somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ থেকে অক্টোবর মাসও শোকের মাস। “শোকাবহ অক্টোবর”।

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




রাজপ্রাসাদের রাজকীয় বৈঠক কক্ষ। লাইট & ক্যামেরা প্রস্তুত। এক্ষুনি আগমন করবেন বিশ্বমানবতার মুক্তিদাত্রী Mother of Humanity (MH)।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

মহাপরাক্রান্ত MH প্রবেশ করলেন। তাকে জাড়িয়ে ধরলেন বেচারী Mother of Abrar (MA)। অসহায় শিশুর মত কাঁদছেন তিনি। MHও দু’চোখে দু’ফোটা অশ্রু আনার চেষ্টা করছেন। তার পরনে সাদা শাড়ি, কালো ব্লাউজ। সাদা ঘড়ি, কালো লিপস্টিক। সদা হাস্যোজ্জল, নানা রঙে রঙিন, চিকণ ওই ঠোঁটদুখানিতে আজ কালো লিপস্টিকের প্রলেপ। এক টুকরো হাসিও নেই সেখানে আজ । সহজেই বোঝা যায়, কতখানি শোকাহত আর ব্যথিত তিনি আজ।
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

MA: আমরা আপনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
MH: আমি আপনাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।


MA: আপনি মা হয়েও নিজের ছেলেদেরকে যেভাবে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমার নেই।
MH: আপিনি যা হারালেন, তাতে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমার কাছে নেই।


MA: আপনি মা হয়েও নিজের ছেলেদেরকে যেভাবে গ্রেফতার করলেন, তা দেখে বিশ্বয় প্রকাশের সামর্থ্য আমার নেই।
MH: গুজবটি রটে যাওয়ার পর কে আমার সোনার ছেলে আর কে আমার সতীনের ছেলে তা কিন্তু আমি দেখিনি, গ্রেফতার করেছি।


MA: আপনি মা হয়েও নিজের ছেলেদেরকে যেভাবে গালি দিয়েছেন, তা আর কেউ পারবেনা কোন দিনও।
MH: কিনখার ছেলেরা আল্লাদে আল্লাদে মাথায় উঠে বসেছে। আমার কাছে কুত্তার ছানা কুত্তার ছানাই, আমার পেটেরতা হোক আর সতীনের পেটেরতা হোক। শুওরের ছানাতো শুওরের ছানাই। কে স্তন পান করিয়ে তাকে বড় করেছে তা দেখার দরকার নেই।


MA: আপনার মত নীতিবান মা এই পৃথিবীতে আর একটিও নেই।
MH: আমার ছেলে তাতে কী, এই জারজ হারামজাদারা মানুষনা। যার সাথে পড়লি লেখলি, এক রুমে এক বেডে থাকলি, কেমন করে পারলি? কেমন করে মারলি? সাপ মারার মত পিটিয়ে পিটিয়ে একদম মেরেই ফেললি?! আমার পরিষ্কার কথা, আজ থেকে অক্টোবর মাসও শোকের মাস। “শোকাবহ অক্টোবর”।



MA: সব মাই যদি আপনার মত হত! আল্লাহ আপনাকে আযাযিলের মত চিরজীবী করুন!
MH: আমার ক্রিতদাসরা (পুলিশ) ভিডিও ফুটেজ গুমের চেষ্টা করার সময় কিছু বজ্জাত শিক্ষার্থী বাধা দিচ্ছিল। ওরাও সম্ভবত আবরারকে পিটিয়েছিল, তা না হলে ভিডিও ফুটেজ গুম করতে দিলনা কেন?! দেখি কোন্‌টাকে কীভাবে কী করা যায়।


MA: আল্লাহ আমাকে দু’টো আবরার দিয়েছিলেন, আবরার ফাহাদ আর এইযে আমার ছোট ছেলে, আবরার ফাইয়ায। ওকে নিয়ে আমি ভিষণ চিন্তিত। (কান্না…………)। ওকেও মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে আপনার দুষ্টু ছেলেরা।
MH: আপনি কোন চিন্তা করবেন না, ওরও যদি কিছু হয়, আমি সাথে সাথে আমার কৃতদাসকে (পুলিশকে) বলে দেব, “সব কয়টা হারামিকে এ্যারেস্ট করো, আমার ছেলে বলে কাউকে ছেড়ে দেবে না। ছেড়ে দেয়া না দেয়া আদালতের ব্যাপার। আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীন। আমি আদালতকে কঠরভাবে বলে দেব, সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ন্যায় বিচার করো, নচেত দেশ ছেড়ে আমেরিকায় চলে যাও। ক্যান্সার সারলে তবেই দেশে ফেরার অনুমতি পাবে”।


MA: ঢাকা কলেজে রাখার আর সাহস পেলাম না ওকে, কুষ্টিয়ার কোন এক কলেজে ভর্তি করে দেয়ার চিন্তা করছি।
MH: ভাল কাজ করেছেন। ওই জানোয়ারের বাচ্চাগুলো মানুষ না। আমি মা তাতে কী, সত্য বলতে আমি কখনই কারো পরোয়া করিনা। এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাইনা আমি। আমার শিরায় শিরায় প্রবাহিত রক্ত মুসলমানের রক্ত। পবিত্র শারদীয় দূর্গা পূজার উৎসবের আমেজ শেষ হওয়ার আগেই এত বড় শোকাবহ ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।


MA: আপনার মূল্যবান সময় আর নষ্ট করবনা, আমরা এখন যাওয়ার অনুমতি চাই, আপনার সার্বক্ষণিক দোয়া এবং দয়ার একান্ত ভিখারী আমরা।
MH: দোয়াতো করবই। তবে ছোট আবরারের দিকে একটু খেয়াল রাখবেন, জামাত শিবির জঙ্গীদের সাথে মিশতে দেবেন না। ওরা আপনার এই আবরারটিকেও বিপদগামী করে দেবে। আবরার ফাহাদের মতই বিপথগামী করে দেবে। হাজার কান্না করেও সেখান থেকে আর ফিরিয়ে আনতে পারবেন না ওকে।




বিপথগামী এক তরুণকে সুপথের ‍দিশা দিচ্ছেন জনতা
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৬:৫৩
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্যরচনা : ইয়ে

লিখেছেন গেছো দাদা, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১:১৪

এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক সহজাত হাসি দিয়ে বললেন - আজ্ঞে আমার ইয়েতে একটু সমস্যা আছে!!
বাঙ্গালী এখনো এঁটো আর যৌনতা নিয়ে পুরোপুরি সাবলীল হয় নি। তবু বিশদে জানতে জিজ্ঞেস করলাম -... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাপান ভ্রমণের শতবর্ষ পর নীলসাধু জাপান পৌঁছলেন

লিখেছেন নীলসাধু, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৪২











কিছুক্ষণ আগে আমার প্রকাশিতব্য বই নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছি। এই বইমেলায় আমি ব্লগে কম আসছি। তাই ভাবলাম স্ট্যাটাস নিয়েই সহ ব্লগারদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমলা শ্রেণীকে গাড়ি, বাড়ি, মোটা বেতনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে জনগণকে আরো কঠিন অবস্থার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে

লিখেছেন সাখাওয়াত হোসেন বাবন, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:১৯

সঞ্চয় পত্রের সুদের হার কমানোর অর্থ হচ্ছে, মানুষকে সঞ্চয়ে নিরুৎসাহিত করে সঞ্চয়পত্র কেনা টাকাগুলোকে বাজারে নিয়ে আসা । ইতিমধ্যে নানা অকার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়পত্র কেনা থেকে নিরুৎসাহিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্বীনের ক্ষমতা- ২

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৩৬



খিলগাঁও, বাগিচা এলাকায় আমরা আড্ডা দিতাম।
বাগিচা মসজিদের ঠিক উলটো পাশেই চুন্নুর চায়ের দোকান। এই চায়ের দোকানে একসময় রোজ আড্ডা দিতাম, আমরা চার পাচজন বন্ধু মিলে। বিকাল থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেগম জিয়াকে ছেড়ে দেয়ার কথা উঠলে, মনটা খারাপ হয়ে যায়

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:১৮



বেগম জিয়ার বয়স বেশী হয়েছে, এই বয়সে আত্মীয়স্বজন থেকে দুরে, জেলে বাস করা সহজ নয়, এটা বুঝতে কারো কষ্ট হওয়ার কথা নয়; এবং সেটার সমাধানও আছে; উনাকে উনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×