somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যাদের রক্তে মুক্ত এ দেশ (ধারাবাহিক)

২১ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ৩:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(পূর্ব প্রকাশের পর)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে গভর্নর মোনায়েম খানের বিরুদ্ধে ছাত্র বিক্ষোভ দেখা দিল 1964 সালে। 1966 সালে শেখ মুজিবর রহমান শুরু করলেন তার ঐতিহাসিক ছ'দফা আন্দোলন। 1966 সালের 8মে কয়েকজন আওয়ামী লিগ নেতাসহ শেখ মুজিবর রহমানকে বন্দী করা হয়। সে বছর 13মে ও 7 জুন যথাক্রমে আওয়ামী লিগ নেতাদের মুক্তির দাবিতে ও ছ'দফার স্বপ েক্ষ প্রদেশব্যাপী পূর্ন হরতাল পালিত হয়। মিছিলের ওপর পুলিশ ও ইপিআর বাহিনী বেপরোয়া গুলি চালায়। ঢাকা সহ প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে বহুলোক হতাহত হয়।
ছ'দফা ও আগরতলা ষড়যন্ত মামলা :
7জুন 1968 সালে জেল থেকে মুক্তির পর শেখ মুজিবর রহমানকে আগরতলা মামলার আসামী হিসেবে জেলগেট থেকেই পুনরায় বন্দী করা হয়। 1969 সালের 15 ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে জেল হাজতেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বর্বর পাক দসু্যরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ডক্টর শামস্ উজ্ জোহাকে নিষ্ঠুরভাবে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে। স্বৈরাচারী আইয়ুব শাহীর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আক্রোশ ও ক্ষোভ এক ভয়াবহ রূপ নিল। তারা ঢাকায় মর্নিং নিউজ ও দৈনিক পাকিস্তান (পরে দৈনিক বাংলা) অফিস পুড়িয়ে দিল। ব্যাপক সরকারী সমপত্তি বিনষ্ঠ হলো। প্রদেশব্যাপী গণজাগরনের জোয়ার এল, উপায়ান্তর না দেখে স্বৈরাচারি শাসকচক্র সান্ধ্য আইন জারি করে সেনাবাহিনী তলব করল। কারফিউ অগ্রাহ্য করে মিছিলের পর মিছিল বেরুল। প্রবল এই বিক্ষোভের মুখে সংগ্রামী জনতার কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হলো আইয়ুব সরকার, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হলো তারা। '69 সালের 22 ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবসহ ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামীকেই মুক্তি দেওয়া হয়। সেদিন বিকেলে রেসকোর্সে (সোওরোয়ার্দি উদ্যানে) এক বিরাট জনসভায় ভাষণ দেন শেখ মুজিব। এরপর তিনি ও মওলানা ভাসানী আইয়ুব খানের প্রস্তাবিত গোলটেবিল বৈঠকে যোগদানের জন্য রওয়ালপিন্ডি গমন করেন। জুলফিকার আলী ভুট্টো সহ পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য নেতারাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এখানে শেখ মুজিব তার ঐতিহাসিক 6 দফা পুনরায় উত্থাপন করেন। কেউই তার এই প্রস্তাব মানল না। এমনি করে আইয়ুব খানের প্রস্তাবিত গোলটেবিল বৈঠক ব্যর্থ হয়ে যায়।
স্বৈরাচারি ইয়াহিয়ার আগমন :
রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতা থেকে নেমে যান ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান আর সঙ্গে সঙ্গে তার জায়গা নেন আরেক জান্তা ইয়াহিয়া খান। ক্ষমতায় এসেই সামরিক শাসন জারি করেন তিনি। জাতির প্রতি দেওয়া ভাষণে ইয়াহিয়া খান 1970 সালে দেশে সাধারণ নির্বাচন ও জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দান করেন।
1970 সালের 12 নভেম্বর রাত্রে পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিনাঞ্চলের ওপর এক প্রলয়কারী ঘূর্নিঝড় ও সর্বনাশা সামুদ্রিক জলোচ্ছাস আঘাত হানল। প্রকৃতির এই নিষ্ঠুরপনায় দশ লক্ষ লোক প্রাণ হারায়। সেই সঙ্গে গৃহহীন হয় আরো ত্রিশ লাখ। এ ভয়াবহ দুর্যোগের খবর পেয়ে বিশ্ববাসী কল্পনাতীত ত্রানসরবরাহ নিয়ে এগিয়ে এল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার রইল সমপূর্ণ নিরব দর্শকের ভূমিকায়। কেউ সামান্য সমবেদনা দেখাতে দূর্গত এলাকায় একটি সৌজন্য সফর পর্যন্ত করল না। মওলানা ভাসানী তার কিছুসংখ্যক কর্মী নিয়ে দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং গঠন করেন রিলিফ কমিটি। শেখ মুজিব দুর্গত এলাকায় একনাগাড়ে নয়দিন ছুটে বেড়ালেন। তিনি জনগনকে স্বান্তনা ও কর্মীদের মাধ্যমে রিলিফ দেওয়ার সাধ্যমতো চেষ্টা চালালেন। 26 নভেম্বর ঢাকায় ফিরে তিনি তৎকালীন শাহবাগ হোটেলে প্রায় দুশো দেশি-বিদেশী সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ইংরেজিতে লেখা এক বিবৃতিতে দূর্গত এলাকায় তার সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। সেখানে তিনি কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনৈতিক নেতাদের পূর্ব বাংলার প্রতি বিমাতাসূলভ আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি তাদের ঘৃন্য অপরাধী ও উপনিবেশবাদের 'চেলাচামুণ্ডা' বলে আখ্যায়িত করেন। (চলবে)
ছবি: কিছু'69 গনআন্দোলনের, কিছু '70 এর ঘুর্নিঝড় পরবর্তী অবস্থার
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:২২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Victims of enforced disappearances পার্সন হিসেবে আমার বক্তব্য.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×