
এক সময়ের সাড়া জাগানো অভিনেতা আব্দুস সাত্তার । আব্দুস সাত্তার অসংখ্য টিভি নাটকে অভিনয়ের পাশা পাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন। আবদুস সাত্তার চার শতাধিক সিনেমায় কাজ করেছেন। এছাড়া অসংখ্য নাটকে কাজ করেছেন। তিনি ‘আমির সওদাগর ভেলুয়া সুন্দরী’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেন। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন বিখ্যাত নির্মাতা ইবনে মিজান। তবে ‘সাতভাই চম্পা’ সিনেমায় অভিনয় করে বেশ পরিচিতি লাভ করেন। ২০১২ সালে অসুস্থ হওয়ার আগে সাত্তার প্রায় ১২০টি সিনেমায় কেন্দ্রিয় চরিত্রে অভিনয় করেন। আশির দশকে তার সঙ্গে রোজিনা-অঞ্জু ঘোষ ছিল জনপ্রিয় জুটি। ১৯৮৪ সালে এফডিসির নতুন মুখের সন্ধানে মান্না, সোহেল চৌধুরী, দিতিদের সঙ্গে সাত্তারও উঠে আসেন। এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে পোশাকী সিনেমার অপরিহার্য নায়ক হয়ে ওঠেন। তার অভিনীত সিনেমার মধ্য দিয়ে এদেশে পূর্ণাঙ্গ রঙিন সিনেমার যুগ শুরু হয়। সাত্তারের জনপ্রিয় সিনেমার মধ্যে রঙিন রূপবান, রঙিন রাখাল বন্ধু, রঙিন কাঞ্চনমালা, রঙিন রাম লক্ষণ, অরুণ বরুণ কিরণ মালা, মধুমালা মদন কুমার, আলোমতি প্রেম কুমার, শুভদা অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ হয়ে থাকা আব্দুস সাত্তার ২০১৮ সালের আজকের দিনে নারায়ণগঞ্জের পৈত্রিক বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘদিন তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুতে গুণী একজন অভিনয় শিল্পীকে হারিয়েছে। বাংলাদেশ।আজ তার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্য গুণী এই অভিনেতার মৃত্যুতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আব্দুস সাত্তার ১৯৫৮ সালের ২৬ মে মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরে জমিদারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে মুন্সীগঞ্জ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মার্স্টাস করেন। দেশের চলচ্চিত্র, টিভি ও নাট্যাঙ্গনের অনেক পুরনো মুখ আব্দুস সাত্তার। বিটিভির ঈদের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘আনন্দমেলা’য় তার উপস্থিতি মানে ছিল বিরাট আনন্দময় ব্যাপার। জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে নিয়মিত অভিনয় করতেন তিনি। নব্বই দশকে বিটিভির আরেক জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘শুভেচ্ছা’য় ভুলভুল ভাই নামে একটি মজার চরিত্রে অভিনয় করতেন। তার সেই অভিনয় দেখে মঞ্চে দর্শকরা হেসে গড়াগড়ি খেত। আব্দুস সাত্তার শুধু অভিনেতা নয়, আবদুস সাত্তার সিনেমাও নির্মাণ করেছেন। দেশের চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের অনেক পুরনো মুখ আব্দুস সাত্তার। শুধু চলচ্চিত্রে নয়, মঞ্চনাটকেও তার বিচরণ ছিল। নিয়মিত মঞ্চনাটক রচনা, নির্দেশনা এবং অভিনয়ে রেখেছেন অবদান। অভিনয় করেছেন দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে। কর্মজীবন শুরু করেন সচিবালয়ে। সর্বশেষ থিতু হয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকে। তার রচিত বিদ্যালঙ্কার প্রেস নাটকটি মঞ্চসফল নাটক। আব্দুস সাত্তার এ পর্যন্ত নাটক লিখেছেন তিন শতাধিক। অভিনয়ের সঙ্গে অনেক ছায়াছবির কাহিনী ও চিত্রনাট্যকার হিসেবেও অবদান রেখেছেন। নির্মাণ করেছেন ছায়াছবি 'অশান্ত ঢেউ', 'রাখে আল্লাহ মারে কে', 'ফয়সালা', 'বদনসীব', 'চাচা ভাতিজা' ইত্যাদি। ২০১২ সালে স্ট্রোক করে প্যারালাইসড হয়ে নারায়ণগঞ্জের পৈত্রিক বাড়িতে থাকতেন। পাশাপাশি উচ্চচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। সংবাদপত্রের মাধ্যমে তার দুরাবস্থার কথা জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তাকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিলেন। আব্দুস সাত্তার ২০১৮ সালের ২০ আগস্ট রাত ২ টায় নারায়ণগঞ্জের পৈত্রিক বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। মরহুম আব্দুস সাত্তারের মরদেহ দাফন করা হবে শাহজাহানপুর গোরস্থানে। আজ মরহুমের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। প্রবীণ এই অভিনেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি
[নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



