১লা মার্চের ভারত বনধ্ নিয়ে কথা হচ্ছিল। তো কাছের এক বন্ধু চিন্তিত মুখে জিজ্ঞাসা করল - "আমরা তো না হয় ওদের বর্জন করছি বুঝলাম। কিন্তু ভারত যদি আমাদের বর্জন করে বসে, তাহলে কী হবে? বর্ডার থেকে পিঁয়াজ, চিনি আর গরু সাপ্লাই বন্ধ হইলে তো আমাদের অবস্থা খবর আছে!"
আসলেই তো। এভাবে তো ভাবিনি!!!
তারপর একটু চিন্তা করে বললাম - 'শোন, চিনির বিষয়ে জানি। বাংলাদেশের সরকারি মিলগুলো তাহলে আবার বেঁচে উঠবে। কারণ প্রতিবছর সরকারি মিলে চিনি অবিক্রীত থাকে, নষ্ট হয়। কৃষক দাম পায়না আখের।
আর গরু যেমন আমাদের খাওয়ার জন্য দরকার, তেমন টাকার জন্য ওদেরও গরু বেচা দরকার। কারণ, ভারতের অনেক প্রদেশেই গরু বিক্রি নিষিদ্ধ। সেখানকার গরু মালিকরা দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশি ফড়িয়াদের কাছেই সেইসব গরু বিক্রি করে। আমরা না কিনলে তাদের গরু উঠানে শুকিয়ে মরবে, পরে চন্ডালে মরা গরু ভাগাড়ে ফেলে আসবে...
তবে পিঁয়াজের বিষয়টা নিশ্চিত না। কিন্তু চাইলে কি নিজেরা উৎপাদন করে কিংবা 'চা খেতে খেতে ল্যাংটা করে পিটায় না' এমন কোন দেশ থেকে আমদানি করে চাহিদা মেটানো যেতে পারেনা?!"
সত্যিই, ইন্ডিয়া নিজে কিন্তু বাংলাদেশের তেমন কোন পণ্য তাদের দেশে ঢুকতে দেয় না!!! নিজেদের উৎপাদকদের স্বার্থে বাংলাদেশের বহু মানসম্পন্ন প্রোডাক্টও তাদের কাস্টমসের আর স্ট্যান্ডার্ড ইন্সটিটিউটের বেড়া ডিঙিয়ে ভোক্তারর কাছে পৌছাতে দিচ্ছেনা। তাই পশ্চিমবঙ্গে কোন বাণিজ্যমেলা হলে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ানে বিস্কুট কেনার জন্যও ভিড় পড়ে যায়। আর আমরা কিনা এখন মানসম্পন্ন সিনেমার কথা বলে নিজেদের হলগুলো তুলে দিচ্ছি বি গ্রেড হিন্দি সিনেমাওয়ালাদের হাতে!!!
সারা পৃথিবী যখন 'মেড ইন বাংলাদেশ' ব্র্যান্ডের কাপড়ের পেছনে ছুটছে, তখন আমরা ইন্ডিয়ার কাপড়ের জন্য ল্যূলায়িত বোধ করি। ভারতীয় সাজপোশাক আর ফ্যাশন না মানলে আমাদের ঈদ-পূজার আনন্দ মাটি হয়ে যায়!!! !!! !!!
তবে এটা স্বীকার করতেই হবে যে আরো অনেক প্রোডাক্ট আছে যেগুলো কেবল ইন্ডিয়াই আমাদের সরবরাহ করে, অন্য কোথাও থেকে আমদানি করা আমাদের জন্য সম্ভব না। তবে এসব এক্সক্লুসিভ জিনিসের মধ্যে হিন্দি সিরিয়ালও অন্যতম!!!
সবশেষে দিলাম নদীমাতৃক বাংলাদেশের ভারতসৃষ্ট মরুকরণ সমস্যার যুগান্তকারী সমাধানসূচক অমর এক ল্যূলবানী (!!!) -
"আমার তো মনে হয় প্রতিরাতে হিন্দি সিরিয়াল দেইক্ষা বাঙালি যে পরিমান ল্যূল ফালায় সেইটা পদ্মায় রিডীরেক্ট করা গেলে নদীটা এম্নে শুকাই মরতো না!!!"
(বিশ শতকের শুরুতে স্বদেশী আন্দোলন যেমন ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিল, তেমন করে একুশ শতকের শুরুতেও আসুন একইভাবে রুখে দাঁড়াই ভারতের স্বেচ্ছাচারিতা ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে।)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১২ ভোর ৬:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


