somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উপন্যাস"অরোরা টাউন" পর্ব ১-নুরুন নাহার লিলিয়ান

০৭ ই অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



উপন্যাস: “অরোরা টাউন” পর্ব ১
নুরুন নাহার লিলিয়ান

হোক্কাইডোর আকাশের জলন্ত সূর্যটা হঠাৎ যেন কোন অভিমানে নিজেকে আড়াল করেছে। চারিদিকে একটা গুমোট পরিবেশ। মধ্যদুপুরে সফেদ তুষাড়ের উন্মাদনা। হঠাৎ যেন চেনা পৃথিবীর ভিন্ন পরিচয়। প্রতিদিন সানিসাইড হাউজের দোতলার বারান্দা থেকে অরুনিমা প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যের রহস্যে মন হারায়। হোক্কাইডো আইল্যান্ডের চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যের মায়াময়তা উড়ন্ত মন কে ভীষনভাবে শান্ত করে দেয়। কি জানি মনের কোথায় কি অদ্ভূত রহস্য খেলা করে যায়।হোক্কাইডোর সাথে অরুনিমার ছয় মাসের নিস্তব্ধ গল্প। এই নিস্তরঙ্গ গল্পে মনের ভিতর নানা রংঙের অনু্ভূতি আসা যাওয়া করেছে। সত্যি যেন ব্যাখ্যাতিত।
এখনও মনে পড়লে নিজেকে ভীষন দু:সাহসী মনেহয়। তখন মাত্র অর্নাস পরিক্ষা শেষে রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা। অরুনিমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মেধাবী ছাত্রী। তবুও ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চাকুরির বাজারের বাস্তবতার কথা ভেবে আত্মবিশ্বাসের অভাব বোধ হতো। সেই সময়ে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভাষা ইন্সটিটিউট থেকে জাপানি ভাষায় সাধারন জ্ঞান অর্জন করে।মুটামুটি জাপানে জীবন নির্বাহ করতে পারবে। জাপান জীবনে ইংরেজির সাথে জাপানি না পারলে কঠিন জীবন। প্রফেসর মাকতো নিশিবের সহযোগীতায় এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে হোক্কাইডো বিশ্ব বিদ্যালয়ে দুই বছরের সরকারি বৃত্তি সহ মাস্টার্স করার সূযোগ হয়।
কিন্তু সব কিছু ঠিক থাকলেও বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতা গুলো জাপানে আসার সময়ে অনেক রকমের প্রতিবন্ধকতা তৈরী করেছিল। একটি অবিবাহিতা মেয়ে একা বিদেশে যাবে। কার সাথে থাকবে? কিভাবে থাকবে? ফিরে আসার পর ভালো বিয়ে হবে কিনা। মূহূর্তেই নানা রকমের প্রশ্ন আর প্রতিবন্ধকতা একটি স্বপ্ন কে আড়াল করতে শুরু করেছিল।তারপর সকল প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে একটি সাহসী পদক্ষেপ স্বপ্ন পূরনের পথটাকে সহজ করতে লাগলো। এভাবেই কয়েকটা মাস কেমন করে কেটে গেছে। এখন নিজেকে খুব সাহসী মনেহয়। যখন উত্তেজনায় ভরা সময় গুলো চোখের পাতায় স্পষ্ট হয়ে উঠে আসে তখন মনের অজান্তে হাসিও পায়।
হঠাৎ চোখ পড়ল নিচের রাস্তায়। একটি লাল রংয়ের প্রাইভেট কারে উনিশ বিশ বছর বয়সী ছেলে মেয়ে উপরে দিকে আসছে। দোতলা থেকে ঠিক বুঝা যাচেছ না। তখন তুষাড়পাত আর বাতাসের ঘূর্ণি। বেশ কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের আবার দেখা গেল সিড়িতে। তারা উপরে উঠে এসেছে। তাদের দেখে মনেহল তারা অনেক দূর থেকে এসেছে।মেয়েটির হাতে একটা কালো ছোট লাগেজ। ছেলেটি যে জাপানি নয় তা নির্দ্বিধায় অনুমান করা যায়। তবে মেয়েটি জাপানি।
উপরে উঠেই কাছে এসে বলল,” কন্নিচুয়া”
বাংলা অর্থ হলো হ্যালো বা হাই।
সেই সাথে একটা সুন্দর মিষ্টি হাসি দিল। হাসিটা অরুনিমার মনটা ছুয়েঁ দিল। তারা তাদের লাগেজ আর কিছু মালামাল নিয়ে পাশের রুমে ঢুকলো।
এতোক্ষনে অরুনিমা বুঝে নিল যে তারা প্রতিবেশি হয়ে তার পাশেই থাকবে।ভেবে ভাল লাগলো। মেয়েটির সাথে সখ্যতা গড়ে তোলা যাবে। সানি সাইড হাউজের মালিক একজন অবসর প্রাপ্ত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। ভদ্রলোক অত্যন্ত বিনয়ি এবং হৃদয়বান। হোক্কাইডো বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাথেই তার দুইটি বাড়ি।তিনি একটি বাড়ি শুধু বিদেশিদের ভাড়া দিয়েছেন। সেই বাড়িটির নাম সানি সাইড হাউজ। এতক্ষনে চঞ্চল তুষাড়পাত শান্ত হয়েছে। চারিদিকে শান্তিময় পরিবেশ বিরাজ করছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়িওয়ালাকে দেখা গেল। পাঁচ ফুট উচ্চতার সুস্বাস্থ্যেরর অধিকারী বাড়িওয়ালার নাম সাইতো মিতসকসি।তিনি হয়তো নতুন ভাড়াটিয়ার খবর নিতেই উপরে এসেছেন। মি: সাইতো বামদিকে একবার অরুনিমার দিকে তাকিয়ে নিয়ে পাশের রুমের কলিংবেল চাপলো। ছেলে মেয়ে দুটোই বেড়িয়ে এলো। তারপর কয়েক মিনিট তারা রুমের সামনে দাড়িয়ে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলতে লাগলো।
কথা শেষে বৃদ্ধ চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিল। ছেলে মেয়ে দুটি মাথা নত করে ধন্যবাদ জানাল।
এর মধ্যে অরুনিমার হাতের কফি প্রায় শেষ। ঠান্ডা কফির মগটা গালে ছুয়েঁ দেখে অনুভব করলো মগটা প্রায় বরফ টুকরার মতো ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগর আর জাপান সাগরের গভীর বন্ধুত্বে গড়ে উঠেছে বিচ্ছিন্ন নিভৃত এই বরফ দ্বীপ হোক্কাইডো।
এখানে মানুষের চিত্ত চেতনে মৃত্তিকার চেয়ে বরফ রহস্য ছেয়েঁ থাকে সব টুকু জুড়ে। বরফ নিয়েই তাদের আয়োজন। বেচেঁ থাকার জীবন যুদ্ধে প্রতিনিয়ত পরিশ্রম করে টিকিয়ে রেখেছে তাদের স্বপ্ন আর সম্ভবনা গুলোকে। মাঝে মাঝে গভীর একাকীত্ব যখন বুকের কোথাও থেকে ঝাপিয়ে উঠে তখন নিজের ভাঙা ভাঙা অনু্ভূতিগুলো হোক্কাইডোর সৌন্দর্য অবগাহনে আনন্দ খুঁজে ফিরে। এভাবেই কেটে গেছে কয়েকটি মাস। এর মধ্যে একজনও বাংলা ভাষাভাষীর লোকের দেখা পায়নি।নি:শব্দ বরফ ভূখণ্ডে নিজেকে বড় বেশি অসহায় মনেহয়। হিমশীতল বাতাস অরুনিমা কে স্পর্শ করে যায়।
জীবনের নানা রকম প্রশ্ন আর বোঝাপড়া গুলো চিন্তার গভীরতাকে আন্দোলিত করে। নিজ অস্তিত্বের উপলব্ধি ব্যঙ্গ করে উঠে।
প্রথম বর্ষের শেষের দিকে লাইব্রেরিতে পরিচয় হয় নোয়েলের সাথে। ভাল ছাত্র হিসেবে একটা ভাল পরিচিতি আছে।মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক গুলো অদ্ভুত নিয়মে শুরু হয়। ঘুরপাক খায়। আবার কেমন করে যেন শেষ ও হয়ে যায়। জীবনের পথে পৃথিবীর সব মানুষই একা।মধ্য দুপুর গড়িয়ে সারি সারি বরফ স্তুপে বিকেলের ছায়া পড়ে। এর মধ্যে অরুনিমা নিজের প্রয়োজনীয় কাজ গুলো গুছিয়ে নেয়। নোয়েলকে নিয়ে ফেলে আসা ধূসর স্মৃতি গুলো হঠাৎ করেই চিন্তার গতিপথ রোধ করে।
যখন মানুষের জীবনে সৌভাগ্য গুলো আসে তা স্বাভাবিক নিয়মেই আসে। আর যখন জীবন থেকে চলে যায় তখন কিভাবে যায় তা মানুষ বুঝতে পারেনা। সেই অতিত সহপাঠী নোয়েল কে নিয়ে এক বছরের স্মৃতি এক জীবন ভরে বহন করতে হবে। কি জানি হয়তো সে অরুনিমা কে ভালোবাসতো। কিন্তু যাপিত জীবনের একটা হিসাব কিংবা জটিলতা সম্পর্কটাকে প্রভাবিত করতো। প্রায়ই সে ভালোবাসার সম্পর্কটাকে গুরুত্বহীন করে তুলতো।সে এই কাজটা অনেকটা ইচ্ছাকৃত ভাবেই করতো। হঠাৎ করেই সম্পর্কেরর মাঝ পথে থেমে যেতো। ঝড়ের মতো দুজনের মধ্যে ঝগড়া হতো। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারতো না। আচমকা ঝগড়ার মাঝপথে কখনও কখনও মানুষের সত্যিকারের মনোবৃত্তি প্রকাশ হয়।
নোয়েলের সেই অপ্রত্যাশিত আচরন গুলো আজও মনের কোথাও আঘাত করে উঠে। বুকের মাঝখানের কোন এক জায়গায় ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। অবসর কোন ছুটির দিনে সেই চিন্তা গুলো এলে প্রাত্যহিক জীবনটা থেমে যায়। নোয়েলের সাথে শেষ ঝগড়া দিনটার কথা কোনদিনই অরুনিমা ভুলতে পারবে না। সেদিন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে দুজনে একসাথে বের
হয়। পড়াশুনা আর বিশ্ব বিদ্যালয়ের অন্যসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে বলতে ডাকসুর কাছে আসে। দুজনে একসাথে চা ও খায়। সব দিন গুলোর মতোই কথা হচিছল।
কিন্তু হঠাৎ বলে উঠলো, “অরুনিমা, আসলেই তোমার সাথে ম্যাচ হয় না। ঠিক আমরা পরস্পরের জন্য উপযুক্ত নই। ”
অরুনিমা আচমকা এমন অপ্রত্যাশিত কথায় ধাক্কা খেলো। ভীষন ভাবে আহত হলো। নোয়েলের কাছ থেকে আসা শব্দ গুলো যেন অরুনিমার কর্নকুহরে আঘাত করতে থাকে। কানের কাছে এসে আটকে থাকা শব্দ গুলো যেন অরুনিমা বিশ্বাস করতে পারছিলো না।
আহত হৃদয় নিয়ে অরুনিমা ফের প্রশ্ন করে, ” আমরা পরস্পরের জন্য উপযুক্ত নই?”
নোয়েল মৃদু কঠিন স্বরে উত্তর দেয়,”না। আমাদের এখানেই থেমে যাওয়া উচিত। ”
ঠিক সেই মূহূর্ত থেকে অরুনিমার ভেতরের সমস্ত আবেগীয় অনু্ভূতি গুলো প্রচন্ড কোন শক্তিতে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়। হৃদয়ের সব টুকু ভালোবাসা বির্দীণ সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায়।তারপর নোয়েলের চেহারাটা ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হয়ে যেতে লাগলো। সেই সাথে হৃদয়ের কোথাও গভীর একটা দাগ কেটে যেতে থাকে ।
অস্তিত্ব হীন এক ঝাপসা অতীত অরুনিমা একা হলেই মাথা ঝাকিয়ে উঠে। ছুটির দিন গুলিতে এমন যন্ত্রণা কাতর অতিতে মন অনিচ্ছাকৃত সাতার কাটে। বেচেঁ থাকার স্বপ্ন গুলো গভীর সাগরে ডুবে যেতে থাকে। ডুবতে ডুবতে কোথাও গিয়ে আটকায়। জীবনের সাথে স্বপ্ন গুলো সমঝোতা করে। বেচেঁ থাকার অনু্ভূতি গুলো আবার ভেসে উঠে।
বেশ কিছুক্ষন অরুনিমা চোখ বন্ধ করে রাখে। তারপর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দিয়ে কবি জীবনানন্দ দাসের “পৃথিবীতের এই” কবিতায় মন ছুয়েঁ দেয়।ভাবে জীবন নিয়ে নতুন কিছু।
কম্পাশের চেতনাকে সর্বদাই উত্তরের দিকে রেখে
সমুদ্রকে সর্বদাই শান্ত হতে বলে
আমরা অন্তিম মূল্য পেতে চাই – প্রেমে ;
পৃথিবীর ভরাট বাজার ভরা লোকসান
লোভ পঁচা উদ্ভিদ কুষ্ঠ মৃত গলিত আমিষ গন্ধ ঠেলে
সময়ের সমুদ্রকে বারবার মৃত্যু থেকে জীবনের দিকে যেতে বলে।
এতোক্ষনে হোক্কাইডোর আকাশ জুড়ে স্নিগ্ধ বিকেল নেমেছে। সিটি সাপ্পোরো থেকে আসা গাড়ি গুলো রাস্তায় রাস্তায় বরফ পরিস্কার করছে। ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন চারিদিক। রাস্তাধরা দুপাশে বরফ স্তুপ গুলো যেন ভিন্ন রূপ দিয়েছে। অরুনিমা বিকেলের স্নিগ্ধতায় এক মুঠো জীবন রচনা করে। দীর্ঘ একটা নি:শ্বাস নেয় বুক ভরে।হাতের তালুতে রাখা এক ফোটা তুষাড় কনা যেমন মিশে যায় রোদ্রের ছোয়াঁয়। ঠিক তেমন করে যদি অতিত টা মুছে ফেলা যেতো। যেমন করেই হোক নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হবে।
সানিসাইড হাউজের বরাবর ১৮ নাম্বার সাবওয়ে। সেখান থেকে দুইশ ইয়েনের টিকিট কিনলে তিনটা জায়গায় যাওয়া যায়। মাটির নিচের রাস্তা ধরে অদূরী পার্কটা সবচেয়ে কাছে। যদিও পার্কটা মাটির উপরে। তার নিচেই আছে আরেক শহর। তিন নাম্বার স্টপেজ থামলেই সাপ্পোরো স্টেশন। সেখানে নামলে অনেক গুলো পথ দেখা যায়। সাপ্পোরো স্টেশন কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অনেক গুলো শপিংমল।অরুনিমা ট্রেন থেকে নেমেই একা একা নিভৃত পায়ে স্টেশন টাকে একবার দেখে নিলো। মানুষ শুধু প্রতিনিয়ত দৌড়ে বেড়াচ্ছে। কারও একটু সময় নেই পথে থামার।
সাপ্পোরো স্টেশন থেকে ডানেই লসন শপ। হঠাৎ সেখানেই চোখ পড়ল।ক্যাশ কাউন্টারে প্রচুর ভীড়। সেখানে অনেক বড় লাইন। সেখানেই লাইনে দাড়ানো প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়সি এক ভদ্র মহিলা। সেখানে সে হুইল চেয়ার ধরে দাড়িয়ে আছে। পনেরো ষোল বছর বয়সি এক প্রতিবন্ধি মেয়ে হুইল চেয়ারে বসা। ঘাড়টা একটু বাকাঁ।মুখটা হা করা। সেখান থেকে লালা ঝড়ছে। জিহ্বার সাথে এক খন্ড মাংস মুখের ভিতর থেকে বেড়িয়ে আসা।হুইল চেয়ারটা জাপানি বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরী করা। মেয়েটি বিশেষ বাটনে চেপে নিজেই চলাফেরা করতে পারে।
হুইল চেয়ারের এক পাশের অংশটি প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের সাথে পুতুল আর ফুল দিয়ে সাজানো। তিনটি গোলাপ ফুল লাল,সাদা আর হলুদ। লাল ফুলটা খুব চোখে পড়লো। ঘাড় বাকাঁ মেয়েটি বাটনে চেপে সামনে যেতে লাগল। হুইল চেয়ারের সাথে লাগানো লাল ফুলটা দুলতে লাগলো। সেই সাথে মা ধীরে ধীরে হেটে গেল।
হঠাৎ অরুনিমার বুকের ভিতরটা হু হু করে উঠলো। একজন মা তার প্রতিবন্ধী সন্তান কে কতোটা ভালোবেসে বুকে আগলে রাখে। একটি জড় মাংস পিন্ডের মাঝে এক নি:শ্বাস প্রানের স্পন্দন।মানুষের জীবনের কি অদ্ভূত নিয়তি!
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে সাপ্পোরো স্টেশন থেকে সামনে এগিয়ে গেলো। বামদিকে তাকাতেই চোখ পড়ল অরোরা টাউনের দিকে। তার সামনের দিকে পল টাউন। মাটির নিচে এতো গুছানো শহর! চোখ দুটো ভরে গেলো। শপিংমল অরোরা টাউনে কি নেই। সারি সারি দোকান আর রেস্টুরেন্টের সমারোহে জমজমাট আরেক দুনিয়া।
জীবনের সব ক্লান্তি, অনিশ্চয়তা আর যুদ্ধ কে মস্তিষ্কের কোথাও রেখে অরোরা টাউনের দিকে ধীর পায়ে হেটে গেল।


সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৮:২৮
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×