
(বাংলাবাজার)
আসছে বই মেলা ২০১৭। আর মাত্র সাত দিন। প্রকাশনা জগতের সব জায়গায় শুধুই বই নিয়ে আলোচনা। বই পল্লীগুলোতে উৎসবের আমেজ। সবার মধ্যে এক অদ্ভুত আবেগ কাজ করছে। পাণ্ডুলিপি লেখা, প্রুফ দেখা, কভার পেজ, ফ্লাপ লেখা, ছবি পছন্দ করা, বিজ্ঞাপন এবং প্রচারনার কাজ, আরও কতো যে কিছু।
একটা বই প্রকাশের পিছনে হাজারো ভাল মন্দের গল্প থাকে। সব কিছু ঝাপিয়ে বাংলাদেশের প্রকাশনা জগত ভালোভাবেই এগিয়ে যাচেছ। আশাকরি বাংলাদেশের প্রকাশনা জগত আরও অনেক ভালো জায়গায় যেতে পারবে। বিখ্যাত জার্মানির ফ্রাংফ্রুট বই মেলার মতো বাংলাদেশের বই মেলাও বিশেষ মর্যাদা অর্জন করবে।
সেজন্য সরকার এবং দেশের মানুষের সহযোগীতা এবং সচেতনতা দরকার। বইয়ের বাজার গতিশীলতার পেছনে অনেক বাধা বিপত্তি ও আছে। আর অপরিকল্পনা বইয়ের জগতকে পিছিয়ে রেখেছে।

(বাংলাবাজারের বই মার্কেট)
দীর্ঘ নয় বছর পর আমার চতুর্থ উপন্যাস ‘অরোরা টাউন’ প্রকাশ হতে যাচেছ। এই উপন্যাসটি প্রকাশ করছে দেশের সুপ্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা সংস্থা শিখা প্রকাশনী। আর বইয়ের কাজেই বইয়ের শহর পুরনো ঢাকার বাংলাবাজার গিয়েছিলাম। সেই নয় বছর আগে যেমন দেখেছিলাম ঠিক তেমনই আছে। লোকারণ্য আর বইয়ের বন্যা। ঘিঞ্জি ইট পাথর দালান কোঠায় বুদ্ধিজীবীদের সৃজনশীলতার স্বপ্ন হাবুডুবু খাচেছ। শিখা প্রকাশনীর অফিসে যেতে যেতে দেখলাম বই রাখার কোথাও জায়গা নেই।
পুরনো বই সংরক্ষন করার ও তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। যে কারনে অনেক বই নষ্ট হয়ে যাচেছ। প্রকাশক আর লেখকদের দেখতে হয় লোকসানের চিত্র। বাংলা বাজারের মতো একটা বিখ্যাত জায়গার তেমন কোন পরিবর্তন নেই। তাহলে প্রকাশনা জগতের উন্নয়ন কতোটুকু আশা করা যায়? গতবার বই মেলায় বৃষটির কারনে বই মেলা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিল। কিন্তু এই বছর কতোটুকু বাস্তব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানি না। পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম আধা ঘন্টা সময় সূচি বাড়ানো হয়েছে। আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নে কিছু কাজ করা হয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় কতোটুকু সুপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তা বই মেলা চলাকালীন সময়ে বুঝা যাবে।
আশাকরি পাঠক, লেখক আর প্রকাশকদের মিলন মেলা একুশে বইমেলা সফল হবে। পাঠকদের কাছে সহজেই তাদের প্রিয় লেখকদের বই পৌছে যাবে। সর্বোপরি দেশের বৃহৎ এই একুশে বই মেলা সকল সমস্যা অতিক্রম করে সমৃদ্ধি অর্জন করবে।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



