বিলিয়ন বিলিয়ন হ্যাশট্যাগ দিয়ে একটা বারুদও ঠেকানো যাবেনা। মুখে যতটুকো বলা যায় কাজে তার ১০ভাগ করতে পারলেও যথেষ্ট।
অস্ত্রের প্রতিরোধ অস্ত্র দিয়েই করতে হবে এটাই নিয়ম। জন্ম থেকেই জুমার খুৎবায় ফিলিস্তিন, কাশ্মীর ও আরাকানের জন্য দোয়া শুনে আসতেছি। ফলাফল শূন্য।
ফেসবুকে মাতামাতির ফলে যে ক্রোধ জন্মে পরে সেটা সলিম-কলিমের উপর বর্তায়। এখানে প্রধান কারণ হলো ক্ষমতা। ক্ষমতা এবং অস্ত্রে যার নিয়ন্ত্রণ বেশি সেই আধিপত্য বিস্তার করবে বেশি। একজন রিকশাওয়ালা কিছু না বুঝে একটা বল্ল ফলে সেখানে তাকে হত্যা করতেও কারো দ্বিধা হবেনা।কারন তার ক্ষমতা নেই। আর যার ক্ষমতা আছে সে বল্লে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কিছুক্ষণ চেচামেচি করা হয়।
ফেসবুকের এসব হ্যাশট্যাগের কারণে মানুষের ভেতর উচ্ছৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায় এবং সেটা নিম্ন আয়ের ক্ষমতাহীন মানুষের উপর বর্তায়। পরবর্তীতে সেখান থেকে আরজ আলিরা জন্ম নেয়।
ম্যাক্রো থেকে শুরু যারা ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্য দিছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা মিছিলে সোচ্চার হয়েছি কারণ ফ্রান্স থেকে এসে কেউ আমার মত ছলিম কে খুঁজবে না। নিজের যেখানে ক্ষতির শংকা নেই সেখানে বিদ্রোহ মিছিল করে ফাটিয়ে দিয়ে ফিলিস্তিন রক্ষায় হ্যাশট্যাগ দেয়াই যায়। ফলাফল ফাঁকা।
বাংলাদেশে ইসলামের বিরুদ্ধে, নবীর বিরুদ্বে, আল্লাহর বিরুদ্ধে বলে অনেকেই কামিয়াব অর্জন করেছেন কিন্তু মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বলে টিকতে পারেন নাই। এর দুটো কারণ হতে পারে একটা আমরা রুপক বুঝিনা, অথবা ক্ষমতা ও সম্পদকে সমীহ করি।
দ্বিতীয়টা হলো নিজের গায়ে না বিঁধলে চেয়েও দেখিনা।
আমার কাছে বাংলাদেশের সব থেকে বড় আউলিয়া মনে হয় দেওয়ানবাগীকে। সারাজীবন নবীকে,আল্লহকে নিয়ে কটুক্তি করে গেছেন কিন্তু কখনো মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে কিছু বলেন নি। ওনার বিরুদ্ধে কিছুই হয়নি। উনি চ্যালচালাইয়া কবরে গেছেন। আমরা ওনার রুহের আজবের জন্য স্টাটাস দিছি।
কেউ কেউ আবার ৩১৩ জন নিয়ে সংসদ ভবন ঘেরাও করে। জিহাদ জিহাদ করে দেশে উচ্ছৃঙ্খলার সৃষ্টি করে চলেছেন এনারা। পূর্বেও মোনাফেকরা দাড়ি-টুপি পরেই মোনাফেকি করেছেন। আজ থেকে দশ বছর আগে মাহফিলের বক্তাদের ভাষার ব্যবহার এতটা সমাজ ঘনিষ্ঠ ছিল যে শোনার পরে মানুষ দু'দিন হলেও ভালো থাকতো। এসলাহি ওয়াজ হত। এখন টিকটক,ভাইরাল কুরুচির গান আর জিহাদের নামে স্টেজ গরম ছাড়া কোন ওয়াজ হয় না।বক্তৃতার একটা নীতিমালা দেয়া উচিত।
জিহাদের দুটো অর্থ চলমান একটা শত্রুর আক্রমন প্রতিহত করতে জীবন দিয়ে দ্বিধাহীন চিত্তে লড়াই করে যাওয়া।
আরেকটা নিজের বিরুদ্ধে যেটা সবার আগে প্রয়োজন। উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারের সন্ধিক্ষণে আউলিয়ায়ে কেরাম খানকা প্রতিষ্ঠা করে মানুষের মাঝে নফছের জিহাদ চালু করে দিয়েছিলেন। কালের ক্রম বিবর্তনে সেটা বিলুপ্ত হবার পথে। মধ্য প্রাচ্যের সংস্কৃতির অনুসরণ ছাড়া ইসলামের কিছুই নেই বলতে গেলে।
আগে নিজের দেশ ও সংস্কৃতি পরে বাকি সব। ইসলামের সন্ধিক্ষণ থেকে এদেশের সংস্কৃতির সাথে ইসলামি সংস্কৃতির মিশ্রণে যে নান্দিক ধারার সৃষ্টি হয়েছিল সেটা বৃটিশদের "ডিভাইড এন্ড রুলের" ফাঁদে পরে ধর্মীয় উগ্রবাদে পরিণত হয়েছিল সেটার ধারা এখনো জারি। ফলে সৌদি আরাবিয়ান সংস্কৃতির হুবহু আমদানি এখন সচারাচর হয়েগেছে।
মূলত জ্ঞানের চর্চা এবং আত্মার সংশোধন এটাই কাম্য।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০২১ সকাল ১০:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



