somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক বরষায়...

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কি অদ্ভুত না! কিছুক্ষণ আগ পর্যন্তও জানতাম না যে এ মুহুর্তগুলো আমার জীবনে সত্যিই কখনো আসবে। ভেবেছিলাম এটা আমার আজন্ম কল্পনা। অথচ একটু আগেই মুহুর্তগুলো কেটে গেল, চোখের পলকে। আর আমি শুধু অনুভব করে গেলাম। চেয়ে দেখার সাহসটুকুও হলো না।


এরপর আরোও একটা ঘন্টা কেটে গেছে। কিন্তু আমি এখনো সেই ঘোরের মধ্যেই রয়ে গেছি। হঠাৎ আবিষ্কার করলাম, নিজে নিজের হাতটা ধরে বসে আছি। মনে হচ্ছে হাতটা আমার না তোর, যেখানে এখনো তোর স্পর্শ লেগে আছে। কি খুব গাধা মনে হচ্ছে আমাকে? আমি তো আসলেই একটা গাধা, এটা তো তোরই কথা। গাধা না হলে কি আর কেউ এমনটা করে বল! না হয় করলামই একটু গাধামি। কি আর এমন ক্ষতি হবে তাতে।


জানিস! আজকের মতো এতো সুন্দর বৃষ্টি না আমি জীবনেও দেখিনি। আচ্ছা! বৃষ্টিটা কি আসলেই অনেক সুন্দর ছিল নাকি তুই পাশে ছিলি বলে এতো সুন্দর লাগছিল! জানি না। কিছু মুহুর্তের জন্য যেন আমার হাসি-কান্না, বৃষ্টির জল, হিমেল হাওয়া আর তোর হাতের উষ্ণ তা সবকিছু মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবীর সব ভালোলাগা বুঝি আমার হাতে এসে ধরা দিয়েছে।

অনেকগুলো কথা বলবার ছিল তোকে। কিন্তু পারিনি বলতে। যখন সত্যি সত্যি কোনকিছু বলার থাকে, তখন উপযুক্ত শব্দ খুঁজে পাওয়া বড় কঠিন। এমনকি উপযুক্ত শব্দ পেলেও সেটা বলতে লজ্জা হয়, সংকোচ হয়। কারণ, শব্দটি মান্ধাতার আমলের, গত শতাব্দীর। এ যুগে শব্দগুলো শুনলে ফিল্মি ডায়ালগ মনে হয়। এই অনুভূতি প্রকাশের শব্দটি আমাদের যুগে এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। আর তাছাড়া সবসময় চাইলেও সব কথা বলা যায় না। আমি পারিনা বলতে। হয়তো এটা আমার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা – সময়ের কথা সময়ে বলতে না পারা।

তবু এতোগুলো সুন্দর মুহুর্তের মধ্যে থেকে সুন্দরতম মুহুর্তের কথাটা না বললেই নয়। মুখে না বলতে পারি, অন্তত লিখে তো বলতে পারি। আমার হাতের আঙ্গুলগুলো যখন তুই তোর আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে একটা একটা করে সাজাচ্ছিলি, খুব অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছিল তখন। তাই খুব শক্ত করে তোর হাতটা আঁকড়ে ধরে চোখ বন্ধ করে বসেছিলাম । কেন যেন মনে হচ্ছিল ছেড়ে দিলেই যেন হারিয়ে যাবে অনুভূতিটা, হারিয়ে ফেলবো তোকে। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে শয়তানী টাইপের একটা হাসি দিয়ে তখন বলেছিলি, “আমিও শক্ত করে ধরতে জানি।“ জানিস! সেই মুহুর্তে ভীষন ইচ্ছে করছিল বলতে, “ধর, যত শক্ত করে পারিস ধরে রাখ আমার হাতটা যাতে তোর হৃৎপিন্ডের প্রতিটা স্পন্দন আমার কানে এসে বাজে।“

জানিনা সেইসময় তোর ফিলিংসগুলো কেমন ছিল! হয়তো কিছুই না, হয়তো অনেক কিছুই, তবে যেমনই থাকুক না কেন, সেটা একান্তই তোর। সেটা নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নেই। আমি শুধু জানি সময়টুকু আমার কাছে কতোটা দামী ছিল!

আমার ফিলিংসগুলোকে তোর কাছে মনে হতে পারে – কখনো পাগলামি, কখনো ইনফ্যাচুয়েইশান, কখনো ইগো কিংবা কখনো জেদ। কিন্তু আমি জানি কতোটা ভালোবেসে ধরেছিলাম তোর হাতটা! কতোটা নির্ভরতা, কতোটা বিশ্বাস ছিল তাতে। পারিনি তোকে বুঝাতে সেটা।

সান্ত্বনা শুধু এটুকুই - এ পৃথিবীতে তো অনেকেই অনেককে ভালোবাসে। কিন্তু ক’জন পারে তার ভালোবাসার সাথে এতো সুন্দর সময় কাটাতে কিংবা সেটাকে একান্ত নিজের মতো করে ফিল করতে! কিন্তু আমি পেরেছি, তা তুই আমায় ভালোবাসিস কি না বাসিস। আবার এটাও সত্যি সবাই সবকিছু পায় না। আর তাই তোর হাতটা নিজের করে ধরে রাখতে না পারাটা - না হয় আমি আমার না পাওয়ার খাতাটাতেই লিখে রাখলাম।

তবে হ্যাঁ সৃষ্টিকর্তার কাছে একটা প্রার্থনা আমার সবসময় থাকবে - এমন মুহুর্ত যদি আবার আমার জীবনে কখনো আসে, তাহলে সেই দিনটাতেও যেন আমার পাশে তুই-ই থাকিস...ভালোবেসে...

তুই, আমি আর ঝুম বরষা...আমি সেই দিনটির অপেক্ষাতেই রইলাম...
১১টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট পোস্ট!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯


জুলাই সনদে স্বাক্ষরের দিন ড. ইউনুস বলেছেন, “এই সনদে স্বাক্ষর করলে আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতায় উন্নীত হবো।”
আর গতকাল উনি বলতেছেন বাঙালি হচ্ছে বিশ্বের মাঝে সবচেয়ে জালিয়াত জাতি! তো জুলাই সনদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯

তিন শ' এক//
আমার সাহস দেখে, জানি. তুমি খুব রেগে যাবে।
ঘরহীন, সর্বহারা ভালোবাসা জানায় কিভাবে ?

তিন শ' দুই//
চোখের মালিক ঘোর নিঃশ্বতার আঁধারে ডুবেছে;
তবুও বেকুব চোখ সুন্দরের নেশায় ডুবেছে!
...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশী ১৭৫৭, বাংলাদেশ ২০২৬ঃ সিরাজের বাহিনি ও বিএনপি

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০



সামনের ইলেকশনে যদি ডিপস্টেট, জামাত ও এঞ্চিপির যৌথ প্রচেষ্টায় 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' বা 'মেকানিজম' হয় (যেটার সম্ভাবনা নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছেন অনলাইন-অফলাইন-দুই জায়গাতেই), তবে কি বিএনপি সেটা ঠেকাতে পারবে? পারবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জালিয়াতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪৯



জালিয়াতি -১
কয়েক মাস আগে, লন্ডন থেকে আমার এক আত্মীয় ফেসবুকে ম্যাসেজ করলেন যে, ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের সাথে আমার একটি ফোটোকার্ড ইন্টারনেট দুনিয়া কাঁপিয়ে দিচ্ছে। আমি চমকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নাই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৩


ঢাকার মিরপুরে পরিচয় গোপন করে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের এক পোড়খাওয়া নেতা টাইম ম্যাগাজিনের তারেক রহমান কে নিয়ে লেখা বাংলা অনুবাদ পড়ছিলেন । প্রচ্ছদে তারেক রহমানের ছবি, নিচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×