somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডাইনির স্বর্গ

০২ রা নভেম্বর, ২০২০ সকাল ৭:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন অন্ধকার ছিল
আমার আত্মাটা কি দেখে চমকে উঠছিল।
জ্ঞান ফেরার পর কিছু মানুষকে দেখলাম আমার দেহ মাটির ঘরে রেখে যাচ্ছে।
বড্ড অসহায় লাগছিল তখন।চোখ ফেটে কান্না আসছিল।শরীরটা নিথর। এক গাদা মাটির নীচে চাপা পড়ে আছে।সন্ধে নামছিল গোরের পাশ থেকে কেউ একজন আমাকে দেখে চমকে গেল।যেমনি আমি চমকে ছিলাম।এখন সে ও আমি বন্ধু।আধার রাতে দু'জনে চমকে দেই দু-একজন কে।

শায়লাকে নাকি ডাইনি বিদ্যেয় ধরেছে।সবার পেটের বাচ্চা খেয়ে ফেলছে। খুব অসহায় লাগছে ওকে।কি করবে ওর কোন দোষ নেই।ইচ্ছে হলে মরেও যেতে পারবে না।ডাইনি বিদ্যে কাউকে দিতে হবে।নইলে মরবে না।

আজ রাতে আসছিল আমার গোরের পাশে।চমকে দিতে চাচ্ছিলাম কিন্তু পারলাম না।খুব মায়া লাগছিল ওর জন্য।বিকেলে ওর বান্ধবী অসুস্থ হয়ে পড়ছে।সাত মাসের গর্ভবতী ছিল।ভর দুপুরে আসছিল ঘাটে।শায়লার জানালা দিয়ে ঘাট দেখা যায়।

হঠাৎ চোখ যায় মালার দিকে।কিন্তু একি! ও বান্ধবীর পেটের বাচ্চাটার দিক থেকে চোঁখ ফেরাতে পারছেনা।হাজারো চেষ্টা করেও পারলনা।চোঁখের দৃষ্টি ধীরে ধীরে তীক্ষ্ণ হতে লাগল।মালা চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে গেল।রক্তপাত হচ্ছিল ওর নীচ দিয়ে।

কারো বুঝতে বাকি রইলনা এটা ডাইনি শায়লার কাজ।মালার মা এসে এক বিকেল শুধু অভিশাপ দিয়ে গেল।গ্রামের মানুষ ভয়ে ওর দিকে তাকায় না।মাতব্বরের নির্দেশে ওঝা এসে প্রচন্ড মন্ত্র-তাবিজ দিয়ে ঝেড়ে দিয়ে গেছে মালাকে।

কাল ওর ওপর ঝাড় ফুক চলবে।এত কষ্টের পরেও মরবেনা ও।না মরার কষ্টই ওকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।আমার গোরের পাশে বসে কাঁদছে।অভিযোগ দিচ্ছে।কাজল চোখটা এখন ভয়ংকয় হয়ে গেছে।কালো মসৃণ চুল গুলো কেমন ঝাকড়া আর লালচে হয়ে আছে।কেমন বিভৎস সুন্দর লাগছে ওকে।ওর কান্নায় এখন মায়াবী সূর নেই।কেমন ব্যাঘ্র কণ্ঠে কান্না করছে ও।

আমার এখন এগুলোই ভাল লাগছে কিন্ত কেনো।আমিতো এগুলো পছন্দ করতাম না।ওর মসৃণ কালো কেশ,মায়াবী কন্ঠের গান আর কাজল কালো চোখ পছন্দ করতাম।দু'দিনেই রুচির এত তফাৎ কেমন অদ্ভুত লাগছে নিজের কাছে।মরে গেলে মানুষের রুচি পাল্টে যায় সব কিছু উল্টো হয়ে যায়।ভাল মানুষগুলো খারাপ হয় আর খারাপেরা ভাল হয়।

আমি কি সত্যিই মরে গেছি। নাহ একবার শায়লাকে জিজ্ঞেস করে দেখি।কিন্ত হায়! ও আমার কথা শুনছে না কেনো।ও আমার দিকে তাকালোও না।কেনো ও কি আমায় ভালবাসেনা।নাহ! এ জীবন আর রাখবো না।ওহ! আমার তো জীবন-ই নেই।তাহলে এত কষ্ট হচ্ছে কেনো আমার।

ও চলে গেছে। মালা এখনো অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।সবাই শায়লার বাড়ির সম্মুখে হাজির হয়েছে।ওঝা আর তার দু'জন শাগরেদও এসেছে।মরিচ পোড়া দেয়া হয়েছে।আমার কেমন যেন লাগল।মনে হল আবার মরে যাবো।কিছুই বুঝতে পারছি না।মরিচ পোড়ায় এত কষ্ট লাগছে কেনো।তিনদিন আগেও তো নিজে সাকাল বেলা পোড়া মরিচ দিয়ে ভাত খেলাম।ওকি শায়লা চিৎকার পাড়ছে কেনো। তবে ও কি মরে গেছে! পোড়া মরিচ দিয়ে তো ও-ই আমাকে খাইয়ে দিয়েছিল।তাহলে গ্রামবাসী ওকে দেখতে পাচ্ছে কি করে।

হঠাৎ করেই ওঝা হাক ছাড়ল, ডাইনি এখনি তার বিদ্যে অন্যের উপর দিবে।সবাই ওর চোখের আড়ালে চলে যাও।মন্ত্র পড়ে ওঝা আগুনের মশালের উপর কি যেন ছুড়ে মারছে আর আকাশ বাতাস কাপিয়ে শায়লা চিৎকার করতেছে।আমার হাসি পাচ্ছে ওর অবস্থা দেখে।আমিতো ওর দুঃখে কান্না করতাম কিন্ত আজ এত হাসি পাচ্ছে কেনো।ওহ! আমিতো ভূত হয়ে গেছি।ভূতেরা কষ্ট পেলে কান্না করে আর আনন্দে হাসে।

মাতব্বরের নাতনি শিলা কলপাতার ফোকর দিয়ে ডাইনির মৃত্যু যন্ত্রনা দেখছে।ওর মায়া হচ্ছে।মালা ওঝার পাশে এখনো। ওর হুশ ফিরেছে ওঝা দেখেনি।মিটিমিটি চোখে শায়লার দিকে তাকিয়ে আছে।শায়লা আবছা চোখে শিলাকে দেখছে।ও এখনি বেচে যাবে, ওর বিদ্যে শিলার দেহে দিয়ে দিবে।ওঝা এক হাক দিয়ে আবারো কি যেন আগুনে দিল।আকাশ বাতাস কাপিয়ে শায়লা চিৎকার করে উঠল।ধীরে ধীরে ও ঢলে পড়তে লাগল।ওঝা আবারো মন্ত্র ঝাড়ল।কিন্তু শায়লা নিথর হয়ে আছে।

শায়লা এখন আমার দিকে আসছে।গ্রাম বাসী হইচই করে আনন্দে আটখানা হয়ে উঠছে।শায়লার লাশ পড়ে আছে মাটিতে।সমস্ত কলরবের মাঝে মালা গোঙ্গাচ্ছে।কেউ খেয়াল করছেনা।কেমন অদ্ভুত সে গোঙ্গানি।শায়লার মত বিভৎস।আমি শায়লার দিকে আগাচ্ছি। ভূতে হয়েও তবে পেলাম ওকে।কান্না আসতেছে আমার।গোরের কাছাকাছি আসতেই শায়লা কেমন জানি উপরের দিকে তাকিয়ে রইল।কিছুক্ষণ পরে দেখলাম ও আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে উপরে চলে যাচ্ছিল স্বর্গের সিড়ি বেয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০২০ সকাল ৭:০৫
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনের গল্প

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৯:৩৫

মাত্র মাস দুই আগে আমার এক আত্মীয়ের সাথে দেখা আমার এক বোনের বাড়ি। তার স্ত্রী মারা গেছেন তার সপ্তাহ দুই আগে। মক্কায় উমরাহ করতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিমান

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১০:১২

" অভিমান "

তোমার ঠোঁটে বোল শিখেছি
তুমি আমার মা, কেমন করে
ভুলছ আমায় বলতে
পারিনা। এমন করে চলে
গেলে, ফিরে ও এলেনা। হয়তো
তোমার সুখেই কাটছে দিন,
আমায় ভাবছ না।

আমি এখন সাগর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার কিছু ভুল!

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১:৪৮

১। ফ্লাস্কে চা থাকে। চা খেতে টেবিলে চলে গেলাম। কাপে দুধ-চিনি নিয়ে পাশে থাকা ফ্লাস্ক না নিয়ে জগ নিয়ে পানি ঢেলে দিলাম। ভাবছিলাম এখন কি করতে হবে? হুঁশ ফিরে এল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতিঃ ব্যাঙের বিয়েতে নামবে বৃষ্টি ...

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ৯:০০



অনেক দিন আগে একটা গল্প পড়েছিলাম। গল্পটা ছিল অনেক এই রকম যে চারিদিকে প্রচন্ড গরম। বৃষ্টির নাম নিশানা নেই। ফসলের মাঠ পানি নেই খাল বিল শুকিয়ে যাচ্ছে। এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশি ভাবনা ও একটা সত্য ঘটনা

লিখেছেন প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ১০:১৭


আমার জীবনের একাংশ জুড়ে আছে; আমি চলচ্চিত্রাভিনেতা। বাংলাদেশেই প্রায় ৩০০-র মত ছবিতে অভিনয় করেছি। আমি খুব বেছে বেছে ভাল গল্পের ভাল ছবিতে কাজ করার চেষ্টা করতাম। বাংলাদেশের প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×