somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ব্লাক সোয়ান ও অন্যান্য

৩০ শে এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ব্লাক সোয়ান


আস্তিনের মর্মস্থলে ধারনককৃত হৃদপিন্ডে স্বয়ংপ্রভ সংবেদনগুলো
কথা বলে উঠলে অদৃশ্য মখমল ডানায় অনুভূত অহমের শিহরন,
বাতাসের কক্ষপথে অন্তর্গত ত্রাসের আয়োজন, মঞ্চের কৃষ্ণত্ব
দুরন্ত ব্যালেরিনার মাসকারঘন নয়নে বিলীয়মান ।

বৃত্তচাপগুলো সিফনকাপড়ে মলাটবন্দী, দুপায়ের মুদ্রায়
পৃথিবীকে ছুঁয়ে নির্ভুল উদ্বাহু বলাকার কালোভ্রমরের গুঞ্জনে
ছায়ালোকের আঁধারভ্রমন, যেন প্রলয়ঙ্করী সরোদের মৌনসুরে
জলের সমতলে ভাষমান ব্লাক সোয়ান ।

গ্রীবার উচ্চতায় ব্যক্তিগত ধ্বংসের কুজন, কাঁপানো কণ্ঠস্বরে
অন্তিম সংগীত ছড়িয়ে যায় ছাড়িয়ে তৃণাঙ্গন, ঝিলের ওপাড়ে
সাঁঝের মায়ায় নার্সিসাসের হলুদ হৃদয়ে বাজে ধ্বংসের নিনাদ ।

আকাশবিস্তীর্ণ শূন্যতা নিয়ে ঝিমিয়ে পড়া লাটিমের মত
নৃত্যনাট্যের অন্তিম যবনিকায় নেমে আসে মৃত্যুর পুর্নতা,
প্রসারিত বাহুলতার ক্রিস্টাল মূহুর্ত থমকে যায় কাঁচের বুদবুদে ।

[অনুপ্রেরনা ব্লাক সোয়ান(২০১১) মুভি]


নীলিমাকে


ধুঁয়াধারে মিশে থাকা চোখের পাতায় ঘনঘোর অবসাদ,
করোটিতে আসন পেতে বসে আছে দুধসরে বোনা উদার বনেট,
যেন ভ্যানিলা ফ্লেভারের হিমসরে গাঁথা; বায়ুকোষে এক চিলতে রোদের ঘ্রান ।
দৃশ্যদিগন্তের বুকের মাঝে মখমল পয়োধর, ভেজা ভেজা পেঁজাতুলা,
যুবতী নীলিমার কপালে রংধনুর টিপ, সিথিতে সিঁদুর-সন্ধা ।



মৃত্যু-২

রৌরব পুঁজারী ঘন্টা বাজায় বিধায়কের নির্দেশে,
অশ্বক্ষুরের ক্ষীপ্রতায় বার্তাবাহী দূত প্রবলবেগে ছুটে আসে
জীবনের সবুজ প্রান্তরে, কার্নিশে ঝিমাতে থাকা
কালো বেড়ালের অনুভবে হিমশীতল স্পর্ষ ।

অন্ধকার করিডোরের পথ ধরে আসে
দীর্ঘ হাতলের কাস্তেধারী ঘোড়াসওয়ারী,
রাত বিলাসী বাদুরের ডানার ঝাপটায় অশনি সংকেত ।
মৃতালয়ের ডাক শুনে পূর্ণিমার চাঁদের গ্রাসে
ঘনায় ঘনঘোর অমাবস্যা ।

রক্তফেনামাখা কাস্তের ধারে নিশ্বাষ ফেলে করোটি,
সোনালি বরণ হলুদিয়া পাখি নিড়ে ফিরে গেলে
গোধুলি সন্ধ্যায় রচিত হয় অন্তহীনের উপাখ্যান,
শুয়োপোকা শরীরে কালো পাখনা ধারন করে
জন্ম নেয় কাল প্রজাপতি ।

মৃতমরুর নৈঃশব্দে বালুকনাগুলোর বাঁকাচিত্তের ভাজে ভাজে
লুকিয়ে আছে জীবনের অবসাদ, তার বুকের জমীনে
স্তব্ধতার চাষবাদ ।




একটি প্রবাহ চিত্রকল্প দর্শন

তুষারসফেদ গোরস্থানের সুনসান নিরবতায়
সদর্প পদক্ষেপে সরীসৃপের বেগে
বিষন্নতায় ভোগা কচুরিপানার বিচ্ছিন্নতাবোধে
আলোকলতার আকর্ষির মত বুকে হেঁটে আসে;
কিংবা,
দুপায়ের শীর্ষে নৈঃশব্দ্যের পাঠশালায়
দুরন্ত ব্যালেরিনার মত নির্বিঘ্ন পৃথিবী শাষন ।
অতপর,
বিষাদগ্রস্থ মেঘের কাফনে ঢাকা পড়ে
সাড়ে তিনহাত সুর্যাস্তের জমীন ।





মাশরুম মেঘ


সূর্যাস্তের কাছাকাছি কোন এক রেস্তোরাঁয়
আততায়ীর অতিসুখাবিষ্টতায় গোলাপি মাশরুম পরিবেশিত হলে
অদ্ভুত পাঁপড়ি মেলে বেড়ে উঠে গগনচারী মেঘের প্যারাসুট;
কান্ড বেয়ে নেমে আসে অবাধ্য শর্করা-আমিষ,
অবধারিত ধ্বংসের বীজ ।

মাশরুমের অবগুণ্ঠন উন্মোচন হলে
ল্যাণ্ডস্কেপ জুড়ে বিচরন করে ক্ষীণকায় চতুর্থ ঘোড়ার সওয়ারী,
লম্বা হাতলের কাস্তেধারী সে আততায়ীর প্রজাপতিহনন শেষে
থেমে যায় নর্তকীর ঘুঙ্গু্র;
মুহুর্তেই বর্তুলাকার রক্তমেঘে ছেয়ে যায় আকাশ,
মেঘগুলো ক্রমশ কালো হয়ে এলে নেমে আসে হিমসন্ধ্যা ।

বনসাই পরমানু্র নির্মম রসায়নের বিকিরন ছড়িয়ে পড়লে
স্মোকস্ক্রিনের ক্যামোফ্লেজে কাতরাতে থাকে মানবতা,
পুড়ে যাওয়া দগ্ধদেহ আর মানবিক চোখগুলোতে
ভয়বিহ্বল অবিশ্বাসী আলো,
স্তম্ভিত অনুভুতি;
মৃত্যুর অন্ধকূপে ভুমিস্পর্ষী কান্ডের নিচে
শান্তিকামী গিনিপিগগুলোর
শরীরের সব হাড়ের জ্বলন্ত অঙ্গারে নৃশংস পোড়াগন্ধ ।

মাশরুম আজকাল প্রচন্ড অমানবিক ।

==========
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৪ বিকাল ৩:৪৪
২৭টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×