
যাঁরা চরম আত্মত্যাগ করে, মানব সেবায় ব্রতী হয়েছেন, যাঁরা মানব কল্যাণে, মানবের উন্নতি সাধনে নিজেদের জীবন উত্সর্গ করেছেন জাতিসংঘের নির্দেশনায় তাঁদের উদ্দেশ্যে বিশ্বজুড়ে প্রতি বৎসর ঊনিশে আগস্ট সারা বিশ্বে উদযাপিত হয় - বিশ্ব মানবতা দিবস। সারা বিশ্বে কমবেশি তেরো কোটি মানুষ কেবল মানবিক সহায়তার উপর ভর করে বেঁচে আছে। এদের যদি এক সাথে দলবদ্ধ করে পৃথিবীর কোন স্থানে আশ্রয় দেওয়া হয়,তাহলে সেটি পৃথিবীর দশম জনবহুল দেশ হিসাবে পরিগণিত হবে। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং তীব্র অরক্ষিত অবস্থার মধ্যে বসবাসকারী এমন অসহায় মানুষের জীবনে প্রয়োজন সেরগিও ভিয়েরা দ মেলো এর মত মানুষের একটু সাহায্যের হাতের পরশ। অপরদিকে বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি। এদের মানবিক সেবা দিচ্ছেন কয়েক লাখ মানবতাকর্মী। সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক কিংবা মানবতাকর্মীরাই যে কেবল মানবতার ডাকে সাড়া দেন; তা নয়। সংকটাপন্ন মানুষেরাও অনেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন মানবতাকর্মে। মাঝে মাঝে এই মানবতাকর্মীরাও পরিণত হন লক্ষ্যবস্তুতে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক নানা কারণে প্রতি দুই সেকেন্ডে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন একজন করে মানুষ। সংকটাপন্ন এসব মানুষকে মানবিক সেবা দিতে গিয়ে প্রাণ উৎসর্গ করছেন মানবতাকর্মীরা। ২০০৩ সালের ১৯ আগস্ট ইরাকে জাতিসংঘ কার্যালয় এক বোমা হামলার শিকার হয়। এতে ২২জন কর্মকর্তা নিহত হন। এই দিনটি পৃথিবীর সেই সব মানুষের কথা মাথায় রেখে যাঁরা চরম আত্মত্যাগ করেও মানুষের সেবায়, তাঁদের উন্নতি সাধনে নিজেদের জীবন উত্সর্গ করেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৮ সালে সিদ্ধান্ত নেয় যে, ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর ১৯ আগস্টে বিশ্ব মানবতা দিবস পালিত হবে। সে হিসেবে আজ দ্বাদশ বিশ্ব মানবতা দিবস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক ও বেসরকারী সংস্থাকে এ দিবস পালনের আমন্ত্রণ জানায়, যাতে এর মাধ্যমে সারা বিশ্বের সাধারণ নাগরিকদের মানবিক কাজের প্রতি সমর্থন জোরদার করা যায়। মানবিক সংকট কমে আসুক; শান্তিপূর্ণ একটি পৃথিবী হোক; এম ৎনই প্রত্যাশা মানবতাকর্মীদের।

সেরগিও ভিয়েরা দ মেলো ব্রাজিলের জাতিসংঘের কূটনীতিক এবং ৩৪ বৎসরেরও বেশি সময় ধরে মানবিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফ থেকে তিনি আরও একুশ জন সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইরাকে বাগদাদে গিয়েছিলেন। সেখানে বিরূপ পরিস্থিতিতে বোমার হামলায় মৃত্যু হয় তাঁদের। কিন্তু তাঁর এই চরমতম পরিস্থিতির আগে প্রায় তিরিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যাঁরা যুদ্ধে সব হারিয়েছেন, সেই সব সর্বহারা মানুষের পাশে নিঃস্বার্থভাবে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কোনও কিছুই তাঁকে তাঁর ব্রত থেকে টলাতে পারেনি। তাঁর সেই মহান ব্রত যাতে থমকে না যায়, সেজন্য গঠিত হয়েছে সেরগিও ভিয়েরা দ মেলো ফাউন্ডেশন। তাদের উদ্যোগে এবং ফ্রান্স, সুইত্জারল্যান্ড, জাপান এবং ব্রাজিলের মতো সদস্য দেশের সহায়তায় সেরগিও ভিয়েরা দ মেলো ও তাঁর সহকর্মীদের প্রয়াণ দিবসটিকে জাতিসংঘ ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের A/63/L.49 নম্বর সিদ্ধান্ত অনুসারে "বিশ্ব মানবতা দিবস" হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে এবং ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ১৯ শে আগস্ট প্রথম বিশ্ব মানবতা দিবস পালিত হয়। তদানুসারে প্রতি বৎসর বিভিন্ন ভাবনায় তথা প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে সারা বিশ্বে সদস্যদেশগুলি বিশ্ব মানবতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করে আসছে। তবে ভিন্ন ভিন্ন ভাবনায় প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে উদযাপিত হলেও আসল লক্ষ্যে স্থির। যুদ্ধ, দুর্যোগ এবং তীব্র অরক্ষিত অবস্থার মধ্যে বসবাসকারী মানুষের জীবন রুপান্তর করতে প্রতিশ্র্রুতিবদ্ধ। দ্বাদশ বিশ্ব মানবতা দিবসে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং তীব্র অরক্ষিত অবস্থার মধ্যে বসবাসকারী মানুষের হাত ধরবে — পাশে থাকবে মানবতাকর্মী এই প্রত্যাশা আমাদের সবার।
নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



