somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অচেনা হৃদি
স্বপ্ন দেখি সভ্য পৃথিবীর, যেখানে মানুষের মাঝে সত্যিই শুধু মানুষ পাবো, যেখানে মানুষের বেশে কোন অমানুষ থাকবে না ।

এলোমেলো হৃদিকথন

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শুক্রবার দুপুরবেলা আমার ঘরে শুয়ে বিশ্রাম করছিলাম। খোলা জানালা দিয়ে মসজিদের জুমার খোতবার আওয়াজ ভেসে আসছিল। ওয়াজের কোন এক প্রসঙ্গে হুজুর বললেন, মানুষের কাছে কখন কিভাবে হেদায়েত চলে যাবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সকালে খোলা তলোয়ার নিয়ে হযরতকে (মহানবী (সঃ)কে) মারতে বের হলেন। সেই উমর দুপুর বেলা হযরতের পায়ে পড়ে ইসলাম কবুল করে ফেললেন।
কথাটা আমার কাছে নতুন নয়, এই কাহিনী আগেও শুনেছি। কিন্তু তবুও সেদিন হুজুরের ওয়াজ শুনে আমার মনে অন্যরকম একটা ভাবনা এলো।
আমার কাছে এটা ভাবতে খুবই অবাক লাগে, কখন মানুষের বিশ্বাস ও চিন্তা চেতনার মোড় ঘুরে যায়/যাবে তা মানুষ নিজেও জানে না। আজ যে লোকটিকে আমার কাছে খুবই বিশ্বস্ত মনে হচ্ছে, কাল তাকেই মনে হতে পারে ঠগির সর্দার। যাকে আজ আমার কাছে ঘৃণ্য মনে হচ্ছে হয়তো সেই লোকটাকেই বেছে নিতে হবে সারাজীবনের জন্য। যে গানটিকে আজ আমার কাছে অতীব সুরেলা লাগছে, হয়তো আরেকদিন এই গানের কলিগুলোকে আমার মনে হতে পারে পাগলের প্রলাপ। যে গান পথে ঘাটে প্রত্যহ শুনছি, যেই গান দূরে কোথাও বাজলেও আমার কাছে বড় বিরক্ত লাগে, সেই গান হয়তো কোন এক সময় আমার কাছে সুধা অমৃতের মত ভালো লেগে যাবে।

কিভাবে যে মানুষের বিশ্বাসের ভরকেন্দ্র পাল্টে যায়, ভাবতেই অবাক লাগে। এই পাল্টে যাওয়া যদিও অহরহ ঘটে না, তবে যখন ঘটে তখন আমাদের অবাক করে দেয়। এমনও হতে পারে এই ব্লগের ব্লগার উদাসী স্বপ্ন বলে ফেলতে পারেন, ‘ধুর, এতদিন যা বলেছি যা করেছি সবই ভুল। ইসলাম একমাত্র খাঁটি ধর্ম।’ হয়তো তা হবে না, হয়তো বরং নতুন নকিব বলে বসতে পারেন, ‘ধুর, এতদিন শুধুশুধু মক্কা মদিনায় ঘুরেছি, এসব করে আমার কোন লাভই নেই।’ আবার চাঁদগাজী বলে বসতে পারেন, ‘আমার কমান্ডার মেজর জিয়া ছিলেন এই দেশের একমাত্র প্যাট্রিয়ট,আর সব ভুয়া, সব স্বার্থপর।’ (এগুলো নিছক উদাহরণ। কেউ অন্য মিন করবেন না প্লিজ।)


আমার বাবা মা বিয়ের আগে থেকেই একে অন্যকে চিনতেন। মায়ের কাছে একদিন জানতে চেয়েছিলাম, ‘আচ্ছা মা, তোমার আর বাবার দেখা হয়েছিল কিভাবে?’
মা বলেন, ‘খুব স্বাভাবিকভাবে হয়েছিল।’
-‘খুব স্বাভাবিকভাবে মানে কিভাবে?’
-‘মানে ড্রামাটিক কোন ব্যপার ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে শত শত ছেলে মেয়ের দেখা হয়, পরিচয় হয়, সেভাবেই আমাদের দেখা হয়েছিল। একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল সেভাবেই। আর খুব স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পরেই ধীরে ধীরে সবকিছু অস্বাভাবিক হয়ে গেলো।’

কি অমোঘ সত্য! প্রথমে স্বাভাবিক, পরে সব অস্বাভাবিক। মানবের মন, সবকিছুই এখানে সম্ভব।


আমার ব্লগকে আমি একটি ডিজিটাল ডায়েরী হিসেবে গ্রহণ করেছি। এখানে আমি আমার মনে কথাগুলো লিখতে থাকবো। সেই কথাগুলো অন্যদের কাছে ভালো লাগতেও পারে, আবার নাও লাগতে পারে। আমি চাইলে সবার কাছে ভালো লাগে এরকম লেখা পোস্ট করতে পারি, এতে আমার জনপ্রিয়তা বাড়বে। কিন্তু এভাবে সবাইকে কেয়ার করে লিখতে থাকলে নিজের মনের কথামালা লিখতে দ্বিধা বোধ হবে। লেখার আগে বসে বসে ভাববো, এই টপিকে লেখা উচিৎ হবে? এই টপিকে লিখলে সবাই পছন্দ করবে? তখন আমার মনের অব্যক্ত কথামালা অব্যক্তই থেকে যাবে। আমি এখন থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাষায় লিখে যাবো। আমার বিশ্বাস এবং চিন্তা চেতনার সাথে হয়তো অনেকের মিল থাকবে না। হয়তো দুয়েক জনে অপছন্দ করতে পারেন, তবুও লিখে যাবো।

আরও একটা কথা, এখন থেকে কোন কোন লেখা আমি প্রথম পাতায় দেবো না, শুধু আমার ব্লগের পাতায় শেয়ার করবো। কারণ আমি ব্লগকে সত্যিই আমার ভার্চুয়াল ডায়েরি হিসেবে গ্রহণ করছি। যাঁদের কাছে আমার লেখা ভালো লাগে, তাঁরা প্লিজ আমার ব্লগের পাতায় নিয়মিত চোখ রাখুন। সবাইকে অচেনা হৃদির ডিজিটাল ডায়েরিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখছি। আমার ব্লগে আপনার মূল্যবান মন্তব্য দিতে কখনো ভুল করবেন না প্লিজ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৩
২৭টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×