নাম তার স্মৃতি।
বয়স কত? ভারী গেলে পাঁচ কি ছয়।
মাঝে মাঝেই তাকে আমার দোকানের সামনের রাস্তাটায় দেখা যায়। কনুইতে একটা ব্যাগ ঝুলিয়ে লোহা লক্কর খুঁজে বেড়ায়। আবার হঠাৎ লাপাত্তা হয়ে যায়।
বেশ কয়েকদিন পর আজ তাকে আবার দেখা গেলো। সেই পুরনো রূপে।
সারাদিনের ব্যাস্ততায় দুপুরের খাবার আজ দোকানেই করার আয়োজনে ব্যাস্ত। সামনে বাচ্চাটিকে দেখতে পেয়ে খাবার খেতে ডাক দিলাম।
=মণি এদিকে আয়, একত্রে ভাত খাই।
=না, আমি খাইয়া আইছি।
=কি খেলি?
=পোলাওমাংস।
=ওরে বাবা, এই কয়দিন কোথায় ছিলি?
=এক অন্ধ লোকের লগে আছিলাম, তার লগে পথে পথে ভিক্ষা করছি। রোজ ২০০ কইরা টাকা দিছে। মাছ মাংস দিয়ে ভাত খাওয়াইছে। ভালোই কামাই হইছে এই কয়দিনে।
=আজ তার সাথে যাস নাই?
=না, তাইতো আজ লোহা টুকাইতে আইছি। ৫ কেজি লোহা পাইলেই যামুগা। তাইলে ৫০টাকা পামু। তার লগে আর যামু না, ভিক্ষা করতে ভালো লাগে না। হে আমারে গালিগালাজ করে।
=তোর বাবা কি করে, মণি?
=আরেক বিয়া কইরা বাবা ভাগছে।
=আর মা?
=মা, ঝুট বাছে।
=বাসায় আর কে আছে?
=ছোট এক ভাই।
=স্কুলে যাস?
=হ, ব্র্যাক স্কুলে যাই। আপারা পড়ায় না। খালি মোবাইলে কথা কয়।
=ভাত যখন খাবি না, কি খেতে মন চায়, তোর?
=একটা চিপস খাইতে মন চায়।
=নে এক প্যাকেট চিপস কিনে খাস।(১০টি টাকা তার হাতে ধরিয়ে দিলাম)
=ভাইয়া, আমি ৫০০ টাকা জমাইয়া আপনারে আমার বাসায় একদিন পোলাও মাংস খাওয়ামু। দাওয়াত দিমু।
=তোর মনটা অনেক বড়। একদিন আমার সাথে ভাত খাবি। ঠিক আছে?
অবাক বিস্বয়ে বাচ্চাটার কথা শুনলাম।
বাবা তো, দায় এরিয়ে পাশা খেলায় মত্ত।
দারিদ্রতা আজ তাকে পণ্যে রূপান্তরিত করেছে।
ভিক্ষার উপকরণস্বরূপ সে দিন হিসেবে বিক্রী হয়ে যায়।
যদি, কিছু ভালো ইনকাম হয়, এই আশায়।
পেটের ভাত যোগানো যার কাছে মুখ্য, শিক্ষা তার কাছে বিলাসীতার শামিল।
দারিদ্রতা তার মনকে সংকীর্ণ করে রাখতে পারে নি।
সে'ও স্বপ্ন দেখে, তারও স্বপ্নে রঙ আছে, রংধনুর রঙ পাখা
মেলে ভেসে বেড়ায়।
সদা আনন্দে থাকুক, পৃথিবীর সকল স্মৃতিমণিরা।
#sohel....vai


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



