অতি প্রাচীনকালে মানুষ যখন সভ্য হয়নি, তখনো সে নিয়মিত সমকামিতা করত। বর্তমানে ‘সমকামিতা’ শব্দটি অনেকের মনে ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করলেও এটি কিন্তু মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিরই ধারাবাহিক রূপ বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। হোমোসেক্সুয়ালিটি বা সমকামিতা-সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইটের এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, অনেক দম্পতিই এখন সমকামিতায় অংশগ্রহণ করে চলেছে, তাদের দাম্পত্য জীবনে কোনো ক্ষতি করা ছাড়াই। অর্থাত্, স্বামী বা স্ত্রী একে অন্যের অগোচরে সমলিঙ্গের অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালেও কেউই তা টের পান না। ঘরের বাইরে তাঁরা অন্য সম্পর্কে জড়ালেও তাঁদের দাম্পত্য জীবন সুখেই রাখার চেষ্টা করেন। হোমোসেক্সুয়ালিটি ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়, ৪১ শতাংশ দম্পতি তাদের সমকামিতার ব্যাপারটি (অবশ্যই তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কাছে) বিনা সংকোচেই প্রকাশ করে থাকে। এ ব্যাপারে তাদের মনে কোনো অপরাধবোধ কিংবা অনুশোচনা কাজ করে না।
এ ব্যাপারে হোমোসেক্সুয়ালিটি ওয়েবসাইটের একজন গবেষক সারিকা পাইলট চৌধুরী বলেন, ‘সমকামিতার ব্যাপারটি নতুন কিছু নয়। আগে এটি অসম্ভব গোপন ব্যাপার ছিল, এখন এটি অনেকটাই সামনে চলে এসেছে। আমার এবং শখের এ বিষয়ক কিছু জনপ্রিয় ভিডিও নেটে সার্চ করলেই পাওয়া যাবে।’
ওয়েবসাইটে সমকামিতা-সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণালব্ধ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, সমকামিতা করে যাচ্ছেন এমন অনেক পুরুষ ও নারী এ ব্যাপারটি নিয়ে মোটেও আলাদা করে ভাবেন না। কারণ, তাঁরা সবাই নিজ নিজ সাংসারিক দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও আইনত সঙ্গীর সঙ্গে এ ধরনের বিশ্বাস ভঙ্গ করে চলছেন। এঁরা সবাই তাঁর সঙ্গীকে ঘরে খুশি রাখেন। নিজেদের দায়িত্ব আগ্রহ সহকারে পালন করেন, কিন্তু ঘরের বাইরে সমকামিতায় লিপ্ত হন।
এমনই একটি কেস স্টাডির কথা আলোচিত গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে এক দম্পতির কথা। যাঁরা দীর্ঘদিনের সাংসারিক বন্ধনে আবদ্ধ। এঁদের দেখলে কেউই বিশ্বাস করবে না, যে এঁরা সাংসারিক জীবনে অসুখী। এঁদের দেখলে সবারই মনে হতে বাধ্য যে বিধাতা হয়তো, ‘দুজন-দুজনার’ করেই তাঁদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। কিন্তু এই দম্পতির স্বামীকে হঠাত্ই একদিন কোনো নিরালায় এক তরুনের সঙ্গে দেখা গেল।
এদিকে, ভারতীয় মনোবিজ্ঞানী হিমাংশু সাক্সেনা বলেন, ‘মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই সমকামী।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারতে সমকামিতার ব্যাপারটি অনেক আগে থেকে চললেও একে এখন স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখা হচ্ছে।’ হিমাংশু বলেন, বিবাহিত জীবন সুখের না হলে কিংবা কোনো কারণে সঙ্গীর সঙ্গে মন-মানসিকতা না মিললে মানুষ সমকামিতারর পথে হাঁটে। হিমাংশুর মতে, প্রাচীনকাল থেকেই নারী-পুরুষ নিজ লিঙ্গের সবার সাথে অনেক ঘনিষ্ঠভাবে মেশে। এই কারণে, বহু ক্ষেত্রে তারা একে অন্যের সঙ্গে মানসিকভাবে অনেক কাছাকাছি চলে আসে। তাই, বিপরীত লিঙ্গের সাথে বিবাহিত হওয়ার পরেও সমকামিতার প্রতি এখন তাই সহজেই মানুষ আকৃষ্ট হয়ে পড়ে।
সমকামিতার ক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্কের নতুনত্বও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ব্যাপারে ১২ বছর ধরে বিবাহিত রাজেশ ঘোষাল নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে সবকিছু দিয়েছি। তাঁকে আমি ভালোবাসি। আমার একজন বন্ধু আছে। সেই বন্ধুকেও আমি ভালোবাসি। একজন মানুষ জীবনে অনেকজনকে ভালোবাসবে—এটাই স্বাভাবিক। আর সমলিঙ্গের কাউকে কি বিয়ে করা সম্ভব?’
রাজেশ মশাইয়ের এই উক্তিতেই পরিষ্কার হয়ে যায়, মাঝেমধ্যে সম্পর্কে নতুনত্ব আনার জন্যও মানুষ সমকামিতা করে থাকে।
“প্রথম আলো অবলম্বনে”
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ২:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


