somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমকামিতায় অনুশোচনা নেই! - একটি ভবিষ্যৎবানীমূলক পোস্ট :P :P :P

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৯:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সমকামিতার ব্যাপারটি অনেক পুরোনো।

অতি প্রাচীনকালে মানুষ যখন সভ্য হয়নি, তখনো সে নিয়মিত সমকামিতা করত। বর্তমানে ‘সমকামিতা’ শব্দটি অনেকের মনে ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করলেও এটি কিন্তু মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিরই ধারাবাহিক রূপ বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। হোমোসেক্সুয়ালিটি বা সমকামিতা-সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইটের এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, অনেক দম্পতিই এখন সমকামিতায় অংশগ্রহণ করে চলেছে, তাদের দাম্পত্য জীবনে কোনো ক্ষতি করা ছাড়াই। অর্থাত্, স্বামী বা স্ত্রী একে অন্যের অগোচরে সমলিঙ্গের অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালেও কেউই তা টের পান না। ঘরের বাইরে তাঁরা অন্য সম্পর্কে জড়ালেও তাঁদের দাম্পত্য জীবন সুখেই রাখার চেষ্টা করেন। হোমোসেক্সুয়ালিটি ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়, ৪১ শতাংশ দম্পতি তাদের সমকামিতার ব্যাপারটি (অবশ্যই তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কাছে) বিনা সংকোচেই প্রকাশ করে থাকে। এ ব্যাপারে তাদের মনে কোনো অপরাধবোধ কিংবা অনুশোচনা কাজ করে না।

এ ব্যাপারে হোমোসেক্সুয়ালিটি ওয়েবসাইটের একজন গবেষক সারিকা পাইলট চৌধুরী বলেন, ‘সমকামিতার ব্যাপারটি নতুন কিছু নয়। আগে এটি অসম্ভব গোপন ব্যাপার ছিল, এখন এটি অনেকটাই সামনে চলে এসেছে। আমার এবং শখের এ বিষয়ক কিছু জনপ্রিয় ভিডিও নেটে সার্চ করলেই পাওয়া যাবে।’ B-))

ওয়েবসাইটে সমকামিতা-সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণালব্ধ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, সমকামিতা করে যাচ্ছেন এমন অনেক পুরুষ ও নারী এ ব্যাপারটি নিয়ে মোটেও আলাদা করে ভাবেন না। কারণ, তাঁরা সবাই নিজ নিজ সাংসারিক দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও আইনত সঙ্গীর সঙ্গে এ ধরনের বিশ্বাস ভঙ্গ করে চলছেন। এঁরা সবাই তাঁর সঙ্গীকে ঘরে খুশি রাখেন। নিজেদের দায়িত্ব আগ্রহ সহকারে পালন করেন, কিন্তু ঘরের বাইরে সমকামিতায় লিপ্ত হন।

এমনই একটি কেস স্টাডির কথা আলোচিত গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে এক দম্পতির কথা। যাঁরা দীর্ঘদিনের সাংসারিক বন্ধনে আবদ্ধ। এঁদের দেখলে কেউই বিশ্বাস করবে না, যে এঁরা সাংসারিক জীবনে অসুখী। এঁদের দেখলে সবারই মনে হতে বাধ্য যে বিধাতা হয়তো, ‘দুজন-দুজনার’ করেই তাঁদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। কিন্তু এই দম্পতির স্বামীকে হঠাত্ই একদিন কোনো নিরালায় এক তরুনের সঙ্গে দেখা গেল। :D এ ব্যাপারে স্বামী মানুষটির বিবেক অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি বলেন, ‘দেখুন আমি আমার স্ত্রীকে অত্যন্ত ভালোবাসি। কতটা ভালোবাসি সেটা আপনাদের বলে বোঝাতে পারব না। স্ত্রীর সঙ্গ ছাড়া আমি অচল। কিন্তু মাঝেমধ্যে যখন বিরক্তি লাগে, তখন আমি পুরুষের সঙ্গে সময় কাটাই। সেই পুরুষটি আমার অফিসেরই একজন। সেও বিবাহিত। ’

এদিকে, ভারতীয় মনোবিজ্ঞানী হিমাংশু সাক্সেনা বলেন, ‘মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই সমকামী।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারতে সমকামিতার ব্যাপারটি অনেক আগে থেকে চললেও একে এখন স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখা হচ্ছে।’ হিমাংশু বলেন, বিবাহিত জীবন সুখের না হলে কিংবা কোনো কারণে সঙ্গীর সঙ্গে মন-মানসিকতা না মিললে মানুষ সমকামিতারর পথে হাঁটে। হিমাংশুর মতে, প্রাচীনকাল থেকেই নারী-পুরুষ নিজ লিঙ্গের সবার সাথে অনেক ঘনিষ্ঠভাবে মেশে। এই কারণে, বহু ক্ষেত্রে তারা একে অন্যের সঙ্গে মানসিকভাবে অনেক কাছাকাছি চলে আসে। তাই, বিপরীত লিঙ্গের সাথে বিবাহিত হওয়ার পরেও সমকামিতার প্রতি এখন তাই সহজেই মানুষ আকৃষ্ট হয়ে পড়ে।

সমকামিতার ক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্কের নতুনত্বও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ব্যাপারে ১২ বছর ধরে বিবাহিত রাজেশ ঘোষাল নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে সবকিছু দিয়েছি। তাঁকে আমি ভালোবাসি। আমার একজন বন্ধু আছে। সেই বন্ধুকেও আমি ভালোবাসি। একজন মানুষ জীবনে অনেকজনকে ভালোবাসবে—এটাই স্বাভাবিক। আর সমলিঙ্গের কাউকে কি বিয়ে করা সম্ভব?’ :-B :-B :-B

রাজেশ মশাইয়ের এই উক্তিতেই পরিষ্কার হয়ে যায়, মাঝেমধ্যে সম্পর্কে নতুনত্ব আনার জন্যও মানুষ সমকামিতা করে থাকে।

“প্রথম আলো অবলম্বনে”
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ২:০৪
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি বড়দের গল্প - ছোটরাও পড়তে পারে

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

বিজ্ঞানীরা তিনটা আলাদা দ্বীপে দুইজন পুরুষ আর একজন মহিলা মানুষকে এক বছরের জন্য ফেলে রেখে এসেছে। একটা দ্বীপ ব্রিটিশদের, একটা ফ্রেঞ্চদের, আর শেষটা আমাদের বাংলাদেশীদের। এক বছর পর যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৈচিত্রে ভরা মহাবিশ্ব, তবে মানুষ কেন একই রকম হবে?

লিখেছেন মিশু মিলন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৩৯



এবার শেখরনগর কালীপূজার মেলায় গিয়ে সন্ধ্যার পর ভাগ্নি আর এক দাদার মেয়েকে বললাম, ‘চল, তোদের অন্য এক জীবন দেখাই।’
সরু গলি দিয়ে ওদেরকে নিয়ে গেলাম পিছনদিকে যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×