somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১৭৮

২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শীত শেষ। ঢাকায় শীত শেষ।
এখন রাতে ফ্যান ছেড়ে ঘুমাতে হয়। গ্রামে শীত কেমন জানি না। তবে ঢাকায় শীত চলে গেছে। মাত্র কয়েকটা দিন শীত পেলাম। অবশ্য কিছু মানুষ বলছে, শীত আরেকবার আসবে, সবাইকে কাপিয়ে দিয়ে যাবে। ক্যালেন্ডারের হিসেবে আজ, বৃহস্পসতিবার ৮ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, শীত-কাল। সুরভি বলেছে, গুড়, নারকেল, চালের গুড়া আনো। পিঠা বানাবো। বাসার সবাইকে খাওয়াবো। আমি বলেছি, আমার কাছে টাকা নাই। সে অনলাইন থেকে কিনে নিয়েছে। এদিকে আমার ডায়বেটিস। মিষ্টি জাতীয় খাবার প্রায় ছেড়ে দিয়েছি। তবে আজ সকালে পুরান ঢাকা গিয়েছিলাম। এক হোটেলে হালুয়া দেখে লোভ হলো। হালুয়া দিয়ে তিনটে পরোটা খেয়ে ফেলেছি। অবশ্য বাইরে খাওয়া-দাওয়া করলে সুরভিকে বলি না। অযথা ঝামেলা করবে।

আজ সকালে আমি প্রার্থনা করেছি।
ভোরে ঘুম ভেঙ্গে গেছে। হাতে অনেক সময়। ছাদে গেলাম। আকাশ দেখলাম এবং মন ভরে প্রার্থনা করলাম। প্রার্থনায় বলেছি, আমাদের হাদি-মাদি দরকার নেই। দরকার নেই তৌহিদ জনতা। দরকার নেই ভন্ড ধার্মিক। আমাদের দরকার 'মানুষ'। মানবিক এবং বুদ্ধিমান 'মানুষ'। জামাত শিবিরের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করো। যে সমস্ত ছাত্ররা রাস্তা আটকে রাখে তাদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করো। প্রভু সকল দুষ্টলোকদের কাছ থেকে জাতিকে রক্ষা করো। প্রভু আমার প্রার্থনা কবুল করবেন না আমি জানি। আমি নামাজ পড়ি না, রোজা রাখি না। পরকালের কথা ভাবি না। ইহকালের নেশায় মেতে আছি। বরং হুজুরদের নিয়ে বাজে কথা বলি। মাদ্রাসা গুলোকে স্কুল করার কথা বলি। যেসব বাবা মা তাদের সন্তানকে মাদ্রাসায় দেয়, আমি তাদের বুঝাই মাদ্রাসায় না দেওয়ার জন্য।

জিনজিয়ান নামে এক রেস্টুরেন্টে খেতে গেলাম।
ফারাজা ভীষন খুশি। অন্যান্য খাবারের সাথে, কি মনে করে একটা মাছের অর্ডার দিলাম। আস্তো মাছ। মাছ দেখে আমি অবাক! সিদ্ধ করা মাছ। সমুদ্রের মাছ। নামটা ভুলে গেছি। মাছের উপর ধনেপাতার রস আর লেবুর রস দিয়ে ডুবিয়ে দিয়েছে। লোকটা হাসি মুখে এগিয়ে এসে বলল, স্যার আমি কেটে দিচ্ছি। লোকটা দারুন দক্ষতার সাথে মাছ কেটে কেটে আমাদে দিলো, সুরভিকে দিলো। ফারাজা আগেই বলে দিয়েছে সে মাছ খাবে না। আমি সামান্য মাছ মুখে দিলাম, এবং দ্বিতীয় বার আর মুখে দিতে ইচ্ছা করলো না। টাকা টা জলে গেলো। এরচেয়ে মাওয়াতে গিয়ে ইলিশ মাছ ভাজা খেলে আরাম পেতাম। খাওয়া শেষে লোকটা বলল, আমাদের খাবারের মান কেমন? বললাম, ভালো না। দশে আমি পাঁচের বেশি দিতে পারিব না।

আগামী মাসে ভোট হবে?
আমি কি ভোট দিতে যাবো? দিলে কাকে ভোট দিবো? আর 'হ্যা' ভোট, 'না' ভোট নিয়ে আমি চিন্তিত। কাকে ভোট দিলে জাতির উপকার হবে? কেউ কি আমাকে হ্যা ভোট, না ভোট বিষয়টা বুঝিয়ে বলবেন? ভোটের রায় কি সঠিক হবে? নাকি দূতাবাস রায় পরিবর্তন করে দিবে? দূতাবাস যদি ঠিক করে দেয় কে দেশ পরিচালনা করবে, তাহলে আর ভোটের দরকার কি? তবে অপয়া ইউনুস সরে যাক। তাতে জাতির উপকারই হবে। রাজনীতি নিয়ে আমি চিন্তা ভাবনা করি না। আমি চিন্তিত আমার পরিবার নিয়ে। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি ভালো না থাকলে আমি পরিবার নিয়ে ভালো থাকতে পারিব না। দেশে যদি শান্তি ফিরে না আসে তাহলে আমি পরিবার নিয়ে উন্নত কোনো দেশে চলে যাবো। এটা ফাইনাল। নিজ দেশ ছেড়ে ভালো থাকার জন্য, এখন আমাকে অন্য দেশে চলে যেতে হবে!

দুপুরবেলা এক রেস্টুরেন্টে খেতে বসেছি।
প্রথমে ভাত আর দুই পদের ভর্তা দিলো। জিজ্ঞেস করলাম ভর্তা কত করে? ওয়েটার হেসে বলল- ভর্তা ফ্রি। আমি শুধু ফ্রি ভর্তা দিয়েই ভাত খেয়ে নিলাম। ওয়েটার এসে জিজ্ঞেস করলো- মাছ দিবো না মাংস? আমি বললাম, ফ্রি ভর্তা দিয়েই আমার ভাত খাওয়া শেষ। ওয়েটার হা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ক্যাশে ২৫ টাকা শুধু ভাতের বিল দিয়ে দিলাম। মাত্র ২৫ টাকায় আমার দুপুরের খাওয়া শেষ। আমার মোবাই বাজছে। অন্য এক নাম্বার থেকে ফোন আসছে। তবে যে ফোন করেছে তার নাম সুলতানা। সুলতানা নামে আমি কাউকে চিনি না। ফোন ধরলাম, দেখি সুরভি! সুরভি বলল, এই শোনো আমার মোবাইল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। আমি বললাম, শুকুর আলহামদুলিল্লাহ। সুরভি বলল, আমার মোবাইল নষ্ট হয়ে গেছে, মনে হচ্ছে তুমি অনেক খুশি! হ্যা আমি খুশি।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩
১০টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×