। বিজয়ের খুব কাছাকাছি থাকা অবস্থায় মুসলিম বাহিনীর কিছু অংশের ভূল পদক্ষেপের কারণে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। উহুদের পাদদেশের নিকটেই ছোট্ট আকারের আরেকটি পাহাড়ের চূড়া। যেটির নাম জাবালে রোমান অর্থাৎ রোমান পাহাড়। এই পাহাড়ের ওপরই রাসূল (সঃ)তাঁর ৪০ জন সাহাবিকে একটি সঙ্কীর্ণ গিরিপথ প্রহরায় নিয়োজিত রেখেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিল তীরন্দাজ বাহিনীও। রাসূল(সাঃ) নির্দেশ দিয়েছিলেন কোনো অবস্থাতেই তারা যেন এই প্রহরা থেকে সরে না যান। এমনকি সম্মুখের বাহিনীর গোশত ছিঁড়ে খাওয়া দেখলেও তারা যেন এখানকার প্রতিরক্ষাকার্যক্রম থেকে নিবৃত্ত না হন। যুদ্ধের প্রথম দিকে কাফের বাহিনী পিছু হটতে থাকে। প্রবল বিক্রমে এগিয়ে যেতে থাকেন রাসূলের(সঃ): সাহাবিরা। সঙ্কীর্ণ গিরিপথ প্রহরার দায়িত্ব ছিল আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়েরের নেতৃত্বে একদল সেনার। যুদ্ধে মুশরিকদের পরাজয় দেখে তারা আর স্থির থাকতে পারেননি। রাসূল (সঃ) কঠোর নির্দেশ উপেক্ষা করেন তারা। তীরন্দাজ বাহিনী রাসুল (স.) নির্দেশ ভুলে গণিমত কুড়ানোর জন্য মাঠে নেমে যায়। আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের তাঁর সাথে থাকা প্রহরারত বাহিনীকে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা নিষেধ উপেক্ষা করে পলায়নপর মুশরিকদের পিছু ধাওয়া করেন এবং নিজেদের অবস্থান ছেড়ে দেন। তীরন্দাজ বাহিনী স্থান ত্যাগ করার পর বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে যুদ্ধের গতিপথ পাল্টে যায়। এই সুযোগটিকে কাফের নেতা খালিদ বিন ওয়ালিদ কাজে লাগায়। খালিদ বিন ওয়ালিদ পেছন দিক থেকে আক্রমন করে এবং মুসলমানদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই যুদ্ধে মুসলমানদের ৭৩ জন মুজাহিদ শহীদ হন। তাঁদের সমাধি বদর প্রান্তরেই অবস্থিত। রাসূল (সঃ) এই যুদ্ধে আহত হন। রাসূলের(সঃ) দন্ত মোবারক শহীদ হয় এ যুদ্ধে। কিন্তু গুজব ছড়িয়ে পড়ে তিনি নিহত হয়েছেন। বর্বর কুরাইশ যোদ্ধারা নবীজির ওপর সর্বাত্মক আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ল। নির্মম নির্দয় হামলায় তাঁর জীবন বিপন্নপ্রায়। সাহাবায়ে কিরাম নিজেদের জীবন বাজি রেখে, নিজেদের বুককে ঢাল বানিয়ে নবীজিকে রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকলেন। হামজার হত্যাকারী ইবনে কামিয়া নবীজিকে তরবারি দ্বারা কঠিন আঘাত করল। তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ হাত দিয়ে ঠেকালে তাঁর আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গেল, নবীজির শিরস্ত্রাণ বিদীর্ণ হয়ে দুটি লৌহ কড়া তাঁর কপালে বিঁধে গেল, নবীজি অচেতন হয়ে পড়ে গেলেন। কুরাইশরা ‘মুহাম্মাদ নিহত!’ বলে উল্লাস করতে লাগল। শহীদ মুসআবের চেহারার সঙ্গে নবীজির মিল থাকায় এই গুজব ডাল-পালা মেলল। জ্ঞান ফিরে এলে নবীজি বললেন, ‘হে আমার প্রভু! আমার জাতিকে ক্ষমা করো; তারা অজ্ঞ, তারা বোঝে না।’ হজরত আবু বকর রা: হজরত ওমর ফারুক(রাঃ) প্রমুখ এ যুদ্ধে রাসূলের সা: সাথী ছিলেন। পরে মুসলিমরা ওহুদ পর্বতের দিকে পিছু হটে আসে। মক্কার বাহিনী পরে মক্কায় ফিরে আসে। এই যুদ্ধে কুরাইশদের নিহত হলো ৩৫০ জনেরও অধিক। শুধু আবু সুফিয়ান, জুবায়ের ইবনে মুতএম ও হাকেম ইবনে হিজাম ছাড়া কুরাইশদের নেতৃস্থানীয় প্রায় সবাই নিহত হলো। তাঁরা তিনজনই পরে মুসলমান হয়েছিলেন। মুসলমানগণ কৌশলগত কারণে পাহাড়ে আশ্রয় নিলেন। কুরাইশ নেতারা আবার বদরে দেখা হবে বলে ফিরে গেল। সন্ধ্যার আগেই নবীজি সবাইকে নিয়ে মদিনায় পৌঁছালেন। ইতিমধ্যে তিনি সাআদকে কুরাইশদের গতিবিধি লক্ষ করার জন্য পাঠালেন। কুরাইশরা ‘আল আকিক’ উপত্যকায় পৌঁছার পর পুনরায় মদিনা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। এই সংবাদে নবীজি রাতে বিশিষ্ট সাহাবাগণের সঙ্গে পরামর্শ করে পরদিন ১৬ শাওয়াল রোববার ফজরের নামাজান্তে ঘোষণা করলেন: ‘কুরাইশদের পুনরাক্রমণ প্রতিহত করতে শুধু ওহুদে অংশগ্রহণকারী সাহাবিরা প্রস্তুত হও।’ তাঁরা নতুন অভিযানে চললেন। এদিকে কুরাইশরা ‘মাবাদ’ নামক এক মদিনাবাসী মারফত মুসলমানদের পাল্টা অভিযাত্রার খবর জানতে পেরে পিছু হটে মক্কা অভিমুখে পালিয়ে গেল। সাহাবাদের কাফেলা নিয়ে নবীজি মদিনা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে ‘হামরাউল আসাদ’ নামক স্থানে এসে উপস্থিত হলেন। কয়েক দিন সেখানে অবস্থান করে মদিনায় ফিরে এলেন। যদিও যুদ্ধে কারোই চূড়ান্ত বিজয় হয়নি। তবে কুরাইশরা মদীনায় প্রবেশ না করেই ফিরে যান

কাফের সৈন্যদের যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আহত মুজাহিদদের একত্রিত করেন। তাদের সারিবদ্ধ করার হুকুম দেন। পুরুষের পেছনে ১৪ জন মহিলা সাহাবিও সারিতে শামিল ছিলেন। অতঃপর আল্লাহর রসুল মর্মস্পর্শী ভাষায় ভাষণ দান করেন। তিনি ভাষণের প্রারম্ভে বলেন : হে আল্লাহ! যাবতীয় প্রশংসা আপনার। হে আল্লাহ, আপনি যাকে প্রশস্ত করেন তার কোনো সংকোচনকারী নেই এবং আপনি যাকে অপ্রশস্ত করেন, তার কোনো প্রশস্তকারী নেই। আপনি যাকে গুমরাহ করেন, তার কোনো হেদায়েতকারী নেই এবং আপনি যাকে হেদায়েত প্রদান করেন তার কোনো গুমরাহকারী নেই। আপনি যাকে দান করেন না, তাকে দানকারী কেউ নেই এবং আপনি যাকে দান করেন তাকে বাধাদানকারী কেউ নেই। আপনি যাকে দূরে নিক্ষেপ করেন তাকে নিকটবর্তী করার কেউ নেই এবং আপনি যাকে নিকটবর্তী করেন তাকে দূরবর্তী করার কেউ নেই। ইসলামের ইতিহাসে উহুদের যুদ্ধ একটি শিক্ষণীয় ঘটনা। তৃতীয় হিজরিতে সংঘটিত এ যুদ্ধে মক্কার কুরাইশদের সংখ্যা ছিল তিন হাজার। সাথে ছিল অশ্বারোহী বাহিনী। আর মুসলমানদের সংখ্যা ছিল মাত্র সাত’শ। এর মধ্যে অশ্বারোহী বাহিনী ছিল অনুল্লেখযোগ্য। তা সত্ত্বেও মুসলিমরা যুদ্ধের প্রাথমিক অবস্থায় বিজয় লাভ করে। পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যে বিশৃঙ্খলার কারণে তারা পরাজিত হয়। যা আজও মুসলিমদের অশ্রু ঝরায়। ওহুদের যুদ্ধের পর মুমিনদের প্রশিক্ষণের জন্যে আল্লাহ বাণী পাঠান- তার একাংশে বলা হয়; - ‘মন ভাংগা হয়ো না, চিন্তা ক্লিষ্ট হয়ো না। তোমারই বিজয়ী থাকবে যদি তোমরা সত্যিকার মুমিন হও। এখন যদি তোমাদের উপর কোন আঘাত এসে থাকে, ইতি পূর্বে অন্য দলের উপরও অনুরূপ আঘাত এসেছে। এটা তো কালের পরিবর্তন যা আমি মানুষের মধ্যে আবর্তিত করে থাকি। এটা এজন্য এসেছে যে আল্লাহ দেখতে চান তোমাদের মধ্যে কারা খাঁটি মুমিন এবং তোমাদের মধ্যে থেকে কিছু শহীদ তিনি গ্রহণ করতে চান। যালিমদেরকে আল্লাহ মোটেই পছন্দ করেন না। এই পরীক্ষার মাধ্যমে খাঁটি মুমিনদেরকে আলাদা করে কাফিরদেরকে ধ্বংস করতে চান। তোমরা কি ভেবেছো যে তোমরা এমনিতেই জান্নাতে চলে যাবে অথচ আল্লাহ এখনো দেখেননি যে তোমাদের মধ্যে এমন কারা আল্লাহর পথে লড়াই করতে প্রস্তুত এবং কারা ছবর অবলম্বন কারী। ওহুদ যুদ্ধে যে সমস্ত শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে, সে সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলা সূরা আল-ইমরানের ১২১ নং আয়াত থেকে শুরু করে ১৬০ নং আয়াতের মধ্যে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে মুসলমানদেরকে রসূলের কথা অমান্য করা, মতভেদ করা এবং ছত্রভঙ্গ হওয়ার মন্দ পরিণাম সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া। যাতে তারা ভবিষ্যতে সতর্ক হয়ে যায় এবং যে সমস্ত বিষয় তাদের পরাজয়ের কারণ হতে পারে তা থেকে বিরত থাকে। আল্লাহ আমাদের সহি বুঝ নসিব করুন। আমিন
নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০২০ দুপুর ১:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



