somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমি

২০ শে মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বাধীনতায় মানুষের জন্মগত অধিকার। এদেশের স্বাধীকার ইতিহাস পর্যালোচনা বিশ্ল্ল্লেষণে এটাই সুনির্দিষ্টরূপে প্রতীয়মান হয়েছে যে, বাঙালীর ভাগ্যপরিক্রমা রাজনৈতিকভাবে চিরদিন ঘড়ির কাঁটার উল্টোদিকে ঘুরেছে। ভাগ্য বিপর্যয় বারবার দাসত্বের আকারে তাদের ললাটলিখন হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। বাঙালীরা এই বিধিলিপিকে অনিচছা স্বত্বেও অমোঘ সত্য হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। 1957 সালের 23 জুন পলাশীর আম্রকাননে লর্ড কাইভের ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে মরণপন যুদ্ধে সেনাপতি মীর জাফর আলি খাঁ ও তার অনুচরদের বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। আর এর সাথেই বাংলার ভাগ্যাকাশে বাঙালীর স্বাধীনতার সূর্য্য চিরতরে অস্তমিত হয়ে যায়। পরবর্তীকালের ইতিহাস বিদেশী ইংরেজ শাসকদের অবিচার, অনাচার, নির্যাতন, কুশাসন, শোষণ ও বঞ্চনার নির্মম ইতিহাস। কিন্তু বাঙালীরা কখনোই এই ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষন সহজে মাথা পেতে নেয়নি। তাদের স্বাধীনতার সৌভাগ্য সূর্য্যকে ছিনিয়ে আনার নিরলস প্রচেষ্টা, নিরবচিছন্ন ও প্রগাঢ় আত্মত্যাগ দুশো বছরেরও বেশি সময় কালের ইতিহাসের বুকে স্বাক্ষী হয়ে বিদ্যমান। যখনি সুযোগ পেয়েছে বাঙালীরা এই শাসন ও শোষনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে। কখনোবা এই অসন্তোষ বিক্ষোভের রূপ নিয়েছে। লর্ড ডালহৌসি চলে যাবার পর লর্ড ক্যানিং 1856 সালে এদেশের গভর্নর জেনারেল হয়ে এলেন। আর তখনই ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে এ উপমহাদেশের সর্বত্র পুঞ্জিভূত ক্ষোভ প্রতিবাদী রূপ পায়। 1857 সালে জনতার এই অসন্তোষ সিপাহি বিদ্রোহের আকারে আত্মপ্রকাশ করে। বিদেশী ইংরেজ শাসকের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী জনতার এটাই এদেশের ইতিহাসে প্রথম সশস্ত সংগ্রাম। বিস্তারিত আলোচনা এই বইয়ের কলেবর বহুলাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা, যা অনাহূত ও অনভিপ্রেত। সংক্ষেপে বললে এরপর বাংলার সুযোগ্য সন্তান তিতুমীর ও শরীয়তুল্লাহ প্রমূখের প্রতিরোধ সংগ্রাম, চট্টগ্রামের অগি্নপুরুষ মাস্টারদা সূর্যসেন, কল্পনাদত্ত ও বাঘা যতিন প্রমুখের সশস্ত্র প্রতিবাদ। পাশাপাশি চলে মুসলিম লিগ ও ভারতীয় কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রচেষ্ঠা এবং মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
1947 সালের 14 আগস্ট ব্রিটিশ সরকার দ্বি-জাতি ভিত্তিক পরিকল্পনায় ভারতবর্ষকে দ্বিখন্ডিত করে পাকিস্তান ও হিন্দুস্তান নামে দুটো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ভারতবর্ষের পূর্ব ও পশ্চিম এর দুটো অংশ নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে দূরত্ব হয় প্রায় দেড় হাজার মাইলের মতো। স্বাধীন হয়েও পূর্ব পাকিস্তান ধীরে ধীরে পশ্চিমাংশের কলোনী হয়ে উঠল, এখানকার বাঙালীরা আগের মতোই রয়ে গেল। তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হলো না।
স্বাধীনতার এক বছরের মধ্যেই আঘাত এল বাঙালীর ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর। 1948 সালের 21 মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসভায় পাকিস্তানের জনক ও গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করলেন উর্দু এবং উদর্ুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। ঐ মাসের 24 তারিখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে অনুষ্ঠিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জিন্নাহ সাহেব একই উক্তি করেন। বাঙালীরা বুঝে নিল পাকিস্তান সৃষ্টির সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামের সমাপ্তি ঘটেনি। বরং নতুন ভাবে শুরু হলো। ঐদিন এদেশের ছাত্র সমাজ প্রতিবাদের ঝড় তোলে। 1949 সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 4র্থ শ্রেনী কর্মচারিদের ধর্মঘট শুরু হলো। দিনাজপুর ও রাজশাহীতে ছাত্র বিােভ দেখা দিল। 1951 সালে লিয়াকত আলী খানের সংবিধান সমপর্কিত রিপোর্টের বিরুদ্ধে জনগন প্রতিবাদমূখর হয়ে উঠল। ছাত্র-জনতা নবউদ্যমে ঝাপিয়ে পড়ল স্বাধীনতা সংগ্রামে। শুরু হলো ভাষা আন্দোলন। এল অমর 21 ফেব্রুয়ারি। ছাত্রজনতার মিছিল আর শ্লোগানে মুখর হয়ে উঠল রাজপথ। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিনের হুকুমে পুলিশ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালাল। ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হলো শহীদ সালাম-জব্বার-রফিক-বরকত প্রমুখ ছাত্র জনতার বুকের রক্তে। পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষার জন্য এই প্রথম রক্তদান। তাদের এই আত্মাহুতি বাঙালীর স্বাধীকার আন্দোলনকে আরো এগিয়ে নিয়ে গেল। দেশব্যাপী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন শুরু হলো। 1954 সালে সাধারণ নির্বাচন হলো। এল 92-ক ধারা, 1956 সালে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচিত হলো। সেইসঙ্গে শুরু হলো স্বায়ত্ব শাসনের দাবি। 1958 সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারি করলেন। 1962 সালে হামিদুর রহমানের কুখ্যাত শিক্ষাকমিশন রিপোর্টকে ঘিরে শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শূরু হলো। আমি তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র। (চলবে)
ছবি : রাতারাতি নির্মিত প্রথম শহীদ মিনার '52
2.তৎকালীন কলাভবনে কালোপতাকা উচিয়ে ছাত্রদের প্রতিবাদ '52
3.আমতলায় ছাত্র সমাবেশ '52
4. প্রস্তুত পুলিশ '52
5. 144 ধারা ভাঙতে আগুয়ান জনতা, এরপরই চলে গুলি '52
6. সিপাহী বিদ্রোহীদের ফাসি 1857
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:৩৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×