somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপ্রকাশিত লেখা - নীল আকাশের জন্য ...

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ ভোর ৫:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"আকাশ (মেকা '০৯) অসুস্থ।
তার বেশ কয়টা স্নায়ু কাজ করছে না। প্যারালাইজ হয়ে গেছে শরীরের বিভিন্ন অংশ। কালকে নাগাদ নিশ্চিত হওয়া যাবে ও ঠিক কি সমস্যায় ভুগছে আর ট্রিটমেন্টই বা কী হবে।
ডাক্তারদের আশংকা সত্য হলে ও হয়তো মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে প্যারালাইজড হয়ে যাবে। মাত্র ২ বা ৩ দিন হয়তো সময় পাওয়া যাবে ওকে সুস্থ করে তোলার...
জানা গেছে, চিকিৎসার খরচ প্রায় ৮-১০ লাখ টাকা।

সুস্থ, চিরপরিচিত আকাশ - অসুস্থ, প্যারালাইজড আকাশ

মাঝে মাত্র কয়েকটা দিন আর কয়েক লাখ টাকার ফারাক।
পারবো না আমরা ওকে ফিরিয়ে আনতে???

(কালকে থেকে প্রতিদিন পরীক্ষা শেষে আমরা বক্স-বুথ নিয়ে থাকবো ক্যাম্পাসে। বুয়েটের সবগুলো ব্যাচ, সবগুলো ডিপার্টমেন্টের সবাই চেষ্টা করবো যেভাবে পারি অংশ নেয়ার। হাতে খুব অল্প সময়।)"


- উপরেরটুকু জানা ছিল।

কিছুক্ষণ আগে আকাশকে দেখতে গিয়েছিলাম ডিএমসিতে।
২১৯ নাম্বার ওয়ার্ডের সামনে গিয়ে জানলাম আইসিইউতে আছে ও। কিছুক্ষণ পরে আবার ওকে ফিরিয়ে আনা হয় ওয়ার্ডে।

মুখে সেই চিরচেনা হাসি!!

... না। মুখে হাসি ছিলনা আকাশের।
কারণ, ওর ফেসিয়াল টিস্যুগুলো কাজ করছেনা। কাজ করছেনা জিহ্বা আর ঘাড়ের পেশিগুলোও। হাসির জায়গা দখল করে চেহারায় একরাশ অনিশ্চয়তা।


ডাক্তার বলল হয়তো কোন পোস্ট ভাইরাল অ্যাটাকের কারণে এমন হচ্ছে। নয়তো ওর শরীরে এমন কিছু অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে যেগুলো ওর নিউরোমাসকুলার জয়েন্ট এ সিগন্যাল প্রসেস করতে দিচ্ছে না। ফলে ও ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অংশের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। অবশ হয়ে পড়ছে বিভিন্ন অরগ্যান। আজকে সন্ধ্যায় নিশ্চিত করে জানা যাবে ঠিক কি কারণে এমনটা হচ্ছে। কিন্তু কারণ যাই হোক, ওর চিকিৎসার জন্য পরপর পাঁচ দিন পাঁচটা ইঞ্জেকশন দিতে হবে যেগুলো তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডিগুলোকে প্রতিহত করে শরীরের উপর মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনবে ধীরে ধীরে। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে আমাদের আকাশ ...


আমাদের রুদ্র বিষণ্ণ আকাশ...

সবার থেকে আলাদা ... শান্ত সৌম্য আকাশ ...



সবসময়ের মতো এবারও কেন যেন আকাশ আলাদা হয়েই থাকলো। ওর এই অসুস্থতা খুবই রেয়ার। ডাক্তারদের ভাষায় - 'লাখে একজনের হয়'। ডাক্তাররা নিশ্চয়তা দিতে পারলোনা কোন। খালি বলল এতো ভাল একটা ছেলে, আল্লাহ নিশ্চয় সহায় হবে।

আমরা জানি, আল্লাহ আমাদের আকাশকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিবে, দিতেই হবে...
কারণ বোনের 'সোনার টুকরা' ভাই, মায়ের আদরের আকাশকে আল্লাহ এভাবে কষ্ট দিবেনা। ওর জন্য এতো অশ্রু, এতো দোয়া আল্লাহ বিফলে যেতে দিবেনা।

আমরা কি পারিনা আমাদের এই ছোট ভাইটার জন্য, আমাদের এই বন্ধুটার জন্য এগিয়ে আসতে??? আমরা কি পারিনা আমাদের রুদ্র আকাশকে সুস্থ করে তুলতে???

আমাদের আকাশ কথা বলতে পারছেনা।
খেতে পারছেনা। এমনকি তরল খাবারও নাক দিয়ে উঠে আসছে।
চোখের পাতার উপর নিয়ন্ত্রণ নেই।
ঘাড়ের পেশিগুলো অবশ হয়ে যাচ্ছে।
যদি আজকালের মধ্যে ট্রিটমেন্ট শুরু না করা যায়, তাহলে পারমানেন্টলি প্যারালাইজ হয়ে যাবে শরীর।

ওকে যে পাঁচটা ইঞ্জেকশন দেয়া লাগবে, ওগুলোর একেকটার দাম প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। পাঁচটার দাম প্রায় ৭ লক্ষ টাকা।

আমাদের হাতের একেকটা দিন এখন অমূল্য।
প্রতিদিন এই হিউজ পরিমানের টাকা সংগ্রহে কি আমরা আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টাটুকু করতে পারিনা???
বুয়েট কর্তৃপক্ষের সাথে কিছুক্ষণের মধ্যেই যোগাযোগ করা হবে ওর চিকিৎসার খরচ বহনে এগিয়ে আসার জন্য। আজকে দুপুরে ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়েছে। বিকালে আরো উঠবে। রাতে হয়তো হলগুলো থেকেও টাকা তোলা হবে।

যারা এই নোট পড়ছেন তাদের একটাই অনুরোধ করব, নিজ নিজ অবস্থান সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন, যতবেশি সম্ভব।


প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ টাকার অঙ্কটা শুনতে বেশ অবাস্তব শোনায়। কিন্তু -


"আমরা জানি, আমরা চাইলেই পারি।"



(লেখাটা ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১২তে ফেসবুকে নোট আকারে লেখা। মূল পোস্টটা দেখতে পাবেন এখানে -
নীল আকাশের জন্য ...by অন্যরকম ধ্রুব
আকাশের চিকিৎসা চলছে। সেটার বিস্তারিত বর্ণনা নিয়ে আরেকটা পোস্ট লিখছি। ফেসবুকে বা ব্লগে আজকে রাতেই হয়তো দিতে পারবো...
যাই হোক, সামহোয়্যারইনে "পরীক্ষামূলক সম্প্রচার" এর আওতায় পুরান লেখা প্রকাশ করলাম।)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ ভোর ৫:১৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি বড়দের গল্প - ছোটরাও পড়তে পারে

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

বিজ্ঞানীরা তিনটা আলাদা দ্বীপে দুইজন পুরুষ আর একজন মহিলা মানুষকে এক বছরের জন্য ফেলে রেখে এসেছে। একটা দ্বীপ ব্রিটিশদের, একটা ফ্রেঞ্চদের, আর শেষটা আমাদের বাংলাদেশীদের। এক বছর পর যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৈচিত্রে ভরা মহাবিশ্ব, তবে মানুষ কেন একই রকম হবে?

লিখেছেন মিশু মিলন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৩৯



এবার শেখরনগর কালীপূজার মেলায় গিয়ে সন্ধ্যার পর ভাগ্নি আর এক দাদার মেয়েকে বললাম, ‘চল, তোদের অন্য এক জীবন দেখাই।’
সরু গলি দিয়ে ওদেরকে নিয়ে গেলাম পিছনদিকে যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×