somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বকালের সেরা দশ ধনী ব্যক্তি

১৫ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিশ্বের সবচেয়ে ধনী আট জন ব্যক্তির হাতে যতো সম্পদ আছে সেই সম্পদের পরিমাণ দুনিয়ার অর্ধেক মানুষের সম্পদের সমান। এই দাবী আন্তর্জাতিক এক দাতব্য সংস্থা অক্সফ্যামের। সবচে ধনী এই আট জনের মধ্যে রয়েছেন বিল গেটস, মার্ক জাকারবার্গ এবং ওয়ারেন বাফেট। অক্সফ্যাম বলছে, এই আট জনের হাতে যতো সম্পদ রয়েছে তার পরিমাণ বিশ্বের ৩৬০ কোটি দরিদ্র মানুষের সম্পদের সমান। সে যাই হোক বড় বড় অনেক ধনী লোক রয়েছেন দুনিয়াজুড়ে। কারও কারও সম্পত্তির কোনো হিসাব-নিকাশ নেই। যেমন বিল গেটস, মুকেশ অম্বানি কিংবা সৌদি আরবের শেখরা। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড়লোক অর্থাৎ কে বেশি টাকার মালিক ছিলো- জন ডি. রকফেলার নাকি চেঙ্গিস খান? প্রশ্নটি অনেক সহজ, কিন্তু এর উত্তর বের করা অনেক কঠিন। ফোর্বস ম্যাগাজিন প্রতি বছর ধনীদের যে তালিকা তৈরি করে সেটি পাহাড়সম তথ্যের উপর ভিত্তি করে করা হয়। কিন্তু ভিন্ন সময়ের দুজন ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ হিসেব করা সহজ নয়। এটি শুধুমাত্র মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করার বিষয় নয়; মুদ্রার প্রচলন শুরু হয়েছে আরও অনেক পরে। তার আগের সম্পদ কীভাবে হিসেব করা সম্ভব? তখন মুদ্রার প্রচলন ছিলো না, জিনিসের দাম ছিলো সেই জিনিসের ব্যবহার উপযোগিতার উপর ভর করে। তাছাড়া সম্পদ হিসেবের ক্ষেত্রেও অনেক ভিন্নতা এসেছে। এখন অনেক দেশে একনায়ক থাকলেও, তাদের দেশের সম্পদকে তাদের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। কিন্তু আগের দিনে রাজাদের অধীনে যেসব জমি বা স্বর্ণ থাকতো, সব সম্পদই রাজার সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতো। যা-ই হোক, জনপ্রিয় ম্যাগাজিন টাইম ইতিহাস বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতি প্রফেসরদের সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টার সাক্ষাতকারের পর সর্বকালের সেরা দশ ধনী মানুষের নিম্নোক্ত তালিকাটি তৈরি করেছেন।


১. মানসা মুসাঃ
জীবনকাল: ১২৮০-১৩৩৭
দেশ: মালি
সম্পদের পরিমাণ: অবর্ণনীয় ধনী। মানসা মুসাকে প্রায় সবাই এক বাক্যে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বলে মেনে নেন। এখন প্রশ্ন হলো, ঠিক কতোটা ধনী ছিলেন মুসা? গবেষকরা জানান মুসার সম্পত্তির পরিমাণ অংকে প্রকাশ করা প্রায় অসম্ভব। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ইতিহাসের প্রফেসর রুডলফ ওয়ার বলেন, একজন ব্যক্তির পক্ষে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ সোনার মালিক হওয়া সম্ভব তা একবার কল্পনা করুন। এরপর সেটাকে দ্বিগুণ করুন। তাহলে মুসার সম্পত্তির পরিমাণ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া সম্ভব।
ফেরাম কলেজের প্রফেসর রিচার্ড স্মিথের মতে, পশ্চিম আফ্রিকায় মুসার রাজ্য সে সময়ে ছিলো বিশ্বের এক নম্বর সোনা উৎপাদনকারী দেশ এবং সেসময় সোনার চাহিদা ছিলো আকাশচুম্বী। কত ধনী ছিলো মুসা? প্রয়োজনীয় দলিল দস্তাবেজের অভাবে এটি অংকে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কিন্তু সমসাময়িক কিছু তথ্যমতে, বর্তমানে মুসার সমান সম্পদ অর্জন করা একজন ব্যক্তির পক্ষে অসম্ভব। মুসা সম্পর্কে একটি গল্প প্রচলিত আছে যে, মক্কা যাওয়ার পথে তিনি এত বেশি খরচ করেছিলেন যে, মিসরে মুদ্রা সংকট দেখা দিয়েছিলো। বলা হয়ে থাকে মুসা এই ঐতিহাসিক হজে ১ কোটি ৫০ হাজার পাউন্ড সোনা ব্যয় করেছিলেন। মুসার সফরে তার প্রথম স্ত্রী সঙ্গী হন। মুসার স্ত্রীর সেবায় ৫০০ দাসী নিযুক্ত ছিল। এই কাফেলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক, চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা ও সঙ্গীতশিল্পীও ছিলেন। হজের পর মক্কার জ্ঞান-বিজ্ঞানে অভিভূত হয়ে পড়েন তিনি। মক্কা থেকে উট বোঝাই করে চিকিৎসা, জোতির্বিদ্যা, দর্শন, ভূগোল, ইতিহাস, গণিতশাস্ত্র এবং আইনের ওপর প্রচুর বই তার দেশে নিয়ে যান। মক্কা থেকে মেধাবী এবং সেরা গণিতবিদ, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, আর্কিটেক্টদের আমন্ত্রণ করে নিয়ে যান। মুসা অত্যন্ত দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। তার বহরে ছিলো কয়েক ডজন উট, যাদের কাজ ছিলো সোনা বহন করা। রিচার্ড স্মিথ বলেন, সে সময়ে এক বছরে মালি প্রায় এক টন সোনা উৎপাদন করেছিলো। প্রচলিত আছে, ১৩২৪ সালে তিনি যখন হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যান তখন তার হজবহরের ৬০ হাজার লোক ছিল শুধু রসদপূর্ণ ব্যাগ বহনের জন্য। সঙ্গে ছিল ৫০০ গোলাম, যারা প্রত্যেকে একটি করে সোনার দণ্ড নিয়ে গিয়েছিল। ৮০ থেকে ১০০টি উট ছিল, যেগুলো প্রত্যেকটি প্রায় ১৪০ কেজি সোনা বয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তার এই যাত্রাপথে তিনি প্রায় কয়েকশ’কোটি টাকা মূল্যের সোনা বিতরণ করেছিলেন। কায়রোতে তিনি এত বেশি সোনা বিতরণ করেছিলেন যে, বেশ কয়েক বছর ধরে সেখানে সোনার দাম অনেক কম ছিল। কথিত আছে, প্রতি জুমাবারে মুসা একটি মসজিদ তৈরি করতেন। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সহকারী প্রফেসর রুডলফ ওয়ার বলেন, মুসা এতটাইধনী ছিলো মানুষ সেটি ভাষায় প্রকাশ করতে পারতো না। মুসাকে একটি ছবিতে সোনার সিংহাসনে একটি সোনার লাঠি নিয়ে সোনার তৈরি কাপ নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।


২. অগাস্টাস সিজারঃ
জীবনকাল: খ্রিস্টপূর্ব ৬৩-১৫ খ্রিস্টাব্দ
দেশ: রোম
সম্পদের পরিমাণ: ৪.৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। সিজার শুধু বিশ্ব জিডিপির ২৫%-৩০% জিডিপি সম্পন্ন একটি দেশের শাসকই ছিলেন না। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইয়ান মরিসের মতে, তার পুরো সাম্রাজ্যের ৫ ভাগের ১ ভাগের মালিক ছিলেন সিজার। একটি সময়ে পুরো মিসরের মালিকই ছিলেন এই রোম শাসক। তার সম্পদের পরিমাণ ২০১৪ সালের মার্কিন ডলারে মূল্যমান দাঁড়ায় ৪.৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে!


৩. রাজা শেংজংঃ
সময়কাল: ১০৪৮-১০৮৫
দেশ: চীন।
সম্পদের পরিমাণ: বিশ্ব জিডিপির ২৫%-৩০% সম্বলিত একটি দেশের শাসক
পৃথিবীর ইতিহাসে চীনের সং রাজবংশের শাসনামল (৯৬০-১২৭৯) ছিলো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী সাম্রাজ্যগুলোর মাঝে একটি। তামকাং বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ইতিহাসের প্রফেসর রোনাল্ড এডওয়ার্ডের মতে, সে সময়ে তাবৎ দুনিয়ার ২৫%-৩৫% জিডিপির উৎপাদন ছিলো চীনে। সং সাম্রাজ্যের সম্পদ আসতো তাদের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ট্যাক্স সংগ্রহ থেকে। এডওয়ার্ডের মতে, চীনারা সে সময়ে প্রযুক্তিগত দিক থেকে ইউরোপিয়ানদের থেকে ১০০ বছর এগিয়ে ছিলো। প্রফেসর আরও বলেন, শাসনব্যবস্থা ছিলো অত্যন্ত সরকারকেন্দ্রীক, তাই রাজার হাতে ছিলো বিপুল ক্ষমতা।


৪. সম্রাট আকবরঃ
সময়কাল: ১৫৪২-১৬০৫
দেশ: ভারতীয় উপমহাদেশ
সম্পদের পরিমাণ: বিশ্ব জিডিপির ২৫% অর্থ সম্বলিত একটি দেশের একচ্ছত্র শাসক। মোঘল শাসক সম্রাট আকবর এমন একটি সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন, যারা সারা দুনিয়ার ৪ ভাগের একভাগ জিডিপি নিয়ন্ত্রণ করতো। ফরচুন ম্যাগাজিনের ক্রিস ম্যাথিউস প্রাচীন অর্থনীতিবিদ আংগুস ম্যাডিসনের সূত্র টেনে বলেন, “সম্রাট আকবরের শাসনামলকে ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথের শাসনামলের সাথে তুলনা করা যায়। কিন্তু আকবরের আমলে শাসক শ্রেণীর জীবনধারা ইউরোপিয়ানদের তুলনায় অনেক বেশি অযৌক্তিক ছিলো।”


৫. জোসেফ স্ট্যালিনঃ
জীবনকাল: ১৮৭৮-১৯৫৩
দেশ: সোভিয়েত ইউনিয়ন
সম্পদের পরিমাণ: বিশ্ব জিডিপির ৯.৬% সম্পদশালী একটি জাতির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ
আধুনিক অর্থনীতির যুগে স্ট্যালিন একজন ব্যতিক্রমধর্মী মানুষ; পরম ক্ষমতাসম্পন্ন একজন স্বৈরশাসক, যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি সমৃদ্ধ একটি জাতিকে নিয়ন্ত্রণ করতো। সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পদ থেকে স্ট্যালিনের সম্পদ ভাগ করা কার্যত অসম্ভব। কিন্তু তার অনন্য অর্থনৈতিক সমন্বয় এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ একাধিক অর্থনীতিবিদকে তাকে সর্বকালের সেরা ধনীদের কাতারে রাখার জন্য প্ররোচিত করেছে। তাদের যুক্তি সহজেই বোঝা সম্ভব। Develpoment Center of Organization (OECD) এর তথ্যমতে, ১৯৫০ সালে স্ট্যালিনের মৃত্যুর ৩ বছর আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের জিডিপি ছিলো সারা বিশ্বের ৯.৫%। ২০১৪ সালে যেটির মূল্যমান দাঁড়ায় ৭.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। যদিও সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পদ সরাসরি স্ট্যালিনের ছিলো না কিন্তু তার ছিলো অফুরন্ত ক্ষমতা। তিনি চাইলে সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পদকে তার পছন্দমতো ব্যবহার করতে পারতেন। অনেকের মতে, এই সম্পদ স্ট্যালিনের সরাসরি ছিলো না, তাই স্ট্যালিনকে এই তালিকায় রাখা অযৌক্তিক।


৬. অ্যান্ড্রু কার্নেগিঃ
জীবনকাল: ১৮৩৫-১৯১৯
দেশ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
সম্পদের পরিমাণ: ৩৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মিডিয়াতে রকফেলার সুপরিচিত হলেও, অ্যান্ড্রু কার্নেগি ছিলেন রকফেলারের চেয়েও বেশি বিত্তবান এবং আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম ধনী। ১৯০১ সালে এই স্কটিশ আমেরিকান ইমিগ্র্যান্ট তার কোম্পানি ইউএস স্টিল জে পি মর্গানের কাছে বিক্রি করেছিলো ৪৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। যেটি সে সময়ে আমেরিকার মোট জিডিপির ২.১% সমমান ছিলো এবং ২০১৪ সালে যার মূল্যমান দাঁড়ায় ৩৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।


৭. জন ডি. রকফেলারঃ
জীবনকাল: ১৮৩৯-১৯৩৭
দেশ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
সম্পদের পরিমাণ: ৩৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। জন ডি. রকফেলার আমেরিকাতে তেল ব্যবসা শুরু করেন ১৮৬৩ সালে এবং ১৮৮০ সালের মাঝে তার কোম্পানি আমেরিকার প্রায় ৯০% তেল উত্তোলনের সাথে জড়িত ছিলো। টাইমস ম্যাগাজিনের মতে, ১৯১৮ সালে রকফেলারের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিলো তৎকালীন ১.৮ বিলিয়ন ডলার, যেটি ছিলো আমেরিকার মোট জিডিপির ২%। ২০১৪ সালের অর্থনীতির হিসেবে যেটির মূল্যমান প্রায় ৩৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।


৮. অ্যালান রুফুস (অ্যালান দ্য রেড)
জীবনকাল: ১০৪০-১০৯৩
দেশ: ইংল্যান্ড
সম্পদের পরিমাণ: ১৯৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অ্যালান রুফুস ছিলেন উইলিয়াম দ্য কনকোয়ারারের ভাতিজা। খুব অল্প বয়সেই তিনি তার চাচার সাথে বিশ্বজয়ে যোগ দেন। ‘The Richest of the Rich’ বইয়ের লেখক ফিলিপ বেরেসফোর্ড এবং বিল রুবেনস্টেইনের মতে, মারা যাওয়ার সময়ে রুফুস ১১ হাজার পাউন্ডের মালিক ছিলেন, যেটি সেসময়ে পুরো ইংল্যান্ডের মোট জিডিপির প্রায় ৭% ছিলো। ২০১৪ সালের ডলার মূল্যে রূপান্তর করলে যেটির মূল্যমান দাঁড়ায় ১৯৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।


৯. বিল গেটসঃ
জীবনকাল: ১৯৫৫- বর্তমান
দেশ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বিল গেটস। তবে বিশ্বের ইতিহাসে তার অবস্থান নবম। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাবে বর্তমানে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৮৯ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (অক্টোবর, ২০১৭)। আধুনিক যুগের মানুষ হওয়ার কারণে বিল গেটসের সম্পদের পরিমাণ মাপা অনেকটাই সহজ। ফোর্বসের মতে, বর্তমান দুনিয়ার সেরা ধনী মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, যার সম্পদ দ্বিতীয় ধনী আমানসিও ওর্তেগার চেয়ে ৮ বিলিয়ন বেশি। বিল গেটস স্থান করে নিয়েছেন এই তালিকার নয় নাম্বারে।


১০. চেঙ্গিস খানঃ
জীবনকাল: ১১৬২- ১২২৭
দেশ: মোঙ্গল সাম্রাজ্য
সম্পদের পরিমাণ: একরের পর একর জমি, হিসেব নেই। পৃথিবীর ইতিহাসে চেঙ্গিস খানকে সর্বকালের অন্যতম সেরা সামরিক নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চেঙ্গিস খানের সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিলো সুদূর চীন থেকে ইউরোপ পর্যন্ত। এত বড় সাম্রাজ্যের মালিক হলেও, অনেক ইতিহাসবিদদের মতে চেঙ্গিস খানের সম্পদের পরিমাণ সে তুলনায় কম ছিলো। এটির একটি কারণ হচ্ছে, চেঙ্গিস খান তার লুটপাটের মাল সৈন্যসামন্ত এবং অন্যদের সাথে ভাগ বাটোয়ারা করতেন। এই বিষয়ে কানি কুইন্স কলেজের প্রফেসর মরিস রোসাব্বি বলেন, “চেঙ্গিস খানের সাফল্যের একটি রহস্য ছিলো, তিনি তার লুটকৃত মালামাল সৈন্য এবং কমান্ডারদের সাথে ভাগাভাগি করতেন”।
জ্যাক ওয়েদার ফোর্ড বলেন, “আধুনিক যুগের আগের অন্য সৈন্যদের মতো চেঙ্গিস খানের সৈন্যদলের ব্যক্তিগতভাবে লুট নেয়ার কোনো অনুমতি ছিলো না। বরং কোনো জায়গা দখলের পর তারা সমস্ত লুট সরকারি কোষাগারে জমা দিতো এবং পরবর্তীতে সবার মাঝে ভাগ করে দেয়া হতো।” চেঙ্গিস খানও এই লুটের ভাগ পেতো, কিন্তু যেটুকু পেতো সেটি তাকে অনেক ধনীতে পরিণত করেনি, বরং তিনি খুবই সাধারণ ছিলেন। তিনি নিজের জন্য বা তার পরিবারের জন্য কোনো প্রাসাদ বানাননি, বানাননি কোনো মন্দির অথবা রাজকীয় কবর। জ্যাক ওয়েদার ফোর্ড আরও বলেন, তিনি তাঁবুতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং মারাও গেছেন সেই তাঁবুতেই, একজন সাধারণ মানুষের মতোই। দেহ খাবে পোকে, আর সম্পদ খাবে লোকে। কি হবে এত সম্পদ দিয়ে।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৫৯
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালো লাগে

লিখেছেন আরমান আরজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৮

এরা কারা, কী এদের পরিচয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:৪৮


যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, ঠিক তাই ঘটছে। ‘আজাদ পার্টি’ নামের একটি নতুন ভূঁইফোড় রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে গতকাল ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে যে মিছিল এবং ঘেরাও কর্মসূচি করা হলো, তা কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×