বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত আলোচিত কয়েকজনের মধ্যে পিনাকী ভট্টাচার্য একজন। আজকে তার এই পোস্টে তিনি দাবি করেছে, বাংলাদেশে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের ভ্রুণ তৈরির পেছনে সামুরও অবদান ছিল। আইন তৈরির উদ্দেশ্য ছিল জামাতে ইসলামির টুঁটি চেপে ধরা ও মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে বিরুপ সমালোচনা প্রতিহত করা।
আমি একজন নতুন ব্লগার হিসেবে প্রবীনদের কাছে এর সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি যে এই আইন তৈরির পেছনে সামুর পক্ষ থেকে কোন ধরনের মতামত ছিল ও ডয়েচে ভেলের সাথে সামুর সম্পর্ক কি?
পিনাকী ভট্টাচার্য এর ফেসবুক পোস্ট হুবুহু
ব্রাত্য রাইসুর সুবাদে জানতে পারলাম ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের ভ্রুণ তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশের বাম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ব্লগারেরা আর মুরুব্বি হিসেবে ছিলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আনিসুজ্জামান, মিডিয়া থেকে ছিলো প্রিয় ডট কমের জাকারিয়া স্বপন, প্রথম আলো ও সামহোয়ার ইন ব্লগ। এই সামহোয়্যারইন ব্লগকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতো ডয়েচে ভেলে। সময়টা ২০১১ সাল। আল্লাহ বাচাইছে কারণ আমি তখনো এই ব্লগের জগতে ঢুকি নাই।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন তারা এই ধরণের একটা আইন করার ক্ষেত্রে উদ্যোগী ভুমিকা নিলো? তাদের যুক্তি ছিলো মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে বিরুপ সমালোচনা প্রতিহত করা।
তাইলে উনারা এখন কান্দেন কেন? এই আদিপাপের দায় কেন তারা নেন না? কেন বলেন না এই কাম তো আমরাই আগ বাড়ায়ে করতে গেছিলাম জামায়াতরে শায়েস্তা করার (পড়ুন ইসলাম কুপানির) জন্য।
এখন প্রশ্ন হইতেছে, ইসলামকে কেন বাঙ্গু পোগোতিশিলদের কুপাইতে হয়? কারণ একটাই, প্রতিহিংসা।
প্রশ্ন করতে পারেন, কোন প্রতিহিংসা? মুসলমান কৃষকের কাছে জমিদারি হারানোর বেদনার প্রতিহিংসা। উঠতি ক্যাপিটালিজমের কাছে সামন্তবাদের পরাস্ত হওয়ার প্রতিহিংসা থেকেই দলে দলে জমিদার নন্দনেরা কমিউনিস্ট আন্দোলনে যুক্ত হয়। কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে বেশীরভাগ জমিদার নন্দনদের মুলত একটাই কাজ ছিলো পোগতিশিলতার নামে ইসলাম বিদ্বেষ ফেরি করা। তাই কমিউনিস্ট আন্দোলনের মুল ভাব চিহ্ন হয়ে দাঁড়ায় নাস্তিকতার নামে দগদগে ইসলাম বিদ্বেষ।
একসময় কমিউনিজমের নৌকায় চাইপ্যা ইসলাম কুপাইছে, তারপরে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের নৌকায় চাইপ্যা ইসলাম কুপাইছে, এখন যুদ্ধাপরাধের নৌকায় চাইপ্যা ইসলাম কুপায়। কমিউনিস্ট নামধারী জমিদার নন্দনদের অনন্ত জিঘাংসার চরিত্র বুঝতে না পারলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট আপনি বুঝতে পারবেন না।
বাম রাজনীতির বয়ানগুলো গড়েই উঠেছে ইসলাম কুপানির বদ মতলব থেকে। খেয়াল করে দেখেন, রাজাকারের প্রতিচ্ছবির গায়ে ইসলামী পোষাক কারা পরিয়েছিলো? এখন সেই বাম বয়ানগুলোকে আপনি পরাস্ত করতে পারছেন কিনা তার উপরেই নির্ভর করবে আপনি আগামীর বাংলাদেশ গড়তে পারবেন কিনা? বাম বয়ানকে পরাস্ত করতে পারার ব্যর্থতাই আমাদের দুর্বলতা। এই বয়ানকে পরাস্ত করার লোক বাংলাদেশে বেশী নাই। তারা মনে করেছিলো আমি সেই কাজটা করছি নিষ্ঠার সাথেই, তাই আমাকে দেশ ছাড়া করেছে তারা। তাড়া করেছে ডিজিএফআই, কিন্তু গ্রাউন্ড তৈরি করেছে বামেরা।
একজন বামকে তখুনি বিশ্বাস করবেন, যখন সে তার ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যকে বলি দিয়ে লড়াইয়ের কাতারে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে ভয়াবহ জুলুমের শিকার হচ্ছে। জুলুম হচ্ছে সেই কষ্টিপাথর যা দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজের সততার পরীক্ষা দিতে হবে বামেদের। সেই বামকে ফ্যাসিবাদ শত্রু গণ্য করছে কিনা সেটাই তার সততার তার লড়াইয়ের আন্তরিকতার প্রমাণ। প্রমাণ নিয়ে তারপরে গ্রহণ করেন, তার আগে নয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


