এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূত্রপাতের সঠিক সময় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। বৃটিশ শাসনামলে এদেশের মুক্তির স্বপ্ন যারা দেখেছিলেন, বা পাক-ভারত উপমহাদেশের বাটোয়ারাউত্তরকালের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এই লেখার গণ্ডিতে আনা হয়নি। বিশেষভাবে, 'যাদের রক্তে মুক্ত এ দেশ' বলতে আমি 1971 সালের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কথাই বলতে চেয়েছি।
বাংলাদেশ আজ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। বাংলাদেশ আজ এক বাস্তব সত্য। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এতে সমালোচনার অবকাশ থাকতে পারে, কিন্তু এর অস্তিত্বে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন সমপূর্ণ অবান্তর। কেউ এই সত্যকে স্বীকার করুক বা না করুক তাতে বাংলাদেশের কিছুই যায় আসে না। অনেক রক্তের বিনিময়ে এ স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলার তরুুণরা মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে ঝাপিয়ে পড়েছিল, রণাঙ্গনে যে অদম্য সৌর্য্য, বীর্য্য, সাহস ও প্রগাঢ় আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছিল তার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মেলা ভার।
দেশের ভেতর ও বাইরের প্রবল শক্তির বিরুদ্ধে প্রচুর বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে, নিরলস সংগ্রাম করতে হয়েছিল এদেশের স্বাধীনতাকামী তরুণদের। সেদিনের বিরোধী শক্তিবর্গ আজও সক্রিয় দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে। সেদিনের সর্বনাশা পরিকল্পনার নীলনক্সা বাস্তবায়নের ব্যর্থ প্রচেষ্টা আজও তারা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দশ কোটি বাঙালীর আত্মত্যাগ ও এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা সূর্যের উদয়, তা এক নিমেষে মুছে যাবার জন্য আসেনি। যারা তখন প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরুদ্ধোচারণ করেছিল, স্বাধীনতা অর্জনের সূদীর্ঘকাল পরেও তাকে বাস্তবসত্য বলে মেনে নিতে পারেনি। এদেরকে বাংলার আবালবৃদ্ধবনিতা ভালোভাবেই চেনে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীনতার প্রতি কোনো হুমকির সম্ভাবনা দেখা দিলে, এ জাতি আবারও জীবনবাজি রেখে তা প্রতিরোধ করবে।
স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যারা দেশের বাইরে ছিলেন, স্বাভাবিক কারণেই তারা দেশের অভ্যন্তরে কী ঘটছে তা পুরোপুরি জানেন না। আর যারা দেশের ভেতর ছিলেন, তারাও পরিস্থিতির কারণে দেশের অন্যান্য অংশে কী ঘটছে তার সবকিছু জানতে পারেননি।
আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ব্যাপারে সক্রিয় ও সচেষ্ট ছিলাম। তাই সমকালীন অভিজ্ঞতার আলোকে কিছুটা সম্যক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব 'যাদের রক্তে মুক্ত এ দেশ', তাদের সমপর্কে। আমি তখন তদানিন্তন ব্রাক্ষণবাড়িয়া মহকুমার যক্ষা কিনিক ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার, আর ব্রাক্ষণবাড়িয়া যক্ষা হাসপাতাল ছিল পাক বাহিনীর 40-ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটি।
ছবি : মার্চের উত্তাল দিনগুলো
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


