ঝালকাঠি, মিলিটারি ক্যান্টনমেন্ট
২৪/৭/৭১, বাংলা ৬ শ্রাবণ, ১৩৭৮
স্নেহের ফিরোজা,
তোমাকে ১৭ বৎসর পূর্বে সহধর্মিণী গ্রহণ করিয়াছিলাম। অদ্যাবধি তুমি আমার উপযুক্ত স্ত্রী হিসাবে সংসারধর্ম পালন করিয়া আসিয়াছ। কোন দিন তোমার উপর অসন্তুষ্ট হইতে পারি নাই। আজ আমি তোমাদের অকূল সাগরে ভাসাইয়া পরপারে চলিয়াছি। বীরের মতো সালাম- ইনশাল্লাহ জয় আমাদের হইবে, দুনিয়া হইতে লাখ লাখ লোক চলিয়া গেছে খোদার কাছে। কামনা করি যেন সব শহীদদের কাতারে শামিল হইতে পারি। মনে আমার কোন দঃখ নাই। তবে বুক জোড়া কেবল আমার বাদল। ওকে মানুষ করিয়ো। আজ যে অপরাধে আমার মৃত্যু হইতেছে খোদাকে সাক্ষী রাখিয়া আমি বলিতে পারি যে এই সব অপরাধ হইতে আমি নিষ্পাপ। জানি না খোদায় কেন যে আমাকে এরূপ করিল। জীবনের অর্ধেক বয়স চলিয়া গিয়াছে, বাকি জীবনটা বাদল ও হকিমকে নিয়া কাটাইবে। (...) পারিলাম না। বজলু ভাইয়ের বেটা ওহাবের কাছে ১৫ হাজার টাকা আছে। যদি প্রয়োজন মনে কর তবে সেখান হইতে নিয়া নিয়ো।
ইতি
তোমারই
বাদশা
(বাবা হাকিম, তোমার মাকে ছাড়িয়া কোথাও যাইয়ো না)
চিঠি লেখকঃ শহীদ বাদশা মিয়া তালুকদার, গ্রামঃ বাঁশবাড়িয়া, উপজেলাঃ টুঙ্গিপাড়া, জেলাঃ গোপালগঞ্জ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


