somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রতিদিন শত তুচ্ছে: ধরো বন্ধু আমার কেহ নাই

৩০ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বৃষ্টি, আরো বৃষ্টি...
বছরের প্রথম বৃষ্টি নেমেছে ঢাকায়; ইমেইল, ফেইসবুক হয়ে ব্লগেও ছুঁয়ে গেছে অবিশ্রান্ত ধারাপাত; টুপটাপ, ঝিরঝির ঝুপঝুপ ঝমঝম। বৃষ্টিপ্রিয়তা আমাদের কোষেকোষে রন্ধ্রেরন্ধ্রে; একটুখানি উস্কে দিলেই বাদলাহাওয়া ভেজামাটি সোঁদাগন্ধ সপসপে-জুতো স্রোতনামা-ছাতারা কেবলই মন ভেজায়, চোখে বাষ্প জমায়। অন্য গোলার্ধে অন্য জলহাওয়া; তবু দেখতে পাচ্ছি, শুনতে পাচ্ছি, ভিজে যাচ্ছি, ভিজে যাচ্ছি, মন ভাল হয়ে যাচ্ছে, মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে...........

বর্ষা আমার চোখের প্রিয় ঋতু, তবু ওগো বৃষ্টি আমার চোখের পাতা ছুঁয়োনা। এমন দিনে তারে বলা যায়।



আসে হেমন্ত জীবনানন্দে...




আবহাওয়া দফতরের হিসেবমতো গ্রীষ্ম শেষ হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে। এখন অটাম; গোড়াতে যদিও সামারেরই এক্সটেনশান; কিছুদিন যাবার পর শরৎ এলো কিনা বোঝার আগেই ঊষাগোধূলিতে হেমন্তের হিম। পথের ধারে বছরব্যাপী নির্লিপ্ত ঘনসবুজ গাছের সারি এই সময়টাতে এসে গোলাপি-বেগুনীর কণা ঝরিয়ে চলছে অবিরাম। আদুরে কোন নাম হয়তোবা আছে তার, কেউ মনে রাখেনা। হে-ফিভার-ফ্লাওয়ার বদনামটাই জুড়ে বসে গেছে কোমল পলকা রেণুকণায়। কঠিনপ্রাণ ড্যান্ডেলিয়নের দীর্ঘ আয়ুও ফুরিয়ে এলো বলে; আরো বেশী স্থায়িত্বের নিশ্চয়তা পেতে হলদে পাপড়ির ডগা শুকিয়ে তুলো উড়িয়ে কাঁটাময় বীজে সবান্ধব বসতি গড়ছে সে।




আছিগো মা বিপদে...

-ঘটনা কী? ফোন ধরোনা, জিটকে আসোনা, ফেইসবুকে লালবাতি
-হে হে হে, বাত্তি নাইগো কব্বরে...
-এইসব বাদ দাও। পয়লাবৈশাখ সামনে মনে আছে?
-নাহ্ নাই, মনে রাইখা ফায়দা কী!
-ঢং কর, না? শোন, এইবার আর ওপেন প্রোগ্রাম হবেনা, বুঝছ তো সময় খারাপ, স্পন্সর পাওয়া যায়না... টিকেট কাটা লাগবে... দেশ থেকে শিবলিনীপা আসবে তো, আর নাটক...
-তাতে আপ্নের কী?
-আমার কী মানে! আমি গান গাইবোনা? তুমি তো আমার সাথে বাজাবাই, আর...
-আপ্নে গান, নাচেন, নাটক করেন যা খুশি করেন। এই বান্দীর চিত্তে এত সুখ নাইগো সুন্দরী খাতুন
-হিহিহিহি, তুমি একটা লেডি কমেডিয়ান...

এইখানটায় এসে ব্যাখ্যাতীত কোন কারণে ব্লগের কোনও "লেডি"র কথা মনে পড়ে যায় আমার। আরেকটা উইন্ডো খুলে সেখানে ঢুকে পড়ি, চলতি জাগতিক জটিলতার ভয়াবহ দিশাহীনতার কার্যকারণ শহরের সুনামী সুকণ্ঠীকে বোঝানো হয়না আর।


বড় মায়া হে...

ঘরে পোষা পশুপাখির হাতবদলের সময় পুরনো মালিক চোখ মোছেন; ছোটবেলায় ‌এদৃশ্য অনেকবার দেখেছি। অপরাহ'র টকশোতে মনোবিদ উপায় বাতলান স্মৃতিকাতরতার বোঝাক্রান্তকে; পূর্বপুরুষ থেকে উত্তরপুরুষের তুচ্ছাতিতুচ্ছ বস্তুগত স্মৃতির কোন নমুনাই ফেলতে না পেরে বোঝাই-ঘরে যিনি নিজেই জায়গা পাচ্ছেন না। সেই তিনিও শেষ পর্যন্ত ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ধারে জঞ্জালমুক্তির আনন্দে কিংবা বেদনায় অশ্রুসিক্ত হন। নতুন সঙ্গী এসেছে আমার; কন্যার আক্রমণে জর্জরিত প্রায়-অকেজো প্রাচীন সঙ্গীকে ছাড়তে পারছিনা তারপরও। থাকুক সে এককোণে পড়ে, চোখের আড়ালে, তবুও থাকুক। আমার কাছে থাকুক, তবু আমার কাছে থাকুক।




ধরো বন্ধু আমার কেহ নাই...
শিশুর মুখে আধোআধো বোলে কতকিছুই না ফোটে। শব্দের ছোট্ট ভাণ্ডারটি বাক্যে গাঁথার আগেই মায়ের মুখে শোনা ঘুমপাড়ানি গানের সুর ভাঁজে সে। অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণের ঝামেলায় না গিয়ে নিজস্ব-সৃজনের সংক্ষিপ্ত বর্ণমালায় কতোকি ছড়া কাটে চাঁদের কণা। তারপরও এই সুর, এই ছড়া সব মা সময়মতো শুনতে পায় না; কারও অপেক্ষার পালা কখনওবা শেষ হয়; বাকীরা হয়তো একসময় অপেক্ষা করতেও ভুলে যায়।

চাঁদের কণার মুখে একচিলতে ছড়া বা একটুখানি গানের আশা করতে করতে কত কতো দিন গেছে আমার। কতবার মনে হয়েছে, এবার আশা ছাড়ি। অবশেষে কাল রাতে প্রথম সুর ভাঁজল সে, দ্বিধাজড়ানো স্বরে, অস্ফুট উচ্চারণে। তারপরও বুঝতে অসুবিধা হলোনা কী গাইছে সে, "ধরো বন্ধু আমার কেহ নাই... "। বুকে চেপে ধরি আকাশ থেকে নেমে আসা চাঁদটাকে।

সেই থেকে এই গান-- বাবু, চঞ্চল, বা কৃষ্ণকলির নয়, আমার ছোট্ট অপনার গান হয়ে-- বুকের গভীরে বেজে চলেছে, বেজেই চলেছে; তার কিংবা আমার এক পৃথিবী দীর্ঘশ্বাসের সমান দৈর্ঘ্যের অসহায়ত্ব নিয়ে।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ২:১৩
১২২টি মন্তব্য ১১৪টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×