
আফগানিস্তানে ভূমিকম্প: অতীত থেকে বর্তমানের ভয়াবহতা
আফগানিস্তান এক পাহাড়ি দেশ, যেখানে ভূমিকম্প যেন নিয়তির অংশ। ভূতাত্ত্বিক অবস্থান এমন যে, প্রায়ই ভূমিকম্প হয়, আর দুর্বল কাঁচা ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর কারণে প্রাণহানি হয় ব্যাপক। নিচে আমরা সাম্প্রতিক ও অতীতের ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর ইতিহাস তুলে ধরলাম।
গতকালকের ভূমিকম্প (১ সেপ্টেম্বর ২০২৫)
অবস্থান: কুনার ও নঙ্গরহার প্রদেশ, পূর্ব আফগানিস্তান
মাত্রা: ৬.০
মৃত্যু: প্রায় ৮০০–৮১২ জন
আহত: প্রায় ২,৫০০–২,৮০০ জন
ক্ষতি: শত শত ঘরবাড়ি ধসে গেছে, বহু গ্রাম পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন। পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজে বিপর্যয় নেমে এসেছে।
বিস্তারিত পড়ুন: AP News, Washington Post
সাম্প্রতিক অতীতের বড় ভূমিকম্প
অক্টোবর ২০২৩ — হেরাত ভূমিকম্প
মাত্রা: ৬.৩ (একাধিকবার কম্পন)
মৃত্যু: প্রায় ১,৪৮২ জন
আহত: ২,০০০+
পুরো গ্রাম মাটির সাথে মিশে যায়।
মার্চ ২০২৩ — বাদাখশান ভূমিকম্প
মাত্রা: ৬.৫
মৃত্যু: ২১ জন
আহত: ৪০০+
জুন ২০২২ — পাক্তিকা ভূমিকম্প
মাত্রা: ৬.১
মৃত্যু: প্রায় ১,০০০ জন
আহত: ১,৬০০+
আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের ভয়াবহতম ভূমিকম্প।
অক্টোবর ২০১৫ — হিন্দুকুশ ভূমিকম্প
মাত্রা: ৭.৫
মৃত্যু: প্রায় ৪০০ জন
আফগানিস্তানসহ পার্শ্ববর্তী দেশেও ব্যাপক প্রাণহানি।
কেন এত মানুষ মারা যায়?
১. দুর্বল ঘরবাড়ি – কাঁচা মাটি ও ইটের বাড়ি সহজেই ধসে পড়ে।
২. দূরবর্তী গ্রাম – দুর্গম এলাকায় রেসকিউ টিম পৌঁছাতে দেরি হয়।
৩. চিকিৎসা সংকট – পর্যাপ্ত হাসপাতাল ও ওষুধের অভাবে আহতরা মারা যায়।
৪. দারিদ্র্য ও যুদ্ধ – নিরাপদ আশ্রয় ও অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ নেই
আফগানিস্তানের ভূমিকম্পের ইতিহাস এক ভয়ঙ্কর শিক্ষা বহন করে। প্রতিবারই শত শত কিংবা হাজারো প্রাণ ঝরে যায়, ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে, আর নতুন করে শুরু করতে হয় জীবনযুদ্ধ। আন্তর্জাতিক সহায়তা ও ভূমিকম্প প্রতিরোধী অবকাঠামো গড়ে তোলা ছাড়া এই দুঃখজনক চিত্র বদলানো সম্ভব নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





