"চৈত্রের রোদ মাথায় নিয়ে আর গা ভর্তি ধুলাবালি মেখে গত দুইটা দিন ছুটে বেড়াইসি আশুগঞ্জ উপজেলার এমাথা থেকে ওমাথা। লোকাল একটা অলিম্পিয়াড করার জন্য। প্রায় দশটার মতো স্কুলে ঢুঁ মারলাম অংশ নিতে বলার জন্য। ফাঁকে ফাঁকে চোখ বুলালাম চারপাশে, কথা বললাম সেখানকার টিচার আর স্টুডেন্টদের সাথে...
এই স্কুলগুলোতে গিয়ে আমার কেবল একটা কথাই মাথায় এসেছে - এই এতো শত সুবিধাবঞ্চিত বা স্বল্পসুবিধাপ্রাপ্ত (Underprivileged এর বাংলা কি?!) বাচ্চাগুলোর জন্য আমরা আসলে কি করেছি? কি করছি??
চারিদিকে মেধাবীদের জন্য কতশত আয়োজন দেখি। জিনিয়াসদের খুঁজে বের করার জন্য চলছে কত চেষ্টা...
কিন্তু এই 'মেধাহীন'দের জন্য আয়োজন কোথায়???
নাকি "এদের সেই মেধা নাই, তাই এরা কেবল পিছিয়েই পড়বে"???
পুরোটা সময় একটা কথাই বারবার মনের কোনে ঘুরপাক খেয়েছে -
May be they don't have that much quality, but they have the quantity. And this 'quantity of people' represents Bangladesh...
আর তাই যখন টিনশেড স্কুলের হেডমাস্টার বলে - আসলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এখনও কেবল 'এলিট'দের জন্যই; তখন স্তব্ধ হয়ে নিশ্চুপ মাথা ঝাঁকানো ছাড়া মুখে আর কোন কথা আসেনা...
তাই নতুন একটা কাজ করা শুরু করব ভাবছি - সময় পেলেই গ্রামের স্কুলগুলোতে গিয়ে পড়ানো শুরু করব। এবার কথা বলে এসেছি এরকম ক'টা স্কুলের সাথে। হয়তো খুব বেশি কিছু করতে পারবনা, তবে শ্রম দেয়ার প্রচেষ্টাটুকু তো অন্তত করতে পারব!
আর আমি জানি, আমার ফ্রেন্ডলিস্টে এরকম আরো অনেকেই আছেন যাদের এভাবে শ্রম দেয়ার মানসিকতাটা খুব ভালভাবেই আছে। আপনারাও এগিয়ে আসতে পারেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে।
আমরা চাইলে পাথরের বুকেও ফুল ফুটবে... ... ..."
(এটা আমার মার্চের ১৫ তারিখের ফেসবুক স্ট্যাটাস । এই স্ট্যাটাসে বেশ কয়েকজন সিনিয়র-জুনিয়র-ব্যাচমেট কমেন্ট করে, বলে তাদের সাথে কাজ করার জন্য। তাই এটা নিয়ে পরের দুইদিনে এক ফ্রেন্ড আর এক জুনিয়রের সাথে চ্যাট হচ্ছিল। পরে ভাবলাম চ্যাটের কথাগুলোই একটু গুছিয়ে নোট করে ফেলি। তাহলে সবাই আমাদের চিন্তাটা সম্পর্কেও জানতে পারবে, আবার চিন্তার ফাঁকফোঁকরগুলা বের করাও সহজ হবে!)
আমার মতে বাচ্চারা পড়ায় মজা না পাওয়ার মূল কারণ হল ওরা যা পড়ে তা ওরা 'দেখতে' পায়না
বইয়ের অক্ষরগুলা কেবল বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়
খুব ভাল কল্পনা শক্তি না থাকলে সেগুলা অনুভব করা যায়না
তাই আমি ভাবসি - আমরা বাচ্চাদের 'দেখতে' সাহায্য করব!
এখন এই 'দেখতে সাহায্য করা' দুই টাইপের হইতে পারে -
এক হইতে পারে আমরা ওদের কল্পনা করার আর্ট শেখাতে পারি
দুই হইতে পারে আমরা ওদের কল্পনাগুলার 'মডেল' তৈরি করে দেখাতে পারি
এক নাম্বারটা বেশ কঠিন কাজ, কল্পনা করতে শেখানো যা তা কথা না!
তবে দুই নাম্বারটা বেশ প্র্যাকটিক্যাল কাজ, তুলনামূলকভাবে সহজ!!
তাই আমরা বাচ্চাদের কল্পনার 'মডেল' তৈরি করে করে দেখতে শিখাতে পারি।
যেমন ধর - পৃথিবী
আমরা কিন্তু চাইলে কমদামি জিনিসপত্র দিয়েই বড়সড় একটা গ্লোব বানিয়ে ফেলতে পারি
সেখানে আমরা রঙ্গিন কাগজ কেটে কেটে মহাদেশগুলো চিহ্নিত করে দিতে পারি
আবার মনে কর মাটি দিয়ে আমরা মানচিত্রের মডেল বানাতে পারি
জাদুঘরে দেখেছ না? সেরকম মডেল
ওখানে আমরা মাটি উঁচুনিচু করে পাহাড় সমতল দেখাতে পারি
আবার নালা কেটে কেটে নদীগুলো দেখাতে পারি
ছোট ছোট বাঁশের কঞ্চি পুতে ফ্ল্যাগ লাগিয়ে বিভাগগুলো আলাদা করে দিতে পারি
এভাবে বইয়ের পাতায় পড়া জিনিসগুলা চোখের সামনে জলজ্যান্তভাবে ফুটে উঠলে আশা করি ওরা একটু হলেও মজা পাবে!
এখন ঘটনা হচ্ছে যে এইসব কাজ করার জন্য তো টিম লাগবে
তবে আমার মনে হয় টিম তৈরি করা যাবে
তাছাড়া স্কুলের বাচ্চারাও কিন্তু এই টিমগুলাতে থাকবে
কারণ ওদেরকে পাশে নিয়ে কাজগুলো করলেই কেবল ওদের আরো ভাল ধারণা আসবে কিভাবে 'কল্পনা' করতে হয়, 'কল্পনা' বাস্তবে রুপান্তর করতে হয়
যাই হোক, এজন্য আমাদের কয়েকজন মেন্টর লাগবে
মেন্টরের কাজ হবে স্কুলের টিম বানানো, তাদের তত্ত্বাবধান করা
আচ্ছা, আরো কয়েকটা আইডিয়া আসলো মাথায়
আমরা কিন্তু সৌরজগতের মডেলও তৈরি করে দিতে পারি
সেখানে দেখাতে পারি কিভাবে দিন রাত হয়, কিভাবে ঋতু পরিবর্তন হয়
আবার আমরা ওদের পরমানুর মডেল বানিয়ে দেখাতে পারি
তৈরি করে দেখাতে পারি প্রাণী কিংবা উদ্ভিদ কোষ
আমাদের আর্কিটেকচারের পোলাপানরা হেল্প করলে এইরকম স্ট্রাকচার বানানোর আরো আইডিয়া পাওয়া যাবে
আর একেকটা ক্লাসের বই নিয়ে বসলেই আসলে বোঝা যাবে কোন বইয়ের জন্য কি কি মডেল বানানো যায়
এখন সমস্যা হল - এতো শত মডেল যে বানাব, সেগুলা রাখবো কোথায়?!
এইতা আসলেই একটা সমস্যা
আমার মাথায় এখনও তেমন কোন সমাধান আসে নাই
তোমার কি কোন সাজেশান আছে?
আচ্ছা আচ্ছা
আরো একটা জিনিস মাথায় আসলো
আমাদের তো নিয়মিতই রঙ খেলি
আমরা কিন্তু ক্লাসরুম গুলাকে রঙ্গিন করতে পারি!
প্রথম কাজ হবে টিম মেম্বারদের নিয়ে ক্লাসগুলা পরিষ্কার করা!
(আমার অবশ্য ঘরদোর পরিষ্কার রাখার বাতিক আছে!
ঘরের ময়লা পরিষ্কারে হাত ময়লা করতে আমার বাঁধেনা)
তো যা বলছিলাম
ক্লাসরুমগুলাকে পরিষ্কার করা যায়
তারপর হাতুড়ি বাটাল নিয়ে বসে পেরেক ঠুকে ঠুকে ভাঙাচোরা চেয়ার টেবিল গুলা সারিয়ে তোলা যায়!!!
পুরাই মীনা কার্টুন মার্কা কাহিনী শোনাচ্ছে। তাইনা?
তবে আমরা চাইলে কিন্তু এই কাজ গুলা করা তেমন কোন ব্যাপার না!
যা বলছিলাম,
একেকজন মেন্টর মাসে দুইটা বিষ্যুদবার স্কুলে সময় দিলেই এনাফ
দুই জন মেন্টর তাহলে একটা স্কুলে মাসের চারটা সপ্তাহেই হাজির থাকতে পারবে
অবশ্য একটা স্কুল নিয়ে কাজ করার সময় আমরা সবাই সেখানে অংশ নিতে পারি
তাহলে খুব দ্রুত অনেক খানি কাজ আগিয়ে ফেলা যাবে
এইজন্য আমরা আরেকটা টিম বানাতে পারি
একটা অ্যাক্টিভ টিম
যাদের কাজ হবে মেন্টরদের হেল্প করা
মেন্টররা স্টেশনের দায়িত্বে থাকবে
অ্যাক্টিভরা ফ্লোটিং এজেন্টের কাজ করবে
যেখানে মেন্টরদের হ্যান্ডস লাগবে, সেখানে তারা গিয়ে হাজির হবে
তাহলে মেন্টররা নিজেদের মতো প্ল্যান সাজাতে পারবে
আর কাজ বেশি হলে অ্যাক্টিভ টিমের সাহায্যে অল্প সময়ে শেষ করে ফেলবে
এইতো... অনেকগুলা প্ল্যান করে ফেললাম!!!
কাজ শুরু করার জন্য তো এতেই হবে, নাকি???
(বেশ খানিকটা রিঅর্ডার করলাম চ্যাটহিস্ট্রিটাকে! আশা করি পড়ে অর্থ উদ্ধার করা যাবে...আর তোফাকে ধন্যবাদ, রাত বিরাতে ধৈর্য্য ধরে আমার বকবকানি শোনার জন্য!!!)
[মার্চের ১৮ তারিখে ফেসবুকে নোট আকারে লেখা] । ইতোমধ্যে আমরা ঘুরে এসেছি কুষ্টিয়ার মহেন্দ্রপুর থেকে। আর বর্তমান আপডেট নিয়ে লিখছি - "শিক্ষা - ০২', রাতের মধ্যে ব্লগে দিয়ে দিব...
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১০:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


