somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সহজ বাংলায় 'অ্যাডিকশন'

১৯ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বলা হয়, হিরোইন যদি রেগুলার ২০ দিন ব্যবহার করা হয় তাহলে ২১ তম দিনে সে রীতিমত আসক্ত হয়ে যাবে। কারণ ততদিনে তার দেহে হিরোইন হুক তৈরি করে ফেলেছে। সুস্থ স্বাভাবিক অনুভূতি পাওয়ার জন্যই তখন হিরোইন হয়ে যাবে তার নিত্যপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। সহজভাবে এটাই হল অ্যাডিকশন।

অনেক হাসপাতালে রোগীর কষ্ট কমাতে নিয়মিত ডায়ামরফিন ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে হাড় ভাঙলে ব্যথা কমাতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্তও ডায়ামরফিন দেওয়া হয়। এই ডায়ামরফিন কিন্তু আসলে হিরোইন। এটি রাস্তার যেকোনো ডিলারের কাছ থেকে কেনা হিরোইনের চেয়ে অনেক শক্তিশালী, কারণ এতে কোন দ্রাবক যেমন পানি বা অন্য কোন তরল মিশ্রিত থাকে না যা ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে।তাহলে এই রোগীরা কেন আসক্ত হয়ে যায় না ?

আসলে অ্যাডিকশন সম্পর্কে আমরা যা জানি তার বেশিরভাগই পাওয়া গেছে বিংশ শতাব্ধির শুরুর দিকে করা পরীক্ষার মাধ্যমে। সহজ বাংলায় পরীক্ষা গুলি ছিল এরকম, 'একটা ইঁদুর নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হত খাঁচায়। খাঁচায় দুটি নল দিয়ে পানি সরবরাহ করা হত। একটাতে থাকত সাধারণ পানি অন্যটিতে কোকেন বা হিরোইন মিশ্রিত পানি।সব সময় দেখা যেত ইঁদুরটি মাদক মিশ্রিত পানি পানি পান করে ওভারডোজে মারা যেত।' সব পরীক্ষাই কমবেশি একইভাবে করা হত। কিন্তু ১৯৭০ সালে ব্রুস অ্যালেক্সান্ডার নামের এক সাইকোলজিস্ট এতে খুঁত খুঁজে পান। তিনি লক্ষ্য করেন যে সব ক্ষেত্রেই একটা ইঁদুরকে আইসোলেট করে পরীক্ষাগুলি এমনভাবে করা হচ্ছে যে খাঁচায় ইঁদুরটির ড্রাগ নেওয়া ছাড়া করার আর কিছুই নেই। তাই তিনি ভিন্নভাবে একটি এক্সপেরিমেন্ট ডিজাইন করেন। তিনি কয়েকটি ইঁদুরকে একসাথে এমন একটি খাঁচায় রাখলেন যাকে ইঁদুরের বিনোদনকেন্দ্র বলাই ভাল :D । কালার বল, কাটার জন্য কাগজ, খেলার জন্য স্কাম্পার আর আরো অনেক ইঁদুর,আর ড্রাগড পানি আর সাধারণ পানিত আছেই।
এবারের পরীক্ষায় দেখা গেল ইঁদুরগুলি ভিন্ন আচরণ করছে। খুব কম সময়ই তারা ড্রাগড পানি পান করেছে, মাঝে মধ্যে ড্রাগড পানি পান করলেও কেউই রেগুলার ব্যবহার করেনি অথবা ওভারডোজে মারা যায়নি।

বিজ্ঞানীরা যখন ইঁদুর নিয়ে ব্যস্ত তখন সবার অজান্তে মানুষের মধ্যেই এই পরীক্ষাটি শুরু হয়ে গেছিল। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় রিপোর্ট বলছিল ২০% সৈন্য নিয়মিত হিরোইন সেবন করতো। এই নিয়ে আমেরিকায় তোলপাড় শুরু হয়ে গেছিল। সবাই ভেবেছিল যুদ্ধ শেষ হলে হয়ত দেশ ভরে যাবে ড্রাগ অ্যাডিক্টে,কিন্তু আসলে তেমন কিছুই হয় নি। একটি স্টাডিতে দেখা জায় তাদের ৯৫%-ই বাড়ি ফিরে হিরোইন নেওয়া বন্ধ করে দেয়।

ড্রাগ অ্যাডিকশনের পুরনো মতবাদের সাথে এর কোন মিল পাওয়া যায় না , কিন্তু প্রফেসর আলেক্সান্দেরের মতবাদের সাথে একেবারে খাপে খাপ মিলে যায়। একজনকে যখন ভিন্ন দেশে জঙ্গলে পাঠানো হয় মরতে অথবা মারতে তখন হিরোইন ঠিকই সময় কাটানোর ভাল মাধ্যম হয়ে ওঠে , কিন্তু নিজের প্রিয়জন, পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে হিরোইনের আসলে তেমন প্রয়োজন পরে না।ব্যাপারটি প্রথম পরীক্ষার ইঁদুরকে ইঁদুর বিনোদনকেন্দ্রে ছেড়ে দেওয়ার মত, শুধুমাত্র এক্ষেত্রে ইঁদুরের পরিবর্তে থাকে মানুষ। নেশায় আসক্ত হওয়ার ব্যাপারটি আসলে ড্রাগের নয় , আশেপাশের পরিবেশের।

সমীক্ষায় দেখা গেছে 90s পর থেকে আমেরিকানদের গড়ে ফ্রেন্ড কমে গেছে।আমাদের দেশেও হয়ত কম বেশি একইরকম অবস্থা দেখা যাবে। ড্রাগ অ্যাডিকশন আসলে মানবিক কানেকশন না থাকার অনেকগুলি আউটকামের একটি। এখন আমরা ফ্রেন্ডদের সংখ্যা থেকে বাসার ফ্লোর স্পেস বাড়ানোতেই বেশি মনোযোগ দেই। সম্পর্ক তৈরি করার থেকে কিছু কিনতে পারাকেই আমরা বেশি শান্তির মনে করি।
সব কিছুকে লাভ ক্ষতির খাতায় ফেলে আমাদের সমাজ আজ মানবিকতা একেবারেই ঝেড়ে ফেলছে।শুধু তাই নয়, ড্রাগ অ্যাডিক্টদের যখন মানবিক সহায়তা সবচেয়ে বেশি দরকার তখন তাদের পেলেই আমরা জেলে ছুড়ে মারি যেইটা আক্ষরিক অর্থেই ইঁদুরের খাঁচা। যাদের অবস্থা ভাল না তাদের পেলেও সমাজ দুটি কথা শুনিয়ে দিতে ছাড়ে না , যখন তাদেরই সহায়তার দরকার সবচেয়ে বেশি। এখনো কি সময় আসেনি কি পুরো বিষয়টিকে আবার ভেবে দেখার?






সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ৮:৪৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুকেশ আম্বানি । বিশ্বের চতুর্থ ধনী

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ১১:৪৩



ধীরুভাই আম্বানি , রিলায়েন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা যার কথা পড়ছিলাম ১৯৯৮ সালে ঢাকার একটি পত্রিকাতে । ১৯৭৪ সালে তার কোম্পানির ১০০ রুপির শেয়ার তখন ১৯৯৮ তে ৮০০০০ আশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

৯ আগস্ট ২৬তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসঃ চাই আদিবাসী হিসেবে তাদের স্বীকৃতি

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১২:৩৩


আজ ৯ই আগষ্ট'২০২০ ইং ২৬তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। । এ বছর আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের ঘোষণা হচ্ছে COVID-19 and indigenous peoples resilience. যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘কোভিড-১৯ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরণখাদ (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন ঐশিকা বসু, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:২৩

সত্যস্বর পত্রিকার একটি প্রতিবেদন
২৩শে অক্টোবর, ২০০৮
অমরগিরিতে যুবতীর মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদন – অমরগিরিতে সাগরের উপকণ্ঠে এক যুবতীর ক্ষতবিক্ষত দেহকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিখা দাস নামে ঐ যুবতী স্থানীয় একটি ধাবায় কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আলোহীন প্রদীপ একজন নয় এমন আরো বহু আছে বাংলাদেশে।

লিখেছেন নেওয়াজ আলি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:৫৭

জেলে ভাল আছেন ওসি প্রদীপ বাবু। বাবুর মতোই ফুরফুরে মেজাজে দিন পার করছেন । তিনি জেলকর্মীদের সঙ্গে হাসিখুশি কথা বলছেন। তাদের কাছে শুধু একা থাকার সুবিধা চেয়েছেন। ওসি প্রদীপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাস্কো দা গামা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:২১



যুগ যুগ ধরে নানা দেশের, নানা জাতির লোকেরা ভারতে এসেছে, ভারতকে শাসন করেছে, বসতি স্থাপন করে থেকেছে। বছরের পর বছর এদেশে থাকতে থাকতে তাদের রীতি-নীতি, আদব-কায়দা, শিল্প-সংস্কৃতি-ভাষা, খাওয়া-দাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×