somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হ্যালির ধূমকেতু, ফিরে আসা বার বার

০৪ ঠা জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হ্যালির ধূমকেতু। প্রখ্যাত ইংরেজি জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমান্ড হ্যালির নামানুসারে এই ধূমকেতুর নামকরণ করা হয়েছে । এর জ্যোতির্বিজ্ঞান নাম ১পি/হ্যালি। এই ধূমকেতু খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায়। প্রতি ৭৫-৭৬ বছর পরপর পৃথিবীর আকাশে দৃশ্যমান হয়ে উঠা একটি ধূমকেতু।১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দের আজকের দিনে এই ধূমকেতুকে শেষবারের মত দেখা গিয়েছিল। হ্যালির ধূমকেতু হল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ধূমকেতু। এটাকে ক্ষণস্থায়ী ধূমকেতু বলা হয় কারণ সে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২০০ বছরের কম সময় নেয়। আজ থেকে হাজার বছর পূর্বেও মানুষ এই ধূমকেতু দেখত বলে জানা যায়। ব্যাবিলন, চীন এবং ইউরোপে পর্যবেক্ষকরা তখন হ্যালির ধূমকেতু দেখেছেন বলে নথিপত্রে লিখে রেখেছেন। ভারতের তামিল চের বংশের রাজা মানতারাণ ইরুম্পুরাই এর মৃত্যুর বছর, ১৪১ খ্রীস্টাব্দে, হ্যালির ধূমকেতুর দর্শনের কথা তামিল কাব্য পুরাণানুতে নথিবদ্ধ করা আছে। তবে সব ধূমকেতুর ভাগ্য হ্যালির ধূমকেতুর মতো হয় না। সূর্যের প্রবল উত্তাপে অনেক ধূমকেতু ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়। যেমন ২০১২ সালে আবিষ্কৃত আইসন ধূমকেতু সূর্যের কাছে প্রথম পাক লাগানোর সময়ই ভেঙে পড়ে।


ধূমকেতু মহাকাশের এক আজব বস্তু। মাঝে মাঝেই আকাশে ধূমকেতুর উদয় হয়। কিছুদিন পর আবার তা হারিয়ে যায়। দেখতে অনেকটা ঝাড়ুর মতো। কোনো কোনো ধূমকেতুর আবার লেজ আছে। এগুলো খুবই উজ্জল। দেখলে মনে হয় যেন আলোর তৈরি কোনো ঝাড়ু। আসলে ধুলো, বরফ ও গ্যাস দিয়ে তৈরি একধরনের উজ্জল বস্ত। ধূমকেতুর চলার পথ গোলাকার নয়। বেশ লম্বাটে। তাই প্রতিবছর একই ধূমকেতু দেখা যায় না। তবে একটা ধূমকেতু নির্দিষ্ট সময় পর পর ফিরে আসে। ধূমকেতু যখন সূর্যের খুব কাছ দিয়ে যায়, তখন আমরা একে দেখতে পাই। ধূমকেতুর মাথার গোল অংশটাকে বলে নিউক্লিয়াস। সব ধূমকেতুর আকার একরকম নয়। কিছু ধূমকেতুর প্রস্থ মাত্র কয়েক’শ মিটার মাত্র। কিছু ধূমকেতর প্রস্থ আবার ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়। এদের লেজের দৈর্ঘ্য কয়েক’শ কোটি কিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ধূমকেতু উল্কা বা গ্রহাণু থেকে আলাদা। কারণ এদের দেহ ও লেজের স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। কিছু ধূমকেতু সূর্যের খুব কাছ দিয়ে বারবার আসা-যাওয়া করে। সূর্যের তাপের প্রভাবে এদের বরফ ও ধূলাবালি ক্ষয় হয়। ফলে লেজ হারিয়ে গ্রহাণুর মতো বস্তুতে পরিণত হয়। এ পর্যন্ত মোট ৫৩৮৪ টি ধূমকেতু পর্যবেক্ষণ করা গেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন একশ কোটিরও বেশি ধূমকেতু রয়েছে আমাদের সৌরজগতে। হ্যালির ধুমকেতুটিকে সর্বশেষ দেখা গেছে ১৯৮৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। আশাকরা যায় আবার ২০৬১ সালের ২৮ জুলাই একে পৃথিবীর আকাশে দেখা যাবে।


ধূমকেতুর দর্শন খুব কম হওয়ার কারণে এ নিয়ে মানুষের মনে অনেক অহেতুক কুসংস্কারের অস্তিত্বও আছে।প্রতি ৭৫ বা ৭৬ বছর পরপর খালি চোখে এ ধূমকেতু দেখা যায় পৃথিবী থেকে। ১৯৮৬ সালে সর্বশেষ একে দেখা যায়। আশা করা যায় ২০৬১ খ্রিষ্টাব্দে এটি আবার পৃথিবীর আকাশে দেখা দেবে। ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি সর্বপ্রথম এই ধূমকেতুর সূর্যকে কেন্দ্র করে একবার ঘোরার সময়কাল বের করেন। তার নামানুসারেই এই ধূমকেতুর নামকরণ করা হয়। ১৯৮৬ সালে যখন শেষবার এটি দৃশ্যমান হয় তখন বিজ্ঞানীরা আকাশযান ব্যবহার করে এটি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান। এ সুযোগে পুরনো অনেক তথ্য ও ধারণা যাচাই করে নেওয়ার পাশাপাশি কিছু ভুল ধারণাও শুধরে নেওয়া সম্ভব হয়। যেমন আগে ধারণা ছিল এতে গলন্ত বরফের পরিমাণ অনেক বেশি। কিন্তু এ পর্যবেক্ষণে প্রমাণিত হয় আসলে এর পরিমাণ অনেক কম। লেজের মতো দেখতে অংশটির আসল নাম ‘কোমা’, যা কিনা পানি ও কার্বনডাই অক্সাইডের বাষ্প নিয়ে তৈরি। হ্যালির ধূমকেতুর কোমা লম্বায় ১০০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, অথচ এর নিউক্লিয়াস আকারে অনেক ছোট, যেটি লম্বায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার, প্রস্থে ৮ কিলোমিটার এবং ৮ কিলোমিটার পুরু।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:৩২
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলামী ব্যাংক - সবার ভাবী !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×