অনিরাপদ দেশপ্রেম এবং নিরাপত্তাহীন জীবন ।
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দেশপ্রেম ! পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যে সে দেশের মানুষের তাঁর দেশের প্রতি প্রেম নেই ।
নিজ দেশের আলো বাতাস আর মানুষের ভালোবাসার চেয়ে দামি কি বা হতে পারে। ঘুম থেকে উঠেই প্রিয় মানুষের মুখ দেখা আর নিজ সংস্কৃতিতে প্রতিদিন জীবনের জয়গান করা । তবুও বৃহৎ মধ্যবিত্ত শ্রেণী দ্বারা প্রভাবিত এই বাংলাদেশ আজ অনেক রকমের সমস্যায় আক্রান্ত । মধ্যবিত্ত শ্রেণীরা কোন কিছু থেকেই সম্পূর্ণ মুক্তি নিতে পারে না । প্রতিদিন নানা রকম ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে মধ্যবিত্তদের এগিয়ে যেতে হয়। আমাদের সমাজে একটু ভাল রোজগার আর একটু নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশায় অনেকেই প্রবাসে কাটিয়ে দিতে চায় । তাই বলে কি তাদের দেশপ্রেম নেই । প্রবাস জীবন এ থাকা অধিকাংশ বাংলাদেশির মন নিজ দেশের মাটিতে পড়ে থাকে । যারা প্রবাস জীবন যাপন করছে তারাই জানে জীবন কতো পরাধীনতার ।জীবন যুদ্ধের কাছে পৃথিবীর সব প্রেম অর্থহীন। বড় বেশি অসহায় । একটি দেশের নিরাপত্তাহীন সমাজ ব্যবস্থা মানুষের ভিতরের দেশপ্রেম কেও অনিরাপদ করে তুলে । একজন সাধারন প্রবাসী দেশে ফেরার পর প্রাক্তন সহকর্মী ,বন্ধু আর আত্মীয় স্বজন সবাই বলতে থাকে আবার যেন ফিরে যায় । মাঝে মাঝে ভাবি কেন তারা এমন করে বলে ,তোমার সুযোগ আছে তুমি চলে যাও ।আমাদের থাকলে আমরাও চলে যেতাম ......।।এ জাতীয় অনেক কিছু । তারপরও শত বাঁধা পেরিয়ে কেউ কেউ বাংলাদেশে ফিরে আসে । চলমান নানা রকম অস্থিরতা মানুষের মন কে ও অনিরাপদ করে তুলেছে । যখন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা অর্থনৈতিক আর আইন শৃঙ্খলা নিরাপদ রাখতে সক্ষম হয় সেই দেশ স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে উন্নয়নের পথে হাটে ।আমাদের দেশে কাজের প্রতি সামাজিক দৃষ্টি ভঙ্গি এবং নিরাপদ কর্ম পরিবেশ থাকলে এই দেশের বৃহৎ জনগন মানব সম্পদের উৎকৃষ্ট উদাহরন হতো ।

আসলে কাগজ কলম কিংবা বক্তৃতায় মানুষকে কাজের ব্যাপারে উৎসাহ দিতে আমাদের দেশের নীতি নির্ধারকরা অনেক রকম উপদেশ দিয়ে থাকে । বাস্তব সমাজ ব্যবস্থা এখনও অনেক পিছিয়ে । এখনও নারী সমাজের একটা বিশেষ অংশ প্রতিনিয়ত নির্যাতিত আর নিপীড়িত ।বাল্য বিবাহ , মাতৃ মৃত্যু ,বেকার সমস্যা কোন কিছুই যেন এতো উন্নয়ন দিয়ে অস্পষ্ট করা যাচ্ছে না । কিন্তু কেন ? চারিদিকে যদি এতোই উন্নয়ন তবু কেন একজন শিক্ষিত তরুন কে একটি সাধারন চাকরি পেতে অনেকটা মূল্যবান সময় নষ্ট করতে হয়। কেন একজন তরুণী সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নিরাপদ কর্ম পরিবেশের অভাবে নিজের সক্ষমতা আর সম্ভবনাটুকু হারায় । কেন দিনের পর দিন আমাদের ভিতরের দেশপ্রেম অনিরাপদ হয়ে উঠছে ?জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত যেন নিরাপত্তাহীনতার বেড়াজালে আটকে পড়া ।কেন কোটি কোটি স্বপ্ন প্রতি মুহূর্তে ভেঙ্গে যায় ? শত সহস্র মানুষের কোলাহলের ভিড়েও নিজ দেশের প্রতি দেশপ্রেম একা হয়ে যায় ।সব স্বপ্ন গুলো বিচ্ছিন্ন সূতায় ঠিকানা খুঁজে ফিরে । একটি নিরাপদ জীবন চাই । একটি স্বাধীন স্বপ্ন দেখার দেশ চাই ।

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
লিখেছেন
সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫

ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩

একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪

শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।...
...বাকিটুকু পড়ুন
সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও...
...বাকিটুকু পড়ুন
১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর...
...বাকিটুকু পড়ুন