গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ সনাক্তকরনের সাথে জড়িয়ে আছে এক বাংলাদেশীর নাম।
সেই গবেষক দলের একজন আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র দীপঙ্কর তালুকদার (৩৯)। বরগুণার ছেলে।

২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। ৯টা ৫০ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে লাইগোর শনাক্তকারক যন্ত্রে একটা সংকেত আসে। তিন মিনিটের মধ্যে বিজ্ঞানীরা তা জানতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ই-মেইল চালাচালি। ঘণ্টা কয়েকের মধ্যেই বিজ্ঞানীরা প্রায় নিশ্চিত হন, এটা পৃথিবীর নিজস্ব কোনো তরঙ্গসংকেত নয়, ১৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের দুটি ব্ল্যাকহোলের মিলনের ফলে সৃষ্ট মহাকর্ষ তরঙ্গেরই সংকেত।
পরদিন ফোন আসে দেশ থেকে। দীপঙ্কর জানেন এই ফোনের মানে কী। তাঁর মা পারুল তালুকদার সপ্তাহ কয়েক আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এই কল মানে, মা আর নেই। মায়ের মৃত্যুসংবাদ শুনলেন। কিন্তু দেশে আসতে পারলেন না দীপঙ্কর। কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের অরিগন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইগোর বিজ্ঞানী দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এই সংকেত পৃথিবীর বা এই সৌরজগতের অন্য কোথাও থেকে এসেছে, নাকি এসেছে ব্ল্যাকহোল থেকেই, তা বিশ্লেষণ করে দেখার। দীপঙ্কর সেই কাজে ডুবে যান। গোপনে তাঁরা কাজ করছেন। এবং নিশ্চিত হলেন, এটা ব্ল্যাকহোলের মহাকর্ষ তরঙ্গসংকেত। তারপর ১১ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞানীরা আয়োজন করলেন সংবাদ সম্মেলনের। জানালেন, আইনস্টাইনের কথাই ঠিক।

দীপঙ্করের মনে পড়ে, ছোটবেলায় তাঁদের সংসার ছিল টানাটানির, তিন বেলা ভাত জোটানোই ছিল মুশকিল, লেখাপড়া তো ছিল দূরের কথা। বাবা সবকিছু বিলিয়ে দিতেন আর ১৯৭১ সালে সহায়-সম্পত্তির বেশির ভাগই হাতছাড়া হয়ে যায়। দীপঙ্করের বড় ভাই শংকর তালুকদার রাস্তার ধারে বসে চাল বিক্রি করে সংসার চালাতেন।
২০০৭ থেকে দীপঙ্কর মহাকর্ষ তরঙ্গ গবেষণা শুরু করেন। লাইগো সায়েন্টিফিক কোলাবরেশনের সদস্য হন ২০০৮ সালে। এ মুহূর্তে তিনি অরিগন বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইগো সায়েন্টিফিক কোলাবরেশনের হয়ে কাজ করছেন। যখন তিনি প্রথম সেখানে যোগ দেন, ওই কোলাবরেশনে তখন ৪০০ বিজ্ঞানী কাজ করতেন। এখন ১৫টা দেশের হাজার খানেক বিজ্ঞানী এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত।
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে ড. দীপঙ্কর তালুকদার বললেন, ‘তোমরা কি জানো, কেন একজন ব্যর্থ হয়? কারণ সে যথেষ্ট চেষ্টা করেনি। আমি আমার কাজ তোমাদের উদ্দেশে উৎসর্গ করলাম। এই পৃথিবীতে কত মানুষ খারাপ পরিস্থিতিতে আছেন, যার ওপরে তাঁদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তারপরও তো কতজনই দারিদ্র্য জয় করেছেন। উপেক্ষা, প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাফল্য ছিনিয়ে নিয়েছেন। আমার কাজ আমি উৎসর্গ করছি তাঁদের জন্য। আমি জানি, তোমাদের প্রত্যেকের আছে নিজের একটা করে গল্প, তোমাদের আন্তরিক সাধনা করতে হবে। তোমাদের প্রত্যেকের সামর্থ্য আছে এমন কিছু করে দেখানোর, যা আমাদের গর্বিত করতে পারবে।’
এখনো কি সময় হয়নি গ্রেডের পাগলামী কমিয়ে বেশি করে সায়েন্স ফ্যাসিলিটিজ স্থাপন করার্। যাতে দীপঙ্কররা বাইরে না যেয়ে আমাদের দেশে বসেই করতে পারে গবেষণা
আমরাও যেন গর্ব করে করে বলতে পারি আমাদের বিজ্ঞানীরা আমাদের ল্যাবে বসেই সমাধান করছে মহাজাগতিক রহস্য।
প্রাউড অফ ইউ দীপঙ্কর
সোর্স - অনলাইন
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



