somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১৪ জুনঃ বিশ্ব রক্তদাতা দিবস আজঃ রক্ত দিন এবং পৃথিবীকে একটি স্বাস্থ্যকর স্থানে পরিণত করুন।

১৪ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রক্ত দিন জীবন বাঁচান। কথাটার সঙ্গে আমরা সকলেই পরিচিত। অথচ রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মানসিকতা এখনও আমাদের মধ্যে গড়ে ওঠেনি সে ভাবে। প্রতি দিন বিশ্বে রক্তের অভাবে বহু মানুষের প্রাণ গেলেও সুস্থ মানুষেরা অনেকেই রক্তদান সম্পর্কে ভুল ধারণা, ইতস্তত ভাব কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস পালন এবং ২০০০ সালে ‘নিরাপদ রক্ত’-এই থিম নিয়ে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৪ সালে প্রথম পালিত হয়েছিল বিশ্ব রক্তদান দিবস। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পর থেকে প্রতিবছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ দিবস পালনের জন্য তাগিদ দিয়ে আসছে। রক্তদান সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে ২০০৪ সাল থেকে সারা বিশ্বে প্রতি বছর ১৪ জুন ওয়ার্ল্ড ব্লাড ডোনর ডে (রক্তদাতা দিবস) পালিত হয়। যারা স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাচ্ছেন তাদেরসহ সাধারণ জনগণকে রক্তদানে উৎসাহিত করাই এ দিবসের উদ্দেশ্য। ১৪ জুন দিবসটি পালনের আরও একটি তাৎপর্য রয়েছে। এদিন জন্ম হয়েছিল বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টিনারের। এই নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছিলেন রক্তের গ্রুপ ‘এ, বি, ও,এবি’। স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানকারী আড়ালে থাকা সেসব মানুষের উদ্দেশে, এসব অজানা বীরের উদ্দেশে, উৎসর্গীকৃত ১৪ জুনের বিশ্ব রক্তদান দিবস। শারীরিকভাবে সুস্থ ১৮ থেকে ৫৭ বছর বয়সের মধ্যে কোনো পুরুষ ও নারী রক্ত দিতে পারবে। এ ক্ষেত্র পুরুষের ওজন থাকতে হবে অন্তত ৪৮ কেজি এবং নারীর ওজন অন্তত ৪৫ কেজি। ১২০ দিন পর পর, অর্থাৎ চার মাস পর পর রক্ত দেওয়া যাবে। রক্তদানে কোনো সমস্যা হয় না। কেননা, একজন মানুষের শরীরে সাড়ে চার থেকে ছয় লিটার রক্ত থাকে। রক্তদান করা হয় সাধারণত ২৫০ থেকে ৪০০ মিলিলিটার। এটি শরীরে থাকা মোট রক্তের মাত্র অল্প ভাগ। দেশে বছরে আট থেকে নয় লাখ ব্যাগ রক্তের চাহিদা থাকে। রক্ত সংগ্রহ করা হয় ছয় থেকে সাড়ে ছয় লাখ ব্যাগ। বাকি তিন লাখ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন জনগণকে সচেতন করা। বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘Give blood and make the world a healthier place’ অর্থাৎ ‘রক্ত দিন এবং পৃথিবীকে একটি স্বাস্থ্যকর স্থানে পরিণত করুন।’


দেশে সরকারিভাবে প্রথম নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন কর্মসূচি শুরু হয় ১৯৯৯ সালে। গত ১৮ বছরে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত এই সময়ে শুধু স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যাই বাড়েনি কমেছে পেশাদার রক্ত ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যও। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, দেশে প্রত্যক্ষ রক্তদাতা রয়েছেন ৭০ শতাংশ, আর বিভিন্ন সংস্থা ও ব্লাড ব্যাংকের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ৩০ শতাংশ। রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রদান সব প্রক্রিয়াই নিরাপদ প্রক্রিয়ায় হচ্ছে বলেও জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
প্রতিবছর ৮ কোটি ইউনিট রক্ত স্বেচ্ছায় দান হয়, অথচ এর মাত্র ৩৮ শতাংশ সংগ্রহ হয় উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে, যেখানে বাস করে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৮২ শতাংশ মানুষ। এ ছাড়া এখনো বিশ্বের অনেক দেশে মানুষের রক্তের চাহিদা হলে নির্ভর করতে হয় নিজের পরিবারের সদস্য বা নিজের বন্ধুদের রক্তদানের ওপর, আর অনেক দেশে পেশাদারি রক্তদাতা অর্থের বিনিময়ে রক্ত দান করে আসছে রোগীদের। অথচ বিশ্বের নানা দেশ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে জানা যায়, ‘নিরাপদ রক্ত সরবরাহের’ মূল ভিত্তি হলো স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে দান করা রক্ত। কারণ তাদের রক্ত তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং এসব রক্তের মধ্য দিয়ে গ্রহীতার মধ্যে জীবনসংশয়ী সংক্রমণ, যেমন এইচআইভি ও হেপাটাইটিস সংক্রমণের আশঙ্কা খুবই কম। রক্তদানের ভয় কাটাতে জেনে নিন কী ভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন।
মানবদেহে রক্তের প্রয়োজন কেন?
মানবদেহে রক্তের কাজ কোষের ভেতর অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে বর্জ্য পদার্থ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড বের করা। এ ছাড়া হরমোন-এনজাইম জাতীয় উপাদান বহন, দেহের তাপ ও পানির সমতা সংরক্ষণ, এসিড-বেইসের ভারসাম্য রক্ষা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ ইত্যাদি।
রক্তদানের উপকারঃ
১. একজনের দানকৃত রক্ত আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচাবে।
২. রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বছরে তিনবার রক্তদান আপনার শরীরে লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে তোলার সঙ্গে সঙ্গে নতুন কণিকা তৈরির হার বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত রক্তদান করলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
৩. গবেষণায় দেখা যায়, যাঁরা বছরে দুবার রক্ত দেন, অন্যদের তুলনায় তাঁদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। বিশেষ করে ফুসফুস, লিভার, কোলন, পাকস্থলী ও গলার ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়মিত রক্তদাতাদের ক্ষেত্রে অনেক কম দেখা গেছে।
৪. নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে নিজের শরীরে বড় কোনো রোগ আছে কি না, সেটি বিনা খরচে জানা যায়। যেমন : হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) ইত্যাদি।
৫. রক্ত দিলে ৬৫০ ক্যালরি করে শক্তি খরচ হয়। অর্থাৎ ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
৬. রক্তদান ধর্মীয় দিক থেকে পুণ্যের বা সওয়াবের কাজ। একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সমগ্র মানবজাতির জীবন বাঁচানোর মতো মহান কাজ।
কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিরা কি রক্ত ​​দান করতে পারবে?
যখন কোনো ব্যক্তি কোভিড-১৯ থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন, তখন তার রক্তের প্লাজমাতে প্রোটিন অ্যান্টিবডি তৈরি হয় যা নতুন করোনভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে। যারা করোনা পুরোপুরি নিরাময় পেয়েছেন এবং সুস্থ হওয়ার কমপক্ষে দুই সপ্তাহ পরও যাদের মধ্যে নতুন করে করোনা সংক্রমণের লক্ষণ নেই, তাদেরকে রক্তের তরল অংশ বা প্লাজমা দানে উৎসাহিত করা হয়। তবে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে প্লাজমা থেরাপি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।
রক্তদানের আগেঃ
বেশি করে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খান। যেমন রেড মিট, মাছ, ডিম, বিনস, পালং শাক, সিরিয়াল, কিসমিস।
রক্ত দেওয়ার আগের রাতে ভাল করে ঘুমোন।
রক্তদানের আগে অন্তত ৫০০ মিলিলিটার জল খান।
রক্তদানের আগে স্বাস্থ্যকর খাবার খান। ফ্যাটি খাবার যেমন ভাজা বা তৈলাক্ত খাবার, আইসক্রিম এড়িয়ে চলুন।
যদি আপনি শুধু অনুচক্রিকা দান করেন তা হলে মনে রাখবেন রক্তদানের অন্তত দু’দিন আগে থেকে আপনার শরীর সম্পূর্ণ অ্যাসপিরিন ফ্রি রাখতে হবে। অবশ্যই নিজের ডোনার কার্ড, আইডেন্টিটি কার্ড সঙ্গে রাখুন।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:২৪
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালো লাগে

লিখেছেন আরমান আরজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৮

এরা কারা, কী এদের পরিচয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:৪৮


যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, ঠিক তাই ঘটছে। ‘আজাদ পার্টি’ নামের একটি নতুন ভূঁইফোড় রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে গতকাল ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে যে মিছিল এবং ঘেরাও কর্মসূচি করা হলো, তা কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×