somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে আমেরিকান কূটনীতিকদের প্রধান কাজ কী?

২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলাদেশে আমেরিকান দূতাবাসের এক বৈঠকের ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা যায়, আমেরিকা বাংলাদেশে একসময়ের নিষিদ্ধ জামাতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। সেখানে উল্লেখ আছে, সামনের নির্বাচনে জামাত ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ফল করতে পারে।

এই প্রশ্নটা দিয়েই শুরু করা যায় - বাংলাদেশে আমেরিকান কূটনীতিকদের প্রধান কাজটা কী?

এই প্রশ্নের উত্তরে আপনি হয়তো বড় বড় সব কথা নিয়ে আসবেন। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষা, ভূরাজনীতি, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের সঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্ত রাখা, রাজনৈতিক স্বার্থ দেখা ইত্যাদি। এই উত্তরগুলো পুরোপুরি ভুল নয়। কিন্তু এগুলোর মধ্যে আসল কাজটির কথাই বাদ পড়ে গেছে।

খুব সম্ভব, কৌশলগত বড় সিদ্ধান্তগুলো বাংলাদেশে বসে নেওয়া হয় না। সেগুলো ওয়াশিংটন বা আঞ্চলিক সদর দপ্তরের বিষয়। বাংলাদেশে যে ডিপ্লোম্যাটরা বসে আছেন, তাদের বাস্তব দায়িত্ব একটাই - বাংলাদেশে কার্যরত মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ সুরক্ষা করা। সোজা ভাষায় বললে, মাস শেষে মার্কিন কোম্পানিগুলো যে ইনভয়েস বা চালানগুলো দেয়, গ্রাহকরা সেটা ঠিকমতো পরিশোধ করছে কি না, সেটা দেখা তাদের কাজ। বাংলাদেশে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সবচেয়ে বড় গ্রাহক বাংলাদেশে সরকার নিজেই। আর এই পাওনা পরিশোধ হয় ডলারে। ফলে প্রথমেই আসে বৈদেশিক মুদ্রার প্রশ্ন। এখন ভেবে দেখুন কেন এই কূটনীতিক প্রথমেই রেমিট্যান্সের প্রসঙ্গটা তুললেন।

এরপর পরের প্রশ্ন: কোন রাজনৈতিক শক্তি সরকারে এলে দেনা-পাওনা নির্বিঘ্ন হয়? দুর্নীতির প্রশ্ন এখানে পুরোপুরি তাদের স্বার্থ কেন্দ্রিক, আমাদের নয়। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারা কি সময়মতো ডলারে বিল পরিশোধ করতে পারবে? কার সঙ্গে লেনদেনে সুবিধা হবে? যদি কোনো সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু পাওনা ঠিকঠাক দেয়, তাহলে ছাতা ধরা হবে সেদিকেই। গণতন্ত্র, শরিয়া, মানবাধিকার এসব কাজের কথার ফাকে ফাকে একটু সুন্দর প্রসঙ্গ মাত্র।

আপনি যদি কখনো কারও কাছে নিজের পাওনা টাকা চাইতে যান, তাহলে আগে খোঁজ নেন, পাওনাদারের সব খবব ভালো কি না। পরিবার, সন্তানেরা কেমন আছে - এটা দিয়েই কথাবার্তা শুরু হয়। এখানেও তেমনই। পার্থক্য শুধু এক জায়গায়: টাকা না পেলে আপনি হয়তো ভদ্র মানুষ হিসেবে চুপ করে যান, কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ।

তাদের এই চরিত্রটা নতুন নয়। মার্কিন নীতির এটা ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য। এর বীজ রয়েছে আমেরিকার ফাউন্ডিং ফাদারদের চিন্তার মধ্যেই। জেমস ম্যাডিসনের সেই বিখ্যাত ধারণা এখানে মনে রাখা দরকার: "সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো সম্পদশালী সংখ্যালঘুকে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের হাত থেকে রক্ষা করা।" এই দর্শন শুধু পররাষ্ট্র নীতিতে নয়, পুরো আমেরিকান রাষ্ট্রব্যবস্থার ভেতরেই প্রোথিত। শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র ছিল সীমাবদ্ধ গণতন্ত্র, যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত, যাতে তা কখনো ধনী বা কর্পোরেট শ্রেণির স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়। এই তত্ত্বই পরে আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্প্রসারিত হয়ে বাংলাদেশের মতো দেশে হাজির হয়েছে।

কিন্তু এই ভয়ঙ্কর লোভ ও স্বার্থসিদ্ধির বিষয়টা আমাদের মাথায়ই আসে না। আমরা গরিব বলেই আসেনা। গরিবেরা সচরাচর অমানবিক হয়না। মার্কিন ডিপ্লোম্যাটদের প্রধান কাজ যে আসলে নিজেদের দেশের কোম্পানিগুলোর পাওনা আদায় নিশ্চিত করা, এই কথাটা আমরা ভাবতেই পারি না।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০৫
৮টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৭৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩



শীত শেষ। ঢাকায় শীত শেষ।
এখন রাতে ফ্যান ছেড়ে ঘুমাতে হয়। গ্রামে শীত কেমন জানি না। তবে ঢাকায় শীত চলে গেছে। মাত্র কয়েকটা দিন শীত পেলাম। অবশ্য কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

=খালি হাতেi যেতে হবে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫


যতই করি বাহাদুরি
যেতে হবে খালি হাতে
রয়ে যাবে বিত্ত বৈভব
যাবে না তার কিছু সাথে।

হিংসা বিদ্বেষ আর অহংকার
মনে নিয়ে জীবন কাটাই
হায় বুঝি না আমরা ঘুড়ি
অন্য কেহ ধরছে নাটাই।

সুতাতে টান পড়বে যখন
সকল ছেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুজিব থেকে সজীব ........‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪৪



প্রায়ই অমুক তমুক অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ,হাভার্ডে পড়েছে বলে হাইপ তোলা হয় বাংলাদেশের রাজনীতিতে... ভাবখানা দেখানো হয় এমন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ কখনো আসেনি। অথচ বাংলাদেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪৪


বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ এবং সম্পৃক্ততা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ঘটে যাওয়া কূটনৈতিক বৈঠক এবং আলোচনাগুলো বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে আমেরিকান কূটনীতিকদের প্রধান কাজ কী?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত খবরের প্রেক্ষাপটে এই লেখা। ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একসময়ের নিষিদ্ধ জামাতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। সেখানে উল্লেখ আছে, আসন্ন নির্বাচনে দলটি ইতিহাসের সবচেয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×