4 মার্চ প্রদেশব্যাপী সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ হরতাল পালিত হয়। এইদিন করাচিতে এয়ার মার্শাল (অব) আসগর খান বললেন, 'রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ মুহূর্তে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশের সংহতি রক্ষা করা অপরিহার্য্য।' কোয়েটার ন্যাপ নেতা খান ওয়ালী খান বললেন, 'জাতীয় পরিষদের প্রস্তাবিত অধিবেশন অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত ঘোষণা অগণতান্ত্রিক ও অবাঞ্ছিত। লাহোরে জনাব মালিক সোলাম জিলানী ঘোষণা করলেন, 'এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি, যখন পাকিস্তানকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে সংখ্যাগুরু দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।'
5 মার্চ সমস্ত প্রদেশব্যাপী শেখ মুজিবের আহ্বানে হরতাল পালিত হলো। সাংবাদিক সংস্থা সংহতি জানিয়ে সভা ও শোভাযাত্রা করলেন। বাংলা একাডেমিতে শিল্পীদের সভা হলো। তারা আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করলেন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন সভা করল শহীদ মিনারে, তারা আমরণ সংগ্রামের শপথ গ্রহন করলেন।
এমনিভাবে রক্তের পথ ধরে এগিয়ে চলল উত্তপ্ত মার্চ। শুরু হলো সর্বাত্মক সংগ্রাম, আর এর পঞ্চম দিনে টঙ্গীতে শ্রমিক-জনতার মিছিলের ওপর গুলি চালায় বর্বর হানাদাররা। এতে চারজন নিহত ও 14 জন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান রফিজউদ্দিন (35) ও হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আবদুল মতিন (30)।
প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ল। সেদিন চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল দু'শ বাইশ (222)। যশোরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হলেন একজন, রংপুর ও রাজশাহীতেও কারফিউ বলবত করা হলো। নারায়নগঞ্জ শহরে এক বিরাট জনসভা আয়োজিত হয়। সভা শেষে বেরুল বিশাল এক জঙ্গী লাঠি মিছিল। সেদিন ঢাকায় শিল্পী ও সাহিত্যিকদের এক সভা অনুষ্ঠিত হলো। তারা স্বাধীনতা আদায়ের জন্য সর্বাত্মক সংগ্রামের শপথ নিলেন। তাদের শ্লোগান হলো, 'লেখকের লেখনী হবে সংগ্রামের হাতিয়ার'। এছাড়া আরো অনেক সভা শোভাযাত্রা ও মশাল মিছিল হলো। এ গণজাগরণকে প্রতিরোধ করার জন্য নিষ্ঠুর ও দুধ্বর্ষ জেনারেল টিক্কা খান নতুন সামরিক আইন প্রশাসক ও গভর্নর হিসেবে 5 মার্চ ঢাকায় আসেন। কিন্তু 7 মার্চ '71 হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সিংহহৃদয় জনাব বি, এ, সিদ্দিকী জেনারেল টিক্কা খানের গভর্নর পদে বহালের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনায় অস্বীকৃতি জানিয়ে ইতিহাসের পাতায় বীর বাঙালীর দুঃসাহসীকতার দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন। (চলবে)
ছবি :
শহীদ মিনারে ছাত্র ইউনিয়নের অগি্ন শপথ
2. বেপরোয়া গুলিতে নিহতদের কয়েকজন
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


