somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামুর ব্লগারদের পিকনিক অভিজ্ঞতা (চরম হিংসার ইমোটা অনেকেই মিস করবেন)

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েকদিন থেকেই মনের শরীরটা ভালো যাচ্ছেনা। কোনভাবেই মনটাকে স্থির করতে পারছিলাম না। এই সময়ে হঠাৎ সামুর ব্লগারদের পিকনিকের বার্তা পেলাম। ফেবুর পিকনিক গ্রুপে আড্ডা দেই। অনেক মজা হয়। ভাবি, যাবোনা। আমার মন খারাপটা কাউকে স্পর্শ করুক চাইনি। আবার পিকনিকটাও মিস করতে রাজি ছিলাম না। কি আর করা! মনখারাপটাকে আড়ালে রেখে নিজেকে লুল ঘোষনা দিয়ে পিকনিকে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম।
১৩ তারিখে যাত্রা শুরু করলাম। সকাল সাতটায় আমি, নোমান নমি আর আলমাস(ধুসর ধ্রুব)। আমরা তিনজনে মোহাম্মদপুর থেকে চা পান করে রওনা দিলাম। আড্ডা শুরু হলো। তিনজনে জমিয়ে আড্ডা দিতে দিতে পৌছে গেলাম শাহবাগ। সেখান থেকে যাত্রা শুরু হবে। পৌছে দেখি, ফাঁকা ময়দান! কেউ নাই! শাহেদ ভাই, গীটার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। আস্তে আস্তে সবাই আসতে শুরু করলেন! আশকারি এলো তার বাবাকে নিয়ে। নিমচাঁদ ভাই এলেন তার ছেলেকে নিয়ে। ছোটমির্জা এলেন,নষ্টকবি এলো। ওহো! আসল কথাইতো বলা হয়নি, ব্লগাররা আসার প্রাক্কালে বাসে কিছু রমনী বাসে শেষবারের মতো রূপচর্চা করে নিচ্ছিলেন,তাদের নাম জাতির সামনে প্রকাশ না করে পারলাম না। অপরিনীতা, নিশাত, হানী, আরেকটা আপু। আড্ডা আরো জমে উঠলো! শিপু ভাই এলেন, হাওয়াই মিঠাইয়ের ফেরিওয়ালা হয়ে। সঙ্গে শিপুভাবী আর পার্লিন। জিসান মামা এলেন, একা! একা কেনো? হেলাল মামা কই! জিজ্ঞেস করলাম। বললেন, বাসে উঠে জানাবেন। বাস চলতে শুরু করলে জানালেন। মন খারাপ হয়ে গেলো! তারচাইতে বেশি মুগ্ধতা আর শ্রদ্ধায় মন ভরে উঠলো হেলাল মামার প্রতি। আমাদের আনন্দ আয়োজনের এতটুকু ক্ষতি হবে ভেবে, তার সমস্যা লুকিয়ে গেছেন!
বাস চলতে শুরু করলো! আমার পূর্বঘোষিত লুলামী শুরু হইলো ব্লগার নীলপরীর সাথে। মাঝখানে মনসুর জ্যাডা আসিয়া কাবাব মে হাড্ডি হইলেন। দুষ্টলোক সর্বদাই বিদ্যমান! আফসুস। কিছুকাল লুলামী করিয়া ক্লান্ত হইয়া পড়িলাম। পেছনে তখন শাহেদ ভাই তার গীটার আর নষ্টকবি তাহার হারমোনিকা বাজিয়ে জমিয়ে ফেলেছেন। তাদের টানে পেছনে চলে গেলাম। বেসুরে গলায় চিৎকার করে গাইলাম দারুন সব গান। পথে পথে থামলাম, আরো কয়েকজনকে তুলে নিতে।
অবশেষে গন্তব্যে পৌছালাম। পৌছেই শুরু হলো পরিচিতি পর্ব। সবাই সবার পরিচয় দিলাম। তারপর শুরু হলো আড্ডা। জাহিদ ভাই ঘোষনা দিলেন, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হইবে। সবাই দল দিন। দিলাম। আমার দলে ছিলেন, আশকারি, নোমান ভাই, দুর্জয় ভাই, জাভেদ ভাই, নির্ভীক যুবক। মনসুর জ্যাডা আর নিমচাঁদ ভাইয়ের সুক্ষ ষড়যন্ত্র স্বত্বেও আমরা অপরাজেয় চ্যাম্পিয়ন হইলাম। সামুর ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে আমাদের নাম স্বর্নাক্ষরে লেখা হোক। তারপর মেয়েদের বালিশখেলা হলো। সঞ্চালক কে ছিলেন জানেন? আশকারির বাবা! বাচ্চাদের বিস্কুট দৌড় হলো। এই দৌড়ে অংশ নিলেন, মনসুর জ্যাডা আর আশকারিও!
সবচাইতে মজার ব্যাপার হলো, পিকনিক মনে হয় এটাই। এতো বিশাল এলাকা। কোথাও হারিয়ে যাবার বাধা ছিলোনা। কিন্তু কিসের টানে যেনো সবাই একসাথে ছিলাম!
অবশেষে ফেরার পালা! ফিরতি পথে আবার সেই শাহেদ ভাইয়ের গীটার আর নষ্টকবির হারমোনিকা। সাথে এবার পানকৌড়ির গান। নারী ব্লগাররাও জমে গেলেন! এই ফাঁকে আমি আবার একটু লুলামী করে এলাম! আমরা পেছনে শিপু ভাই,স্বর্নমৃগ, পুশকিন ভাই, ছোটমির্জা সহযোগে ১৮+ আড্ডা বসাইলাম। আমাদের আড্ডার বেশির ভাগ সময় কেটেছে আশকারির দিকে কড়া নজর রেখে। পিচ্ছিটা কান পেতে ছিলো! (পিকনিকের বর্ননা বেশি দিলামনা। আর সবাই পোষ্টে ব্যাপক বর্ননা দিছেন।)

যারা পরিবার নিয়ে এসেছিলেনঃ শিপু ভাই, জাহিদ ভাই, অথৈ সাগর ভাই, আশকারি, নিমচাঁদ ভাই, ববি আপু, নীরব দর্শক। (অবশ্য আমরা সবাই একটা পরিবার)

যাদের দেখে বুড়ো হতে আর ভয় নেইঃ মোজাম ভাই ও তার বন্ধু, জিসান মামা, আশকারির বাবা, নিমচাঁদ ভাই।

যারা পিকনিক মাতিয়ে রেখেছেনঃ ছোটমির্জা, মনসুর জ্যাডা, পানকৌড়ী, শাহেদ ভাই, নষ্টকবি।

তারুন্যের কবিতারাঃ নোমান নমি, পুশকিন ভাই, ফারজুল ভাই, সবুজ ভীমরুল, জাভেদ ভাই, আলমাস ভাই, সুমন ভাই, ছবিওয়ালা, নির্ভীক যুবক, দুর্জয় ভাই, রিয়েল রিফাত,গুরুজী, আশকারি আর আশরাফ ভাই(২০ টাকা জিতে ৫০ টাকা খাইয়েছেন)।

নারী সিন্ডিকেটে ছিলেন যারাঃ হানী, শারমিন সোনালী, নীল_পরী, নিশাত, অপরিনীতা।

যিনি ছিলেন সবার চাইতে আলাদাঃ স্বর্নমৃগ

যার কাছে ক্ষমাপ্রার্থীঃ নীলপরী আপু। আমার উপর বিরক্ত হয়েছেন কি?

পিকনিকজুড়ে যাদের ব্যাস্ততা ছিলো লক্ষনীয়ঃ জিসান মামা, শিপু ভাই, আরিফ রায়হান মাহি ।

একজনকে উদ্দেশ্য করি বলিঃ বেড়ে উঠো, মনের দিকে দিয়ে। যেটুকু তুমি শরীরে বেড়েছো।

উৎসর্গঃ নিমচাঁদ ভাইয়ের অটিজমে আক্রান্ত ছেলের জন্য। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০১২ রাত ৯:৩৪
৪৭টি মন্তব্য ৪৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লালনের বাংলাদেশ থেকে শফি হুজুরের বাংলাদেশ : কোথায় যাচ্ছি আমরা?

লিখেছেন কাল্পনিক সত্ত্বা, ০৫ ই মে, ২০২৪ দুপুর ১:১৪



মেটাল গান আমার নিত্যসঙ্গী। সস্তা, ভ্যাপিড পপ মিউজিক কখনোই আমার কাপ অফ টি না। ক্রিয়েটর, ক্যানিবল কর্পস, ব্লাডবাথ, ডাইং ফিটাস, ভাইটাল রিমেইনস, ইনফ্যান্ট এনাইহিলেটর এর গানে তারা মৃত্যু, রাজনীতি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার গ্র্যান্ড কেনিয়ন পৃথিবীর বুকে এক বিস্ময়

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ০৫ ই মে, ২০২৪ দুপুর ১:৪১


প্রচলিত কিংবদন্তি অনুসারে হাতে গাছের ডাল আর পরনে সাধা পোশাক পরিহিত এক মহিলার ভাটাকতে হুয়ে আতমা গ্র্যান্ড কেনিয়নের নীচে ঘুরে বেড়ায়। লোকমুখে প্রচলিত এই কেনিয়নের গভীরেই মহিলাটি তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুরি! চুরি! সুপারি চুরি। স্মৃতি থেকে(১০)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ০৫ ই মে, ২০২৪ দুপুর ২:৩৪


সে অনেকদিন আগের কথা, আমি তখন প্রাইমারি স্কুলে পড়ি। স্কুলে যাওয়ার সময় আব্বা ৩ টাকা দিতো। আসলে দিতো ৫ টাকা, আমরা ভাই বোন দুইজনে মিলে স্কুলে যেতাম। আপা আব্বার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেকোন বাংগালীর ইন্টারভিউর সময়, 'লাই-ডিটেক্টটর' যোগ করে ইন্টারভিউ নেয়ার দরকার।

লিখেছেন সোনাগাজী, ০৫ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৫:০৭



আপনার এনলাকার এমপি, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী কামাল সাহেব, যেকোন সেক্রেটারী, যেকোন মেয়র, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান, বিএনপি'র রিজভী, আওয়ামী লীগের ওয়ায়দুল কাদের, আপনার থানার ওসি, সীমান্তের একজন বিজিবি সদস্য, ঢাকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলীগ এর ভয়ে ফরজ নামাজ পড়ে দৌড় দিয়েছেন কখনো?

লিখেছেন লেখার খাতা, ০৫ ই মে, ২০২৪ রাত ৯:২৬


আমাদের দেশের অনেক মসজিদে তাবলীগ এর ভাইরা দ্বীন ইসলামের দাওয়াত দিয়ে থাকেন। তাবলীগ এর সাদামাটাভাবে জীবনযাপন খারাপ কিছু মনে হয়না। জামাত শেষ হলে তাদের একজন দাঁড়িয়ে বলেন - °নামাজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×