somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রখ্যাত সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

১৭ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আনোয়ার পারভেজ হচ্ছেন বাংলা সঙ্গীতের অন্যতম সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক,ক সঙ্গীতজ্ঞ ও শব্দসৈনিক। বিবিসির জরিপে যে ২০টি বাংলা গান সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বলে স্বীকৃতি পেয়েছে, তার মধ্যে আনোয়ার পারভেজেরই সুরারোপিত গান তিনটি। এগুলো হচ্ছে- ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘একবার যেতে দে না আমায় ছোট্ট সোনার গাঁয়’ এবং ‘একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল’।আনোয়ার পারভেজের পেশাদার সঙ্গীত জীবনের শুরু হয় ষাটের দশকের গোড়ায়, চট্টগ্রাম বেতারে সুরকার পদে যোগ দেয়ার মাধ্যমে৷ পরবর্তীতে ঢাকায বিভিন্ন মাধ্যমে সংগীত পরিচালনা শুরু করেন। অতুলনীয় ও উত্তেজনাপূর্ণ সুরে সাজানো, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সবচেয়ে বহুল প্রচারিত জনপ্রিয় গান ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ অসংখ্য দেশপ্রেমিক তরুণকে যুদ্ধে যোগদানে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েছে আত্মবিশ্বাস। খ্যাতিমান এই সুরকারের ভাই ও বোন নিজ নিজ নামে তিনজনই পরিচিত এবং দেশের স্বনামধন্য নায়াক, গায়ক ও খ্যাতিমান গায়িকা। আনোয়ার পারভেজ, শাহনাজ রহমতুল্লাহ ও জাফর ইকবাল; তারা তিনজনই একই পরিবারের সন্তান। তার মধ্যে আনোয়ার পারভেজ সবার বড়, জাফর ইকবাল মেজ এবং শাহনাজ রহমতুল্লাহ সবার ছোট। নিজস্ব গুণে সমৃদ্ধ করেছেন লাল সবুজের এই দেশের সংস্কৃতি। আনোয়ার পারভেজ সুর ও সঙ্গীতায়োজন দিয়ে, শাহনাজ রহমতুল্লাহ গান গেয়ে এবং জাফর ইকবাল সিনেমায় অভিনয় ও গান গেয়ে জয় করেছেন বাংলার প্রতিটি মানুষের মন। হয়েছেন কিংবদন্তি। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের অন্যতম ব্যবসাসফল ছবি ‘রংবাজ’র সুরকারও ছিলেন আনোয়ার পারভেজ। সে সময় ‘সে যে কেন এলো না কিছু ভালো লাগে না’ বা ‘এই পথে পথে আমি একা চলি’ গানগুলো মানুষের মুখে মুখে শোনা যেত৷ এছাড়া ‘দি রেইন’ চলচ্চিত্রে সঙ্গীতায়োজন করেও তিনি সমালোচকদের দৃষ্টি কেড়েছিলেন৷ চার দশকের সঙ্গীত জীবনে তিনি সহস্রাধিক গানে সুরারোপ করেছেন। মৃত্যুর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন অন্তরের অন্ত:স্থলের আক্ষেপ অনেক ভালো গানের সুর করেও তিনি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া হয়নি তার। পরে সঙ্গীতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০৭ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে। কালোত্তীর্ণ গানের সুরকার আনোয়ার পারভেজের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৬ সালের ১৭ জুন এই খ্যাতিমান ও প্রতিভাধর সুরকার ধরণীর মায়া ত্যাগ করে চিরবিদায় নেন। প্রখ্যাত সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক ও সঙ্গীতজ্ঞ আনোয়ার পারভেজের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।


(আনোয়ার পারভেজ, শাহনাজ রহমতুল্লাহ ও জাফর ইকবাল)
আনোয়ার পারভেজ আনুমানিক ১৯৪৪ সালে (জন্মতারিখ অজ্ঞাত) ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার পৈত্রিক নিবাস সিরাজগঞ্জে। তার পিতা এম ফজলুল হক ও মাতা আসিয়া হক। ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি তাঁর প্রবল ঝোঁক ছিল। এক সময় প্রখ্যাত মিউজিশিয়ান করিম শাহাবুদ্দিনের সংস্পর্শে আসেন তিনি। ‘চাঁদ আওর চাঁদনী’ ও ‘বাবলু’ ছবিতে করিম শাহাবুদ্দিনের সহযোগী সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন তিনি। আনোয়ার পারভেজ ষাটের দশকে পেশাদার সঙ্গীত জীবন শুরু করেন, চট্টগ্রাম বেতারে সুরকার হিসেবে যোগ দেন৷ পরে ঢাকায় এসে বিভিন্ন মাধ্যমে সঙ্গীত পরিচালনা করেন। তাঁর সুরারোপিত প্রথম ছবি ‘বিন্দু থেকে বৃত্ত’ মুক্তিপায় ১৯৭০ খৃষ্টাব্দে।ষাটের দশকের গোড়ায় তিনি পেশাদার সঙ্গীত জীবন শুরু করেন চট্টগ্রাম বেতারে সুরকার পদে যোগ দিয়ে৷ পরে ঢাকায় এসে বিভিন্ন মাধ্যমে সঙ্গীত পরিচালনা করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে "জয় বাংলা বাংলার জয়" গানের সুর করেন। এছাড়া তার সুরকৃত শাহনাজ রহমতুল্লাহর কণ্ঠে "একতারা তুই দেশের কথা" ও "একবার যেতে দে না আমার" গান দুটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। স্বাধীনতার পরই বাংলাদেশের একটি অন্যতম ব্যবসাসফল ছবি রংবাজ-এর সুরকারও ছিলেন তিনি৷ সে সময় "সে যে কেন এলো না কিছু ভালো লাগে না" বা "এই পথে পথে, আমি একা চলি"- এ গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে৷ এছাড়া দি রেইন (১৯৭৬) চলচ্চিত্রে সুর করেও তিনি সমালোচকদের দৃষ্টি কেড়েছিলেন৷ সঙ্গীত জীবনের ৪০ বছরে দুই হাজারেরও বেশি গানে সুর দিয়েছেন৷আনোয়ার পারভেজ যেসব চলচ্চিত্রে সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য- জয় বাংলা, কত যে মিনতি, ছন্দ হারিয়ে গেল, রংবাজ, বন্দিনী, শনিবারের চিঠি, দি রেইন, মাটির মায়া, কার পাপে, রূপের রাণী চোরের রাজা, জোকার, বেদ্বীন, লুটেরা, মোকাবেলা, ওমর শরীফ, সোহাগ মিলন, ডার্লিং, মধু মালতী, মানসী, বদনাম, ঘরের বউ, স্বামীর ঘর, সোনার হরিণ, তালাক, সকাল সন্ধ্যা, অভিযান, রাজিয়া সুলতানা, ঘরে বাইরে, সুখ-দুঃখের সাথী, মা-বাবা, মাটির কোলে, হিমালয়ের বুকে, ঢাকা-৮৬, জবরদস্ত, জীনের বাদশা, ছুটির ফাঁদে, মৌমাছি, সাবাশ বাঙ্গালী, বউ শাশুড়ীর যুদ্ধ, ইত্যাদি।


ব্যক্তিগত জীবনে আনোয়ার পারভেজ জেসমিন পারভেজের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জেসমিন পারভেজ ছিলেন অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি প্রস্টেট ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ২০০৫ সালে তা তার হার্ট অবধি ছড়িয়ে পড়েছিল৷২০০৬ সালের ১৭জুন মরণব্যাধি আক্রান্ত করে সঙ্গীতজ্ঞের হৃদপিন্ড। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর সাথে সাথে তিনি কোমায় চলে যান এবং ১৭জুন মধ্যরাতে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়৷জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা একজন সুরকার আনোয়ার পারভেজ। প্রতিভাবান এই সঙ্গীতজ্ঞ আমাদের দিয়ে গেছেন অসংখ্য ভালো গান, শ্রুতিমধুর সুরে। অথচ আমরা তাঁর জীবদ্দশায় তাকে যথাযথ সম্মান- স্বীকৃতি কিছুই দিতে পারিনি। একজন দেশপ্রেমিক সুরকার, তাঁর কাজের যথাযথ স্বীকৃতি না পেয়ে, পুঞ্জিভূত পাহাড়সম অভিমান বুকে নিয়ে নিরবে-নিভৃতে চলে গেলেন জীবনের সীমানা ছাড়িয়ে। বাংলাদেশের সঙ্গীতাকাশে আনোয়ার পারভেজ ধ্রুবতারা হয়ে থাকবেন চিরদিন–অমলিন।কালোত্তীর্ণ গানের সুরকার আনোয়ার পারভেজের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। প্রখ্যাত সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক ও সঙ্গীতজ্ঞ আনোয়ার পারভেজের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৫:১১
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালো লাগে

লিখেছেন আরমান আরজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৮

এরা কারা, কী এদের পরিচয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:৪৮


যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, ঠিক তাই ঘটছে। ‘আজাদ পার্টি’ নামের একটি নতুন ভূঁইফোড় রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে গতকাল ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে যে মিছিল এবং ঘেরাও কর্মসূচি করা হলো, তা কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×