somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর মোহাম্মদ নূরু
নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

স্বাধীনতার মাসঃ অগ্নিঝরা ৪ঠা মার্চ

০৪ ঠা মার্চ, ২০২১ দুপুর ১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ ০৪ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯ রজব ১৪৪২। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে বছরের ৬৩ তম দিন। ১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। বিজয়ের এ পথ-পরিক্রমা একদিকে যেমন রক্তাক্ত ছিল, তেমনি বিশ্ব মানচিত্রে আলাদা একটা অবস্থান তৈরিও সহজ ছিল না। এরপরও অনেক দেশই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আবার বিজয়ের পর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী কিংবা পাকিস্তানের পক্ষের অনেক দেশও পরিস্থিতির কারণে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে শ্রীলঙ্কা।


১৯৭২ সালের আজকের দিনে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কা দক্ষিণ এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। ইতিহাস শুরু আজ থেকে ৩০,০০০ বছর আগে যখন প্রথম এই দ্বীপে জনবসতি স্থাপিত হয়। শ্রীলংকার ঐতিহাসিক কাল শুরু হয় তৃতীয় শতাব্দীতে। উত্তর ভারত থেকে সিংহলিদের আগমনের কথা পালি ইতিহাসে রয়েছে। শ্রীলংকার সরকারি নাম গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রী শ্রীলঙ্কা। ১৯৭২ সালের আগে এই দ্বীপ সিলন নামেও পরিচিত ছিল। তবে বর্তমানে এটি সরকারীভাবে গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রি শ্রীলংকা (Democratic Socialist Republic of Sri Lanka) নামে পরিচিত। শ্রীলঙ্কায় বহু সংস্কৃতি, ভাষা এবং জাতিগোষ্ঠীর বাসস্থান। জনসংখ্যার সিংহভাগই সিংহলি জাতিগোষ্ঠীর, অন্যদিকে তামিলদের একটি বৃহৎ সংখ্যা (সংখ্যালঘু) দ্বীপ দেশটির ইতিহাসে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে চলেছে। দেশটিতে মুরস, বার্গার্স, মালয়েশিয়ান, চীনা এবং আদিবাসীদেরও দেখা যায়।


এছাড়াও এ দিনে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে কাতার।সালের ৪ মার্চ বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে কাতার। কাতার পারস্য উপসাগরের একটি দেশ। কাতারের সরকারী নাম “স্টেট অফ কাতার”। এটি পারস্য উপসাগরের একটি দেশ। এটি আরব উপদ্বীপের পূর্ব উপকূল থেকে উত্তর দিকে প্রসারিত কাতার উপদ্বীপে অবস্থিত। কাতারের দক্ষিণে সৌদি আরব এবং এর পশ্চিমে দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন অবস্থিত। আরব উপদ্বীপের মত কাতারও একটি উত্তপ্ত এবং শুষ্ক মরু এলাকা। এখানে ভূ পৃষ্ঠস্থ কোন জলাশয় নেই । প্রাণী ও উদ্ভিদের সংখ্যাও যৎসামান্য। কাতারের রাজধানী হচ্ছে দোহা। এই দেশের বেশিরভাগ লোক শহরে, বিশেষত রাজধানী দোহাতে বসবাস করে। দেশটিতে খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ আছে। সেই প্রাকৃতিক সম্পদের কারণেই দেশটির অর্থনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯শ শতকের শেষভাগ থেকে আল থানি গোত্রের লোকেরা কাতার অঞ্চলটিকে একটি আমিরাত হিসেবে শাসন করে আসছেন। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে দেশটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে। ১৯৭১ সালে এটি পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্তও এটি একটি তুলনামূলকভাবে দরিদ্র দেশ ছিল। সে সময় দেশটিতে পেট্রোলিয়ামের মজুদ আবিষ্কৃত হয় এবং সেগুলি উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমানে মাথাপিছু আয়ের হিসেবে কাতার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলির একটি। কাতারে জনসংখ্যায় নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা অনেক বেশি। দেশটির মোট জনসংখ্যা ২৫ লাখের মতো। কাতারের মানুষদের কোন রকম ট্যাক্স দিতে হয়না। তবে এই দেশের ১ শতাংশেরও কম মানুষ বেকার।


১৯৭২ সালের ৪ মার্চ প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব ১ ও ১০০ টাকার ব্যাংক নোটের প্রচলন হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম হলেও শুরুটা ছিল ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে। তখন দেশে পাকিস্তান রূপির প্রচলন ছিল, যেটিকে কাগজে-কলমে টাকাও বলা হতো। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা বেসরকারিভাবে পাকিস্তানি টাকার একপাশে ‘বাংলা দেশ’ এবং অপর পাশে ‘Bangla Desh’ লেখা রাবার স্ট্যাম্প ব্যবহার করতেন। ১৯৭১ সালের ৮ জুন পাকিস্তান সরকার এই রবার স্ট্যাম্প যুক্ত টাকাকে অবৈধ এবং মূল্যহীন ঘোষণা করে। জানা যায় এরপরেও ১৯৭৩ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত এই রাবার-স্ট্যাম্পযুক্ত পাকিস্তানি টাকা চলেছিল সারা দেশে। এরপর বাংলাদেশ স্বাধীন হলো ১৯৭১ সালে এবং নতুন মুদ্রা প্রচলনের ঘোষণা দেয়া হয়। তাতে সময় লেগেছিল তিন মাসের মতো। তাই ঐ সময়ে পাকিস্তানি রুপিই ব্যবহৃত হতো। ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ বাংলাদেশি কারেন্সিকে ‘টাকা’ হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। ১ টাকার নকশায় বাংলাদেশের মানচিত্র ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ কথাটি স্থান পায় এবং তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন সে সময়ের অর্থসচিব কে এ জামান। অন্যদিকে ১০০ টাকার নকশায় দেখা যায় বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং তাতে লেখা থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০০ টাকার ব্যাংক নোটটি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর এ এন হামিদ উল্ল্যাহ্ স্বাক্ষরিত। ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ এ নোট প্রচলনের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম নিজস্ব কাগুজে মুদ্রা চালু হয়। যেদিন এ নোট দেশের বাজারে ছাড়া হয় সেদিনই বাংলাদেশি কারেন্সিকে 'টাকা' হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। এক টাকার ওই নোট ছাপা হয় ইন্ডিয়ান সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসে। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এ নোটের চল ছিল। ১৯৭২ সালেই বাংলাদেশ ব্যাংক আরো দুটি নোট চালু করে- ৫ টাকা, ১০ টাকা। ৫ টাকার নোটটি প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ইস্যু করা হলেও বর্তমানে তা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইস্যু করা হয়। আজ প্রথমবারের মতো দেশে পালিত হচ্ছে ‘টাকা দিবস’। ব্যাংক নোটবিষয়ক তথ্য ও গবেষণাধর্মী পত্রিকা ‘কালেক্টার’–এর পক্ষ থেকে দিনটি উদ্‌যাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টাকা ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। গত ৫০ বছরে এই বিশেষ দিনটি আমরা উদ্‌যাপন করিনি।


১৯৭১ সালের আজকের দিনে রেডিও পাকিস্তান ঢাকার পরিবর্তে ঢাকা বেতার কেন্দ্র নামকরণ করা হয়। এই অঞ্চলে বাংলাদেশ ঢাকাতে রেডিও সম্প্রচার শুরু হয় ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৩৯ সালে। প্রথম দিকে কেন্দ্রটি পুরনো ঢাকায় নাজিমুদ্দিন রোডে একটি ভাড়া করা বাড়িতে (বর্তমানে যেটি শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ) যাত্রা শুরু করে। প্রথম নামকরণ করা হয় “ঢাকা ধ্বনি বিস্তার কেন্দ্র”। পরবর্তীকালে যা রেডিও পাকিস্তান নামে পরিচিত ছিলো। রেডিওটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৭১ সালের ৪ মার্চ রেডিও পাকিস্তান ঢাকার পরিবর্তে ঢাকা বেতার কেন্দ্র নামকরণ করা হয়।

সূত্রঃ বিভিন্ন ওয়েবসাইড/উইকিপিডিয়া। ছবি নেট থেকে সংগৃহীত।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
ব্রেকিং নিউজ২৪.কম :-& ফেসবুক-১ :-& ফেসবুক-২
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০২১ রাত ১২:৫২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×