পদ্মা নদীর তীর ধরে — একদিনের স্মৃতি
লেখক: বাজ ৩
একদিন আমি পদ্মা নদীর তীর ধরে হাঁটছিলাম। নদীর ঢেউ আমার মনে অদ্ভুত এক প্রশান্তি অনুভব করাচ্ছিল। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থেমে কিছু ছবি তুললাম, একটি ভিডিওও করলাম।
পদ্মা—বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও প্রধান নদী। একসময় এর স্রোত ছিল ভয়ংকর রকম শক্তিশালী, কিন্তু আজ তা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে, যেন মৃত্যুর দিকে ধাবমান এক প্রবহমান স্মৃতি।
পদ্মা নদী ভারতের গঙ্গা নদীর একটি শাখা। পদ্মার পাড় ঘিরেই বহু জেলের জীবন গড়ে উঠেছে; কেউ দিনভর, কেউ রাতভর নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরে, আর সে মাছ বিক্রি করেই তারা তাদের সংসার চালায়।
বাংলাদেশের মানুষের জীবনে পদ্মার প্রভাব গভীর—প্রতিবছর বন্যা আসে, আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়, আর সেই প্লাবনের সঙ্গে আসে উর্বর পলিমাটি, যা জমির শক্তিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
একসময় পদ্মায় ছিল বিপুল মাছের সমারোহ। কিন্তু আজ মাছ কমে এসেছে আশঙ্কাজনক হারে। এর পেছনে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ
১. নদী দূষণ
শিল্প-কারখানার বর্জ্য পদ্মার পানিকে প্রতিদিনই দূষিত করছে। পানিতে অক্সিজেন কমে যাওয়ায় সংবেদনশীল অনেক প্রজাতির মাছ আর টিকে থাকতে পারছে না। তারা সাগরের দিকে বা অন্যত্র সরে যাচ্ছে।
২. অতিরিক্ত মৎস্য শিকার
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে মাছের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।
৩. ডিম নষ্ট হওয়া ও প্রজননে ব্যাঘাত
দূষণের কারণে মাছের ডিম নষ্ট হয়, প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে বংশবৃদ্ধি স্বাভাবিক হারে হতে পারে না।
৪. রাক্ষুসে মাছের আধিক্য
খাদ্যের অভাবে বড় রাক্ষুসে মাছ ছোট মাছ খেয়ে ফেলে। এতে ছোট মাছ বড় হওয়ার সুযোগ পায় না, ফলে সামগ্রিক মাছের সংখ্যা হ্রাস পায়।
সবশেষে—
মাছে ভাতে বাঙালি—এই প্রবাদটিকে সত্য রাখতে হলে আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে নদীকে বাঁচানো, মাছকে নিরাপদ আবাস তৈরি করে দেওয়া।
দুঃখজনকভাবে আজ মানুষের মতো নদীর প্রাণীও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ—মানুষকে সঠিক পথে ফিরে আসতে হবে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।
লেখক : বাজ৩
১৫ নভেম্বর ২০২৫
রাত ১১:৪৭ মিনিট
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০২৫ রাত ১২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





